ব্যাটারি রিকশা চলবে কি না জানা যাবে ১৭ নভেম্বর

মোরশেদ তালুকদার

মঙ্গলবার , ১২ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
359

চট্টগ্রাম শহরে বৈধভাবে ব্যাটারিচালিত ‘থ্রী হুইলার অটো রিক্সা’ চলতে পারবে কি না তা চূড়ান্ত হবে আগামী ১৭ নভেম্বর। নির্ধারিত ফির বিনিময়ে লাইসেন্স চেয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক ও চালকদের সংগঠনের করা একটি আবেদন উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওইদিন নিষ্পত্তি করার কথা রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক)। এর আগে ২০১৫ সালের ৩ জুলাই চট্টগ্রাম ও ঢাকা মহানগরীতে ব্যাটারি ও ইঞ্জিনচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে রায় দিয়েছিল উচ্চ আদালত।
জানা গেছে, নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে প্রায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে রিকশাগুলো। সাথে ছিল বিদ্যুৎ অপচয়ও। ফলে বেশিরভাগ লোকই এসব রিকশা চলাচলের বিপক্ষে। তবে পুলিশের ‘নিষ্ক্রিয়তায়’ এখনো নগরে এসব রিকশা চলতে দেখা যায়। প্রধান সড়কগুলোতে কম দেখা গেলেও অলিগলিতে সমান দাপট আছে এসব রিকশার। এমন পরিস্থিতিতে রিকশাগুলো নিয়ে চসিকের কি সিদ্ধান্ত আসছে সেটা নিয়েও আছে লোকজনের কৌতুহল।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মুফিদুল আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিকদের সংগঠনের পক্ষে লাইসেন্স চেয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে ১৭ নভেম্বর মতবিনিময় করবো। আবেদনটি নিষ্পত্তি করার জন্য আদালতেরও নির্দেশনা আছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে চসিকের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘মেয়র মহোদয়ও চান না ব্যাটারিচালিত রিকশা চলুক। পুলিশও চায় না। গণ্যমান্যরাও চান না। কিন্তু তারা (রিকশাগুলোর চালক ও মালিকপক্ষ) চায়। এখন দেখা যাক, আলাপ-আলোচনা করে কি সিদ্ধান্ত হয়।’
চসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই ফি এর বিনিময়ে লাইসেন্স চেয়ে মেয়র বরাবর আবেদনটি করেছিলেন ‘চট্টগ্রাম মহানগর ব্যাটারি চালিত রিঙা ও অটোবাইক মালিক-চালক সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’ এর সভাপতি মোহাম্মদ রফিক ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসমাঈল। এতে রাজস্বের বিনিময়ে লাইসেন্স প্লেট প্রদান করে হাইওয়ে এবং ভিআইপি রোড ব্যতীত পাহাড়ি উঁচু-নিচু রাস্তায় ‘থ্রী হুইলার অটো রিঙা’ চলাচলের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়। ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ১০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা আছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে সংগঠনটির পক্ষে ব্যটারিচালিত রিকশা চলাচলের লাইসেন্স সংক্রান্ত একটি রিট মামলার (৯৯৪৪/২০১৯) প্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি আদেশ দেয় উচ্চ আদালত। রিট মামলাটিতে হাইকোর্ট বিভাগ কোন রুল ইস্যু না করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বরাবর রিট আবেদনকারীগণের দাখিলকৃত আবেদনটি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ দেয়া হয়।
সাড়ে পাঁচ বছর ধরেই চলছে লুকোচুরি :
২০১৫ সালের ৩ জুলাই উচ্চ আদালত ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে রায় দেয়ার পর একই বছরের ২৫ আগস্ট নগর পুলিশের সদর দপ্তরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভা হয়েছিল। এতে চট্টগ্রাম শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে ৩০ তারিখ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল প্রশাসন। পরবর্তীতে ৩১ আগস্ট রিকশাগুলো বন্ধে অভিযান চালিয়েছিল সিএমপি। ওইদিন নগরীর ২৬ পয়েন্ট থেকে ৮১টি ব্যাটারি রিকশা জব্দ করা হয়। এরপর নগরে বড় ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারো শুরু হয় এসব রিকশা চলাচল।
এরপর ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারি রিকশা চলাচল সংক্রান্ত হাইকোর্টে দায়েরকৃত কনটেম্পট পিটিশন নং ১৭৮/২০১৭ (রিট পিটিশন নং ১৯৯৭ এর ২০১৪) এর উপর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সিএমপির তৎকালীন কমিশনার মো. ইকবাল বাহার ও তৎকালীন উপ পুলিশ কমিশনার মো. সুজায়েতুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেন ‘কনটেম্পট অব কোর্ট’ এর অভিযোগে তাদের দায়ী করা হবে না, তার কারণ দর্শানোর জন্য শেষবারের মতো আদেশ দেন।’ আদালতের এ নির্দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে সাড়াশি অভিযান চালিয়েছিল সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও ১৬ থানা। পরবর্তীতে সে কার্যক্রমেও ভাটা পড়ে।
সর্বশেষ গত ১৮ জুন খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় ব্যাটারি রিকশাচালিত রিকশা উচ্ছেদে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযানে পুলিশের উপর হামলা করে রিকশা চালক-মালিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। এতে অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক, উত্তর) হারুনুর রশীদ হাযারীসহ তিনজন আহত হয়েছিলেন। অবশ্য সেদিন ৬২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা জব্দ করে পুলিশ। এরপর নগরে বড় ধরনের কোন অভিযান পরিচালিত হয়নি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) আমির জাফর গত সপ্তাহে দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘ব্যটারিচালিত রিকশা চলাচলের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া নতুন আইনেও ব্যাটারি রিকশা চলাচলের বিষয়ে কোনো কিছু বলা হয়নি। ফলে ওইসব রিকশা মহানগরীতে কোনোভাবেই চলাচলের সুযোগ নেই।’

x