ভাদ্রের উৎসব এখন ঘরে-ঘরে

মনজুর আলম : বোয়ালখালী

সোমবার , ২৬ আগস্ট, ২০১৯ at ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
81

মোঃ ফারুক ইসলাম, শিক্ষকতা করেন বোয়ালখালীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বাজারে- বাজারে ঘুরতে-ঘুরতে একেবারেই হয়রান-পেরেশান। হন্যে হয়ে খুঁজছে পাকা তাল আর জালা চাল। জিজ্ঞেস করতেই জানালেন ছোট বোনের বিয়ে হয়েছে এ বছর। ভাদ্র কাটানির নাইয়র এসেছে। শ্বশুর বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময় নাকি তাল পিঠা ও মধু ভাত নিয়ে যেতে হবে। বাড়ির মুরব্বীদের আদেশ তাল পিঠার জন্য পাকা তাল ও মধুভাতের জন্য জালা চাল সংগ্রহ করতে হবে। তাই এত দৌড়াদৌড়ি।
উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডী ফুলতলী বাজারের সৌদিয়া স্টোরের মালিক মোঃ সিরাজ মিয়া, বড় ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন সমপ্রতি। প্রথা পালন করতে নতুন বউকে বাপের বাড়ি পাঠিয়েছেন” ভাদ্র কাটানির” নাইয়রে। বেয়াই বাড়ি থেকে পাঠিয়েছে তালপিঠা – মধুভাত’সহ নানান রকমের পিঠাপুলি। বিপদে পড়েছে এসব পিঠাপুলি আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশিদের মাঝে বিলানো নিয়ে। এভাবেই “ভাদ্র কাটানিতে” ব্যস্ততা এখন বোয়ালখালীর ঘরে-ঘরে। প্রবীণ শিক্ষক বিপ্লব সরকার বলেন-এক সময় সম্ভ্রান্ত হিন্দু সমপ্রদায় এ উৎসবকে জাঁকজমকভাবে পালন করতো। তাদের এ রেওয়াজ ক্রমান্বয়ে এ অঞ্চলের মানুুষকে প্রভাবিত করে। এক পর্যায়ে উৎসবটি এ অঞ্চলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি সাংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে দাঁড়ায়। বংশ পরম্পরায় প্রথাটি চলে আসছে এখনও। ১০ দিন স্বামীর মুখদর্শন হবে না। এর কোন মানে বা ভিত্তি আছে কিনা তা জানাতে পারেনি কেউ তবে তাদের বিশ্বাস- ভাদ্র মাসের প্রথম দিন থেকে পরবর্তি দশ দিন পর্যন্ত স্বামীর মুখ দর্শন করলে নাকি স্বামীর অমঙ্গল হয় তাই স্বামীর মঙ্গল কামনায় এ সময়টা বাবার বাড়িতেই কাঠাতে হয় নববধূদের। এটা মুরব্বীদের নির্দেশ। পালন করতেই হয়, না করলে তারা মাইন্ড করেন। আবার অনেকের ধারণা এটা যৌতুকের একটি অংশ ছাড়া অন্য কিছুই নয়। এর নাম দিয়ে মেয়ে পক্ষ থেকে হাতানোর ধান্ধা। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ‘ভাদ্র কাটানি’ উৎসবের কোনো ব্যাখ্যা না থাকলেও এ অঞ্চলের আদি প্রথা অনুযায়ী, পহেলা ভাদ্র থেকে শুরু হয়ে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে এ উৎসবটি। এ সময়ে নববিবাহিতা বধূরা বাবার বাড়িতে নাইয়োর যাবে। সময় শেষে শ্বশুর বাড়ির সবার জন্য নতুন কাপড়-চোপড়, ব্যবহার্য হাড়ি-পাতিল, তালপিঠা ও নতুন জালা চালের তৈরি মধুভাত’সহ শ্বশুরবাড়িতে ফিরবে। এ নিয়ে এখন ব্যস্ততা বাড়ছে বোয়ালখালীর ঘরে-ঘরে।

x