ভারতের নামের পাশে এখন ‘চোকার’ তকমা

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ৮:২০ পূর্বাহ্ণ
78

বিশ্বকাপের মত মেগা আসরের বড় দল দক্ষিণ আফ্রিকা। বরাবরই শক্তিশালী দল নিয়ে ফেভারিট হিসেবে বিশ্বকাপের মত আসরে খেলতে আসে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু প্রোটিয়াসরা মেগা ইভেন্টে বারবারই তীরে গিয়ে তরী ডুবিয়ে বিদায় নেয় খালি হাতে। তাও আবার সেমিফাইনাল কিংবা কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে বিদায়টা হয় প্রোটিয়াসদের। ফলে তাদের নামটিও হয়ে যায় ‘চোকার’। এই বিশ্বকাপের প্রথম সেমি ফাইনালের পর দক্ষিণ আফ্রিকার সেই চোকার খেতাবটি দেওয়া যায় ভারতকে। আবারো মেগা ইভেন্টের নকআউট পর্বে বিদায় নিয়েছে ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ রানে হেরে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গেছে টিম ইন্ডিয়া। আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টই যেন এখন অপয়া হয়ে গেছে ভারতের কাছে। ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর কোনো টুর্নামেন্টেই শিরোপা জিততে পারেনি তারা। ২০১৪ সাল থেকে নকআউটের জুজু যেন তাড়া করছে ভারতকে। পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেললেও নকআউট পর্বে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছে দলটি। গত বিশ্বকাপের মতো এই বিশ্বকাপ থেকেও টিম ইন্ডিয়া ছিটকে গেল সেমি ফাইনাল থেকে। ২০১৪ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে। বাংলাদেশে আয়োজিত সেবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল লাসিথ মালিঙ্গার শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১৩০ রানে আটকে যায় ভারতের ইনিংস। সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের ব্যাটে খুব সহজেই জয় তুলে নেয় লঙ্কানরা। এরপর আইসিসির মেগা ইভেন্টে ভারত খেলতে নামে ২০১৫ বিশ্বকাপে। সেমি ফাইনালের আগেও ভারত ছিল দুর্দান্ত। কেউ কেউ ধোনি-কোহলিদের হাতে তৃতীয় শিরোপাও দেখে ফেলেছিল। গ্রুপ পর্বে অপ্রতিরোধ্য ভারত সব ম্যাচেই জয় পেয়েছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে পড়তে হয়েছিল ভারতকে। সেমি ফাইনালে স্টিভ স্মিথের সেঞ্চুরিতে ৩২৮ রানের বড় টার্গেট দেয় অস্ট্রেলিয়া। ভারত ২৩৩ রানে গুটিয়ে গেলে অস্ট্রেলিয়া ৯৫ রানের জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে। আর বিদায় নিতে হয় মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারতকে। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবার নিজেরাই আয়োজক। স্বাগতিক ভারত খেলছিলও বেশ দারুণ। ঠিক তার আগেই বাংলাদেশে আয়োজিত এশিয়া কাপে স্বাগতিকদের হারিয়ে শিরোপা জিতে দেশে ফিরেছিল ধোনির দল । তবে শেষ রক্ষা হয়নি নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এই মেগা ইভেন্টের সেমি ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্বাগতিক ভারত প্রথমে ব্যাট করে তোলে ১৯২ রান। জবাবে ২ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয়ানরা। নিজেদের মাটিতেই সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় ভারতকে। ২০১৭ সালে আইসিসির আরেকটি মেগা ইভেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর বসে ইংল্যান্ডে। ফাইনালের আগে দুর্দান্ত ছিল টিম ইন্ডিয়া। সেবারও ভারতের হাতে শিরোপা দেখেছিলেন অনেকেই। ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান। সেবারও ভারতের শেষ রক্ষা হয়নি। ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান তোলে ৩৩৮ রান। মোহাম্মদ আমির, হাসান আলীদের পেস আক্রমণে মাত্র ১৫৮ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ। পাকিস্তানের কাছে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারে বিরাট কোহলির দল। অথচ গ্রুপ পর্বে এই পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। কিন্তু ফাইনালে গিয়ে আর পারল না। আর এবারে ২০১৯ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত। অনেকের মতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ইচ্ছা করে না হারলে অপরাজিত থেকেই সেমি ফাইনালে যেতে পারতো বিরাট কোহলির দল। কিন্তু সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ২৩৯ রানে আটকে দিয়ে ফাইনালের টিকিটের জন্য অপেক্ষা করছিল ভারত। তবে এবারো সেমি থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। ১৮ রানে হেরে চোকার খ্যাতিটা অনেকটাই নিজেদের করে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এনিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমি ফাইনাল থেকে ছিটকে গেল ভারত। ২০১৫ বিশ্বকাপেও সেমি ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৯৬ রানে হারে ভারত। তাই এখন আর শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা নয়, চোকার হিসেবে তাদের পাশে পেয়েছে ভারতকে। যারা বিদ্যুৎ গতিতে শুরু করেও শেষটা করতে পারেনি ঠিক মত।

x