ভুয়া পরোয়ানায় কৃষক গ্রেপ্তার পরে মুক্তি

চকরিয়া প্রতিনিধি

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ
13

চকরিয়ার দক্ষিণ কাকারার মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৫০) পেশায় একজন কৃষক। প্রান্তিক কৃষক ইব্রাহিম জীবনে কোনো দিন ঢাকা দেখেননি। কেনোদিন হাতে নেননি অস্ত্র। কিন্তু ভূমি বিরোধের কারণে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র মিরপুর থানার অস্ত্র মামলা উল্লেখ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নামে গায়েবি পরোয়ানা তৈরি করে। আদালতের সীল-স্বাক্ষর জাল করে সেই পরোয়ানা ডাকযোগে প্রেরণ করা হয় কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে।
পুলিশ জানায়, নিয়মানুযায়ী এ পরোয়ানা হাতে পেয়ে চকরিয়া থানার পুলিশ ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে সোপর্দ করার মুহূর্তে থানার ওসি পরোয়ানার মূল কপি (জাল) যাচাই করার সময় সন্দেহ হলে যোগাযোগ করেন মিরপুর থানায়। এরপর সংশ্লিষ্ট আদালতের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন এ ধরনের কোনো পরোয়ানা ইস্যু করা হয়নি। ওসির বিচক্ষণতায় হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পেলেন ইব্রাহিম।
ইব্রাহিম জানায়, তাঁর বাড়ি চকরিয়ায় হলেও নিজের নামে আলীকদম আমতলীর চর এলাকায় বেশকিছু জায়গা রয়েছে। কিন্তু এসব ভূমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে প্রতারক ওসমানের সঙ্গে। এ কারণে ওসমান তাকে বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। সর্বশেষ মিরপুর থানার গায়েবি অস্ত্র মামলায় ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করে পুলিশের কাছে প্রেরণ করে কৌশলে।
কাকারার চেয়ারম্যান মো. শওকত ওসমান বলেন, ইব্রাহিমের নামে মিরপুর থানার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি জানার পর ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করে বলি, কোথাও ভুল হচ্ছে। এই কৃষক কোনোদিন ঢাকায় যাননি।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কৃষক ইব্রাহিম জীবনে কোনদিন ঢাকায় যাননি, একথা স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে শোনার পর তথ্য অনুসন্ধান করি। নিশ্চিত হই পরোয়ানাটি ভুয়া।
এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক জিডি মূলে ইব্রাহিমকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওসমান নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

x