ভিভিয়েনের গল্প

ফেরদৌস আরা আলীম

শনিবার , ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ
9

আসি-আসছি করে বুলবুল এল, যাই-যাচ্ছি করে চলেও গেল। আমাদের উপকূলীয় এলাকায়, জেলায়-জেলায় ক্ষতি যা হবার তা তো হলো। নিরাপদ দূরত্বে বসে মেঘলা আকাশের ছায়াচ্ছন্নতায় আর ঝিরিঝিরি বৃষ্টির বিষণ্নতায় যখন ডুবে আছি তখনই খবর এল নবীনতা দেবসেন আর নেই। অপার প্রাণশক্তি, উদার প্রসন্নতা ও অফুরান সৃজনশীল এক জীবনে জীবনের কত বাঁক ঘুরেছেন, কত ঘাট ছুঁয়েছেন তার হিসেব নেই। এ এক মহাজীবন অল্প কথায় যাকে জড়িয়ে ধরা সহজ নয়। তাঁকে নিয়েই পড়ে থাকি কয়েকটা দিন, এমন যখন ভাবছি তখনই এক ছুটে সৈকত এসে দিয়ে গেল গাদাগুচ্ছের বই, মন ভালো করার রসদ। মন কাড়লেন চিন্ময় গুহ। ঠিক তিনি নন, তাঁর ‘চিলেকোঠার উন্মাদিনী’; অনেক দিনের চেনা ভিভিয়েন। অনেক দুঃখ দিনের সঙ্গী। আজ তাঁর গল্প হোক। চিন্ময় গুহের কাছে গলা ডোবানো ঋণ স্বীকার করে শুরু করি তবে।
দ্য ওয়েস্টল্যান্ডের কবি, ইংরেজি কবিতার খোল নলচে পাল্টে দেওয়া এলিয়টকে চেনেন না কে? ১৯১৪ সালের এক গ্রীষ্মে ম্যাসাচুসেট থেকে হামবুর্গ হয়ে তরুণ এলিয়েট পৌঁছেছিলেন ইংল্যান্ডে। পরের বছর মার্চে মার্কিন বন্ধু স্কোফল্ড থেয়ারের সঙ্গে গেলেন এক নৌবিহারে। সঙ্গে স্কোফল্ডের বোন লুসি ও প্রাণোচ্ছল ইংরেজ তরুণী ভিভিয়েন হে-উড যাঁর গল্প শুনবো আমরা। কিন্তু বহুদিন পরে এসে লিনডাল গর্ডনের এ তথ্য খারিজ করে দিয়েছেন ভিভিয়েনের জীবনীকার। তাঁর হিসেবে এঁদের দেখা হয়েছিল এক নাচের আসরে। দু’জনেই তখন ২৬; ভিভিয়েন কয়েক মাসের বড়।
ভিভিয়েনের অনেক গুণ। বাবার মতো আঁকিয়ে ছিলেন তিনি। ব্যালে জানতেন। শিল্প সাহিত্যের অনুরাগী ছিলেন, খবরও রাখতেন। পরে নিজেও গল্প-কবিতা লিখেছেন। আর দিনপঞ্জি? চিঠিপত্র? সেসব নিয়তির মতো চেপে বসেছিল তার উপর। সে অন্য ভিভিয়নের গল্প যাকে না পেলে তাঁর ভালোবাসার রং কেমন, তাঁর গভীরতা কত কিছুই জানা হতো না আমাদের। আমরা বরং এলিয়টের সঙ্গে যে ভিভিয়েনের প্রথম দেখা হচ্ছে তার কাছে যাই। চটকদার পোশাকের জেল্লায়, কথার ফুলঝুরিতে, সার্বক্ষণিক সিগ্রেটে, পরিবেশ মাতিয়ে তোলা উজ্জ্বল উচ্ছল ভিভিয়েনের স্বভাবটি ছিল মুখচোরা, লাজুক এলিয়টের সম্পূর্ণ বিপরীত। এক স্কুল শিক্ষকের সঙ্গে সদ্য ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের ক্ষত সারাতেই তিনি মাত্রাতিরিক্ত উচ্ছলতায় নিজেকে লুকোচ্ছিলেন কিনা কে জানে। তবে ভালো না লাগলে বাখ সেজানকেও ভালো বলার পাত্রী যে তিনি নন, সেটা তাঁর চরিত্রের অন্যতম দিক ছিল। এটা স্পষ্ট যে মিতভাষী, পরিচ্ছন্ন কাটা-কাটা মুখাবয়ব, শ্যেনদৃষ্টি, গভীর কণ্ঠস্বরের এলিয়ট তাঁর ভেঙে যাওয়া প্রেমের দুঃখ ভুলিয়ে দিতে পেরেছিল। অচিরেই মধ্যাহ্নভোজনে মুখোমুখি হন দু’জনে এবং তিন মাসের মধ্যে বিয়ে। দর্শন ও কাব্যের বিমূর্ত ভুবনে অসহায় ডুবন্ত এলিয়ট ভেবেছিলেন এই নারীই তাঁকে প্রাণে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। এই তাকে