ভরাট আর দখলে বিলীন হচ্ছে জলকদর খাল

কল্যাণ বড়ুয়া মুক্তা, বাঁশখালী

রবিবার , ১৬ জুন, ২০১৯ at ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
70

বাঁশখালীর বুক ছিড়ে প্রবাহিত জলকদর খালটি। এ খালটি প্রতিনিয়ত ভরাট ও অবৈধ দখলের কবলে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ খাল দিয়ে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হতে না পারলে বন্যার পানিতে ডুবতে হয় বাঁশখালীর ৮/১০ টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। খাল সংস্কার ও অবৈধ দখল উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সভায় আলোচনা হলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে দুই পাশের অবৈধ দখলদারদের দখলে এবং সংস্কার না করায় সরু হয়ে পড়েছে। এই জলকদর খালটি সুদূর কাল থেকে বাঁশখালীর যাতায়াত ও ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা নেওয়ার অন্যতম যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভূমিকা রেখে আসছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই জলকদর খালটি দুই পাশের অবৈধ দখলদারদের দখলে এবং সংস্কার না করায় সরু হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পূর্বাঞ্চলের ৮টি পাহাড়ি ছড়ার ঢল এবং বন্যার পানি নিস্কাশন হতে না পারায় সর্বত্র বন্যার সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ জনগণের নানাভাবে মালামালের ক্ষতিসাধন হয়। এক সময় বাঁশখালীর সকল ব্যবসায়ীগণ নৌকা এবং সাম্পানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে এই জলকদর খাল হয়ে সকল ধরনের মালামাল নিয়ে আসতো শঙ্খ নদী হয়ে। কিন্তু এখনো সেই ধারা অব্যাহত থাকলেও জলকদর খালের অধিকাংশ এলাকা অবৈধ দখলদার ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পূর্বের সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণ। খালে নামার জন্য অবস্থিত অধিকাংশ স্লুইচ গেইটগুলো নানাভাবে দখল এবং বন্ধ থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বন্যার সৃষ্টি হয় খালের পূর্বাঞ্চলের এলাকাগুলোতে। জলকদর খালটি শঙ্খ নদী হয়ে খানখানাবাদের অভ্যন্তরে বাহারছড়া, কাথারিয়া, সরল, গন্ডামারা, শীলকূপ, ছনুয়া, শেখেরখীল মধ্যবর্তী হয়ে আবারো দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সাথে পড়েছে। এই জলকদর খালটি জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও নানাভাবে দখলে থাকায় বর্তমানে পানি নিস্কাশনে বাধাগ্রস্ত হয়ে সাধারণ জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বাঁশখালীর ৮টি পাহাড়ি ছড়া, পুঁইছড়ির ছড়া, নাপোড়া ছড়া, চাম্বলের ছড়া, শীলকূপের ছড়া, জলদি ছড়া, পাইরাংয়ের ছড়া, কালীপুরের ছড়া ও সাধনপুরের ছড়া হয়ে পাহাড়ি ঢলের পানিগুলো পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়। সেই পানি নানাভাবে জলকদর খালে গিয়ে পৌঁছতে না পারলে সর্বত্র বন্যার সৃষ্টি হয়। বিগত দিনে এই জলকদর খালে পানি নিস্কাশন সহজ হলেও সম্প্রতি সময়গুলোতে দুই পাশে অসংখ্য অবৈধ দখলদার ও ভরাট হয়ে যাওয়াতে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা দূরহ হয়ে পড়ে। অপরদিকে খালটি সরু হয়ে যাওয়াতে পূর্বের মত ব্যবসায়ীরা নানাভাবে বোট অথবা সাম্পানের মাধ্যমে আগের মত মালামাল পরিবহন করতে পারে না। এ ব্যাপারে বাহারছড়ার চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের ইউনিয়নের অভ্যন্তরে প্রবাহিত এই খালটি সংস্কার করা হলে বর্ষা মৌসুমে সাধারণ জনগণ বন্যার হাত থেকে অনেকটা রক্ষা পাবে। তাছাড়া স্লুইচ গেইটগুলো যথাযথ সংস্কার করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বাঁশখালীতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন।
এ খালটি সংস্কারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষকে। শেখেরখীল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াছিন বলেন, খালটি সংস্কার হলে বহুমুখি লাভবান হবে বাঁশখালীবাসী। তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নের মাঝ খান দিয়ে প্রবাহিত খালটি এক সময় ব্যবসার ও নৌচলাচলের প্রাণকেন্দ্র থাকলেও বর্তমানে ভরাট হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা নৌ-যোগে পণ্য পরিবহনে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এ খালটির অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পুন: সংস্কার করা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন । ছনুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন, আমাদের এলাকার দুর্ভোগ হচ্ছে এই জলকদর খালটি। দুই পাশে অবৈধ ভরাট হওয়ায় ও জবর দখল হওয়ায় পানি সহজে নিষ্কাশন হতে পারে না। তাছাড়া স্লুইচ গেইটগুলো নানাভাবে দখলে থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জোরালো পদক্ষেপ নিয়ে সেগুলো সংস্কার করতে পারে না। বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী এই জলকদর খালটি সংস্কার ও অবৈধ দখলদার মুক্ত করার দাবি সর্বস্তরের জনগণের।

x