ভেঙে গেল তানিয়ার স্বপ্ন

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ at ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
40

‘বড় হয়ে দূর করবে মায়ের কষ্ট। ফোটাবে বাবার মুখে হাসি।’ রিকশাচালক দুলাল মিয়া ও গৃহিণী রহিমা বেগমের বড় মেয়ে তানিয়া (১৩) তার বন্ধু-বান্ধব ও নিকটত্মীয়দের প্রায় বলতো এ কথা। বাবা-মায়ের অভাবের সংসারে সহযোগিতা করার জন্য করতে হবে ভাল চাকরি এবং সেজন্য দরকার পড়ালেখা।
তাই পড়ালেখায় ফাঁকি দিত না আগামী রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া পঞ্চম শ্রেণির এ পরীক্ষার্থী। কিন্তু নিয়তি পূরণ করতে দেয়নি অবুঝ শিশু তানিয়ার স্বপ্নগুলো। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে সীতাকুণ্ড থানার কালুশাহ মাজারের সামনে দ্রুতগতির একটা মাইক্রোবাস চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় তানিয়া। আকস্মিক এ মৃত্যু মা-বাবার মুখে হাসির বদলে তাদের বাকি জীবনকেই কান্নার সাগরেই যেন ভাসিয়ে দিল সে।
গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে দেখা গেছে, বুকফাটা আহাজারি করছেন নিহত তানিয়ার মা রহিমা বেগম ও বাবা দুলাল মিয়া। বড় বোনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ছোট বোন সানিয়া (৭)। আহত হয়েছে সেও। তানিয়ার পরিবারের লোকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, তানিয়ার বাবা দুলাল মিয়ার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার মোহাম্মদ নগর থানায়। কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন দুলাল মিয়াও। কয়েক মাস আগে চট্টগ্রাম শহরে এসে অটোরিকশা চালানো শুরু করে এবং বসবাস করতে শুরু করে কালু শাহ মাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে। তানিয়ারা গ্রামেই থাকতো। কথা ছিল পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা শেষ করে একেবারে চলে আসবে চট্টগ্রাম। এর আগে চট্টগ্রামের বাসা দেখার জন্য ১৫দিন আগে মায়ের সঙ্গে আসে। রোববার থেকে পরীক্ষা শুরু হবে তাই আজ বুধবার লক্ষ্মীপুর চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই একেবারে চলে গেল সে। নিহত তানিয়ার বাবা দুলাল মিয়া দৈনিক আজাদীকে বলেন, বিকেল তিনটার দিকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকার সময় একটি মাইক্রোবাস চাপা দেয়। এতে আমার মেয়েটা চলে গেল। একই ঘটনায় তানিয়ার বোন সানিয়ার কোমর ভেঙে গেছে এবং তার মায়ের পা ভেঙে গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলে পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই হামিদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, মাইক্রোবাস চাপায় গুরুতর আহত তানিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিসক মৃত ঘোষণা করেন।

x