দাঁড় করিয়ে দেবে বাস্তবের তীরে। কিন্তু বাস্তব যে কত কঠিন, কতটা রূঢ় তা বুঝতে সময় লাগেনি তাঁর। বাবা-মার অনুমোদনহীন বিয়ে, আর্থিক সঙ্কট, সর্বোপরি যৌথ জীবনের ব্যর্থতা। ততদিনে কেটে গেছে জীবনের সতেরটি বছর। এলিয়টের কবি জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল সময়টাতে ভিভিয়েনই ছিলেন একমাত্র সঙ্গী, সখী। কিন্তু হায়, চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়। কী যে হলো ভিভের। ক্রমশ অসুস্থ হয়ে উঠলেন তিনি। যেন অতৃপ্ত, হিংস্র কোনও প্রেতাত্মা ভর করেছে তাঁর ওপর। ১৭ বছরের সঙ্গী তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন। তার আগে অবশ্য এলিয়ট ‘অ্যাশ ওয়েডনেসডে’ লিখলেন এবং স্ত্রীকে উৎসর্গ করলেন সে কবিতা। অতঃপর আট মাসের সফরে বেরুলেন। ফ্রান্সের পথে ওয়াটারলু স্টেশনে নিজেই তাঁকে ছেড়ে এলেন ভিভিয়েন। ৬৮, ক্ল্যারেন্স গেট গার্ডেনসের বাড়িতে টম যে আর কোনোদিন ফিরবেন না ভিভ তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেন নি। তাঁর ওপর দিয়ে বয়ে যেতে থাকে নিন্দামন্দের ঝড়। সকলের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে জর্জরিত হতে থাকেন তিনি। দেহে মনে অসুস্থ এক ডাকিনীর পাল্লায় পড়ে টমের জীবনটা শেষ- এমন ভাষ্যের যোগানদার স্বয়ং নারীবাদী লেখক ভার্জিনিয়া উলফ। বার্ট্রান্ড রাসেল ভুলেই গেলেন যে ছাত্রের দাম্পত্য সমস্যা মেটাতে গিয়ে স্বয়ং তিনি ভিভিয়েনকে তাঁর শিকারে পরিণত করেছিলেন। অলডাস হাক্সলিও এঁদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন। এলিয়টের প্রতি এঁদের সহানুভূতির অন্ত ছিল না। নিজের ভাইটিও ছিলেন ওদেরই দলে। ভিভিয়েন তখন সবার চোখে দ্বিতীয় জেলটা ফিটজেরাল্ড। (আরেক বিখ্যাত ব্যক্তির অস্বাভাবিক স্ত্রী)।
দিনে দিনে এলিয়টের বিশাল একলা বাড়ির স্মৃতিসমুদ্রে একাকী ডুবে যেতে থাকেন ভিভিয়েন। স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাঁর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তাঁর চিঠির উত্তর আসে না। পত্রিকায় (দ্য টাইমস্‌) তার ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন (এলিয়ট একটিবার তাঁর ঘরে ফিরে আসুন) ছাপা হয় না। প্রকাশ্য সভায় এলিয়ট তাঁকে চেনেন না। প্রায় ছ’বছর বাদে (১৯৩৮, ১৪ জুলাই) ভাই মরিস এলিয়টকে জানান যে তাঁর উদ্ভ্রান্ত বোনটিকে রাস্তায় ঘুরতে দেখে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। ক’দিন পরে লন্ডনের এক মনোরোগ সেবাশ্রমে তাঁকে ভর্তি করে দেওয়া হয়। এলিয়ট ছিলেন সেখানে কিন্তু চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর তিনি করেন নি। অতঃপর আর কোনোদিন স্ত্রীকে দেখতেও যাননি। ১৯৪৭ এ ভিভিয়েনের আকস্মিক মৃত্যুর (পরবর্তীকালে জীবনীকার বলেছেন আত্মহনন) খবর পেয়ে ‘ফোর কোয়ার্টেটসে’র কবি কিন্তু যথেষ্ট বিচলিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কিছুই যায় আসেনি। অখ্যাত এক সমাধিক্ষেত্রে