ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন

ডা. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী

শনিবার , ২৬ অক্টোবর, ২০১৯ at ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ
146

সুস্থ থাকতে কে না চায় কিন্তু সুস্থ থাকার জন্য যে নিয়মকানুনগুলো মেনে চলা উচিত তা আমাদের অনেকেই মেনে চলি না বা চলতে পারি না। আমাদের জীবনযাত্রার কারণে অনেক সময়ই এ নিয়মগুলো মেনে চলা সম্ভব হয় না। অথচ সুস্থ থাকার জন্য এ নিয়মগুলো খুবই জরুরি। আর সুস্থ দেহ মানেই সুস্থ ও সুন্দর মন এবং আনন্দময় জীবন। তাই আসুন সুস্থ থাকার কিছু নিয়ম জেনে রাখা যাক। এগুলো মেনে চলা গেলে সুস্থ থাকা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে আমাদের জন্য।
১. পুষ্টিকর খাবার, ভালো খাবার : পুষ্টি ছাড়া স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব নয় আর পুষ্টি লাভ করার জন্য স্বাস্থ্যকর, সুষম খাবার অবশ্যই প্রয়োজন। আপনার খাদ্য তালিকার মধ্যে লবণ, চর্বি ও শর্করাযুক্ত খাবার রাখুন তবে লক্ষ্য রাখবেন যেন তা অতিরিক্ত না হয়। এই তালিকার মধ্যে যেন ফলমূল ও শাকসবজিও থাকে আর খাবারে বৈচিত্র্য থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। পাউরুটি, সিরিয়াল অথবা চাল কেনার সময় ভুসিযুক্ত খাবার বেছে নিতে পারেন। ভুসি ছাড়ানো শস্য থেকে তৈরি খাবারের বিপরীতে এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি ও ফাইবার থাকে। প্রোটিন পাওয়ার জন্য অল্প পরিমাণ এবং কম চর্বিযুক্ত মাংস খান আর সপ্তাহে অন্ততপক্ষে কয়েকবার মাছ খেতে চেষ্টা করবেন। আপনি যদি শর্করা-জাতীয় খাবার এবং প্রচুর চর্বি রয়েছে এমন খাবার খুব বেশি খান, তা হলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। এই ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে শর্করা রয়েছে এমন পানীয়ের পরিবর্তে পানি খান। শর্করা-জাতীয় ডেজার্টের পরিবর্তে বেশি করে ফলমূল খান। প্রচুর চর্বি রয়েছে এমন খাবার যেমন: সসেজ, মাংস, মাখন, কেক, চিজ ও কুকিজ কম খাবেন। আর রান্নার জন্য মাখন অথবা ঘি ব্যবহার করার পরিবর্তে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এমন তেল ব্যবহার করুন।
২. শারীরিক পরিশ্রম করুন : আপনার বয়স যেমনই হোক না কেন সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিতভাবে শারীরিক পরিশ্রম করা খুবই প্রয়োজন। কোন ধরনের শরীরচর্চা আপনার জন্য উপযুক্ত সেটা আপনার বয়স এবং স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতে, ছোট ছেলেমেয়ে এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রতিদিন কমপক্ষে এক ঘণ্টা হালকা থেকে শুরু করে ভারী ব্যায়াম করা উচিত। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি সপ্তাহে আড়াই ঘণ্টা হালকা ব্যায়াম অথবা ৭৫ মিনিট ভারী ব্যায়াম করা উচিত। আপনি করে আনন্দ পান অর্থাৎ উপভোগ করেন এমন বিষয় বেছে নিন। আপনি বাস্কেটবল, টেনিস ও ফুটবল খেলা, জোরে হাঁটা, সাইকেল চালানো, বাগান করা, সাঁতার কাটা, নৌকা চালানো, জগিং করা ইত্যাদি শারীরিক পরিশ্রম করতে পারেন।
৩. বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করুন : পানির অপর নাম জীবন একথা আমাদের সবার জানা। পানির উৎস যদি নিরাপদ না হয় এবং পানি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে রাখা না হয় তাহলে এতে রোগজীবাণু জন্মাতে পারে ও সেইসঙ্গে কলেরা, প্রাণনাশক ডায়রিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগ হতে পারে। সহজেই অসুস্থ না হওয়ার অথবা অসুস্থতা রোধ করার জন্য দূষিত পানি থেকে দূরে থাকতে হবে। লক্ষ্য রাখবেন যাতে পানীয় জল ও সেইসঙ্গে দাঁত ব্রাশ করার, খাবার ও বাসনপত্র ধোয়ার অথবা রান্না করার পানি নিরাপদ উৎস থেকে নেয়া হয়। কোনোভাবে যদি সেই পানি দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সেই পানি ব্যবহার করার আগে ফুটিয়ে নিন অথবা উপযুক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে পরিশোধন করে নিন।

লেখক : মেডিকেল ইমেজিং বিশেষজ্ঞ, পার্কভিউ হসপিটাল লিমিটেড।

x