ভোক্তাদেরও সংযমী হতে হবে, হতে হবে ধৈর্যশীল

আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে চাহিদার অতিরিক্ত পণ্য ক্রয়

শুক্রবার , ২০ মার্চ, ২০২০ at ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ
58

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে অত্যধিক। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে, অনেকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে চাহিদার চেয়ে বেশি পণ্য কিনে নিচ্ছেন। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, করোনাভাইরাস আতঙ্কে গত কয়েক দিন ধরে বাজারে ক্রেতার চাপ বেড়ে গেছে। কেনাকাটার পরিমাণও দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। আগে যারা ১০ কেজি চাল কিনতেন এখন ২০ থেকে ৩০ কেজি কিনে নিচ্ছেন। ডাল নিচ্ছেন ৩-৪ কেজি। আটা, ময়দা ভোজ্যতেল, চিনি ইত্যাদি পণ্য কিনে মজুদ করছে ক্রেতারা। এ সুযোগে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বাড়িয়ে দিচ্ছেন নিত্যপণ্যের দাম, করছেন মজুদ। ইতোমধ্যেই সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা ধাক্কা লেগেছে। বলা হয়েছে, মানুষজন চালের ওপর বেশি হুমড়ি খেয়ে পড়েছে।
এদিকে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ব্যবসায়ীরা চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার। বাজারে চালের দাম বাড়ার খবরের মধ্যেই নিত্যপণ্য ‘যথেষ্ট মজুদ’ থাকার কথা জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। আর রাজধানীতে বাজার নজরদারিতে অভিযান শুরু করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মজুদকারীদের ধরতে বিশেষ অভিযানে নেমেছে এ অধিদপ্তর। রাজধানীর দশটি বাজারে সাতটি টিম পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে জরিমানার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সতর্ক করছে তারা। বলা হয়েছে, করোনা আতঙ্ককে পুঁজি করে অনেকে বাড়তি মুনাফার লোভে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়েছে। কোনো কোনো ক্রেতা বেশি করে পণ্য কিনছেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অভিযানে আমরা ক্রেতাদের এসব পণ্য বেশি করে কিনতে নিষেধ করেছি। কারণ দেশে এমন কোন অবস্থার সৃষ্টি হয়নি যে নিত্যপণ্যের মজুদ করতে হবে।
অপরদিকে আতঙ্কিত হয়ে নিত্যপণ্যের মজুদ না বাড়ানোর জন্য ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ নিত্যপণ্যের কোন সঙ্কট দেশে নেই। গত বছরের চেয়ে ৩০ ভাগ পণ্য বেশি আমদানি হয়েছে এবং দেশেও খাদ্যপণ্যের উৎপাদন সন্তোষজনক। তাই করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত হয়ে বাসাবাড়িতে পণ্যের মজুদ বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। সাংবাদিক সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আমদানি বেশি হয়েছে, তাই পণ্যের কোন সঙ্কট হবে না। করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ায় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে গেছেন। তারা হঠাৎ করে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য ক্রয় করছে। তাই গত দুই দিনে খুচরা বাজারে দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। গত দুই দিন এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অথচ পাইকারি বাজারে কোন পণ্যের দাম বাড়েনি। এছাড়া পণ্যের মজুদ-সরবরাহ কম নেই। ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত পণ্য কিনে অহেতুক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করবেন না। প্রত্যেকটি পণ্যের যথেষ্ট মজুদ আছে। জনগণ মনে করতে পারে সমস্যা হবে, কিন্তু আসলে কোন সমস্যা হবে না। কারণ করোনাভাইরাসের কারণে নিত্যপণ্য আমদানিতে কোন প্রভাব পড়েনি। কাজেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
বলা প্রয়োজন যে চলমান সংকট একক কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এই সমস্যা মোকাবেলা কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেককেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যাঁদের অনেক টাকা আছে, তাঁরা হয়তো নিজেদের ইচ্ছেমত পণ্য ক্রয় করে মজুদ বাড়াতে পারবেন; প্রয়োজনের অধিক পণ্য কিনতে পারবেন। কিন্তু এ সুযোগে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়ে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তার পরিণামে নিম্ন আয়ের মানুষের পরিবারে নেমে আসতে পারে দুর্ভোগ। অর্থনীতিবিশ্লেষকরা বলেন, ‘আতঙ্কজনিত ক্রয় বাড়তে থাকলে পণ্যের দাম যেমন বাড়বে, আবার সরবরাহ ঘাটতিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাহত হবে। সেক্ষেত্রে দিনে এনে দিনে খাওয়া কিংবা সঞ্চয় করতে না পারা মানুষের আর্থিক চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজন ও বিপদের সময় তাদের খাদ্যপণ্যপ্রাপ্তি সত্যিই কঠিন হয়ে উঠবে’। তাই ভোক্তা হিসেবে আমাদেরও সংযমী হতে হবে, হতে হবে ধৈর্যশীল।