সমাধিফলকে ভুল মৃত্যুদিবস নিয়ে স্বামীর নামের চিহ্নবিহীন ভিভিয়েন সমাহিত হলেন। তাঁর আর জেগে ওঠার কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু মৃত্যুর ৫৪ বছর পরে ২০০১ এ বেরুনো তাঁর জীবনীগ্রন্থ নতুন করে তোলপাড় তোলে। সুদীর্ঘ ৮০ বছরের শান বাঁধানো ধ্যান-ধারণায় ফাটল ধরালো ক্যারল সেমুর জোনস লিখিত ভিভিয়েনের জীবনীগ্রন্থ, ‘দ্য পেইন্টেড শ্যাডো’ প্রশ্ন তুললো, ভিভিয়েন কি তবে স্বামীর অবিচারের শিকার? ওদের ব্যর্থ দাম্পত্যের কারণ কি এলিয়টের শারীরিক অক্ষমতা না কি ভিভিয়েনের স্নায়বিক ও মানবিক অস্থিরতা? জীবনীগ্রন্থ রচনার তোড়জোড়টা শুরু হলো কেন বা কিভাবে? মরিস হে উডের (ভিভিয়েনের ভাই এবং এলিয়েটের বন্ধু) অন্তিম স্বীকারোক্তি, ১৯৮০ সালে মৃত্যুর আগে প্রদত্ত অন্তিম স্বীকারোক্তিই রয়েছে ওই জীবনীগ্রন্থের মূলে। মরিস বলেছেন, শেষবার অ্যাসাইলামে বোনকে দেখার পর থেকে অনুতাপের আগুনে জ্বলছেন তিনি। বলেছেন, টমের সঙ্গে মিলে ও যা-যা করতে বলেছে সব করে মস্ত বড় ভুল করেছিলাম আমি। এ জীবনীগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রেরণাটি এসেছে এলিয়ট পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু লেডি অটোলিন মোরেলকে লেখা ভিভিয়ানের চিঠি। ভিভিয়েন লিখেছেন, একদিন সত্য প্রকাশিত হবেই। আমাদের জীবদ্দশায় না হোক, পরে…।
ভিভিয়েনের এই জীবনীতে এলিয়টের সমকামিতার কথা প্রথম চাউর হলো। রাসেল, টম ও ভিভিয়েনের অস্বস্তিকর ত্রিকোণ সম্পর্কের উপর এই প্রথমবারের মতো আলো পড়লো। তাতে গূঢ়তম যে বিষয়টি জানা গেল তা হচ্ছে টম ভিভকে শুধু সহ্য করেন নি, টোপ হিসেবে ব্যবহারও করেছেন। কারণ অর্থ সঙ্কট ছিল তাঁর। রহস্যজনকভাবে ভিভিয়েনের বহু চিঠিপত্র এবং ‘অ্যাশ ওয়েডনেস ডে’র উৎসর্গপত্র হারিয়ে যাওয়ার কথা এসেছে। এও জানা গেল অক্সফোর্ডের বোডলেয়ান গ্রন্থাগারে ভিভিয়েনের ডায়েরিগুলোর যৎসামান্যই জমা পড়েছে। ভাই মরিস সব জমা দেননি। একটি গ্যারেজে আগুন লেগে অধিকাংশ পুড়ে যাবার কথা বলেছেন।
এলিয়ট চলে যাবার ৩ বছর পরে ভিভ দিনপঞ্জিতে লিখেছেন; এ রক্ত শুকোবার নয়, এ ধারা বন্ধ হবারও নয়। লিখেছেন সে ‘মুন-চাইল্ড’ এর কথা একদিন আমেরিকার ‘মরুতে ফিরে না গিয়ে যে ইংল্যান্ডে থেকে গিয়েছিল শুধু তার জন্য।’
অক্সফোর্ডের এ গ্রন্থাগারে গোলাপ বাগানের যে দরোজা এলিয়ট খুঁজেছেন সারা জীবন কিন্তু পান নি ভিভের জীবনের খোঁজে এসে সেমুর সে দরোজার খোঁজ পেয়েছেন। ১৯৩৪ থেকে দিনপঞ্জিতে আবার অক্ষর বোনার পালা শুরু। চিঠির পরে চিঠি লিখেছেন ভিভিয়েন। ফোনের পর ফোন। বলা হয়েছে তিনি নেই। দেখা করার জন্য মরিয়া হয়ে ধর্ণা দিয়েছেন। হয় নেই, নয় মিটিং এ ব্যস্ত। শেষে হয় নেই, চলে গেছেন নয়তো দেখা হবে না। চিঠিতে কত অনুনয়, অমুক জায়গায় ওই সময়ে একটু দেখা হোক। হয়নি। স্বামীর নাটকের অভিনয় দেখে ভিভ ধরে নিয়েছেন স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া এ তার জন্মদিনের উপহার। টমের জন্মদিন তিনি ভোলেন নি। চিঠিতে শুভেচ্ছার সঙ্গে পাউন্ড পাঠাবার পাগলামিও করেছেন। স্বামী সম্পর্কে যে কোনো ধরনের কটুক্তির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন, সাবধান করে দিয়েছেন বান্ধবীকেও। এলিয়ট সম্পাদিত হারিয়ে যাওয়া ‘দ্য ক্রাইটেরিয়ন’ পত্রিকার সেট হন্যে হয়ে খুঁজছেন কারণ ওগুলোতে তাঁর স্বামীর স্বাক্ষর ছিল। টমকে হারাবার যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা কতবার কতভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলেছেন, লিখেছেন। সেজন্যেই কি রিভার-গার্ল নাম পেয়েছিলেন? ও কেন জলের মতো ঘুরে ঘুরে….।
লিখেছেন ভিভিয়েন, কি হয়েছে তোমার, লোকে কী ভাবছে। তুমি তো এমন কোনো অপরাধ করোনি…নিজেকে কেন এভাবে লুকিয়ে রেখেছো, এলিয়ট বংশ পদবীতে কলঙ্কের দাগ পড়ছে, তুমি কি লজ্জা পাচ্ছো না? ফিরো এসো, ফিরো এসো তোমার সব শান্তি আর নিরাপত্তার কাছে। শেষ পর্যন্ত জনৈক ডা. মুরের শরণাপন্ন হলেন। দু’বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি, সব চ্যানেলে ব্যর্থ হয়েছি আপনি কি এই চিঠিগুলো তাঁকে পৌঁছে দিতে পারেন? প্রত্যাখ্যাত হলেন সরাসরি। এবার রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠালেন। ভাইকে প্রচণ্ড ভর্ৎসনা করেছেন বন্ধুর সঙ্গে দেখা না করার জন্যে। বলেছেন, একি বর্বরোচিত ব্যবহার, সভ্যতা কি মরে গেছে? স্বামীর জন্মদিনে শুভেচ্ছাবাণীতে বলেছেন, আই উইশ ইউ এভরি গুড থিং, ইন দিস লাইফ অ্যান্ড ফর অল ইন্টারনিটি।
এলিয়ট ভাবনায় নিশিদিন নিমজ্জিত ভিভিয়েনের একাকীত্বকে ভয়াবহ করে তোলার জন্য আসবাবপত্র, বইপত্তর এবং প্রচুর আরশোলাসহ ক্রমে অন্ধকারে ডুবে যাওয়া বাড়িটাই যথেষ্ট ছিল। উপরন্তু স্নায়বিক বিপর্যয় তাঁকে অতল খাদের কিনারে দাঁড় করিয়ে দেয়। এরই মধ্যে মনগড়া কত তথ্যের সমাবেশে কত যে চিঠিপত্র, প্রাত্যহিক খরচাপাতির হিসেব, পিয়ানো বিক্রির কাহিনী লিখে গেছেন পাতার পর পাতা। লিখেছেন গল্প। বিরাট, বিষণ্ন বাড়িতে এক যন্ত্রণাবিধুর দম্পতির গল্প।
লিখেছেন কখনও কলমে, পেন্সিলে কখনও। কোনো গল্পে ধরতে চেয়েছেন বার্নার্ড শ’র হাত। কখনও বিখ্যাত জনদের নামের তালিকা। কেবল মরিস ছদ্মনামে তাঁর একটি গল্পের শেষে নীল জলে বিম্বিত আকাশ আকস্মিক মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। অনাকাঙ্ক্ষিত অপছন্দের বৃষ্টি তোমাকে ঘরে ফেরায়। তারপর সূর্যটা হেসে ওঠে, উষ্ণতায় জড়িয়ে ধরে তোমাকে। তুমি হাসলে, ছড়িটা ঘোরালে, কুকুরটাকে ডাকলে এবং সমুদ্রের দিকে চলে গেলে। (লেটারস অব দ্য মোমেন্টস) ‘দ্য প্যারালাইজ্‌ড্‌ উয়োম্যান’ গল্পের শক্তিশালী গদ্যের নমুনা দিয়েছেন চিন্ময় গুহ। বলেছেন শুধু দিনপঞ্জিতে পাতায় পাতায় একটি আর্তির কথা: রোজ-পিঙ্ক, পিঙ্ক-রোজ, ব্রিঙ মি এ হ্যাপি ডে। (এর কোনো অনুবাদ হয়?) ১৯৪৭ সালে ৫৮ বছর বয়সে ভিভিয়েনের মৃত্যু হয়। তাঁকে সমাধিস্থ করার সময় এলিয়ট উপস্থিত ছিলেন। ভিভিয়েনের নিমীলিত তৃষ্ণাতুর পাখির মতো চোখদুটো কি তাঁকে দেখতে পেয়েছিল?

x