ব্যাটারি রিকশার লুকোচুরি বন্ধ হবে কবে?

মূল সড়কে কম, চলে অলিগলিতে

সোহেল মারমা

বুধবার , ৬ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ
329

নগরীতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল গত ছয় বছরেও বন্ধ হয়নি। বরং এসব রিকশা নিয়ে পুলিশ ও চালকদের মধ্যে যেন লুকোচুরি চলছে। রাস্তায় এসব রিকশা একবার প্রকাশ্যে চলে, আবার কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়। শহরের মূল সড়কে কম দেখা গেলেও বর্তমানে বিভিন্ন অলিগলিতে চলছে এসব রিকশা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের আগস্টে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই এসব ব্যাটারি রিকশা সড়কে নামায়। এরপরেই নিয়ন্ত্রণহীন গতির কারণে বিভিন্ন সময় যাত্রীদের দুর্ঘটনায় পড়া, বিদ্যুৎ চুরিসহ নানা অভিযোগ উঠে এসব রিকশার বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, সাধারণ প্যাডেল চালিত রিকশা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে কোটি টাকার উপর রাজস্ব দেয়। ব্যাটারি রিকশা চলাচল করায় তাদের আয়ের পথ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। একই পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে সিএনজি ট্যাক্সিগুলোও। ফলে ব্যাটারি রিকশা চলাচলের বিষয়ে বিভিন্ন সময় ৩০টির অধিক মামলা হয়। তবে শুরুতেই হাই কোর্ট দায়ের হওয়া একটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল নগরীতে ব্যাটারি রিকশার চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।
এরপর পুলিশ কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে সড়ক থেকে এসব রিকশা তুলে দেয়। কিন্তু অভিযানের কিছুদিন বাদে আবারও অবৈধভাবে চলাচল শুরু করে এসব রিকশা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ট্রাফিক পুলিশসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ে ম্যানেজ করে মালিকেরা এসব ব্যাটারি রিকশা বছরের পর বছর ধরে নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে চালিয়ে আসছেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) আমির জাফর আজাদীকে বলেন, ব্যাটারি রিকশা চলাচলের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি দুয়েকটি অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিভিন্ন অলিগলি থেকে বেশ কিছু ব্যাটারি রিকশা জব্দ করে নিয়ে এসেছে। ওইসব রিকশা নগরীতে কোনোভাবেই চলাচলের সুযোগ নেই।
তিনি আরো বলেন, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই-পুলিশের কিছু সদস্যের সঙ্গে চক্রটির সখ্যতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে তাদের বকাঝকা দেওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, তারা ওইসব রিকশা জব্দ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে একসময় এসব রিকশা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা একটি অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছি। শীঘ্রই নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে ব্যাটারি রিকশার চলাচল নিয়ে পূর্বে যে অরাজকতা ছিল, বর্তমানে তা মোটামুটি সন্তুষ্টির পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর প্যাডেল চালিত রিকশা মালিক পরিষদের সভাপতি ছিদ্দিক মিয়া। তিনি বলেন, বর্তমানে নগরীর কয়েকটি অলিগলিতে কিছু ব্যাটারি রিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিবন্ধী চালক রয়েছেন। তবে ওইসব রিকশার তুলনায় নগরীর ঈশান মাঝির ঘাট, ইপিজেড, রাহাত্তারপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারি চালিত প্রচুর অবৈধ টমটম চলাচল করছে।
ছিদ্দিক মিয়া আরো বলেন, ব্যাটারি রিকশার চলাচল নিয়ে যতগুলো মামলা হয়েছে, আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। গত ২০১৩ সাল থেকে বর্তমান ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমাদের সংগঠন দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়েছে। ওইসব ব্যাটারি রিকশা নামানোর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে নগরীর প্রায় সব থানা এলাকার গলিগুলোতে ব্যাটারি রিকশা চলাচল করছে। একটি সিন্ডিকেট পুলিশকে ম্যানেজ করে বিশেষ টোকেনের মাধ্যমে এসব ব্যাটারি রিকশা সড়কে নামাচ্ছে। এর মধ্যে শুধু নগরীর বাকলিয়া ও কোতোয়ালী থানাধীন জেমিসন থেকে তুলাতলী, কালামিয়া বাজার থেকে মিয়াখান নগর, রাহাত্তারপুল থেকে চকবাজারের ফুলতলী ও দিদার মার্কেট থেকে শুরু করে বউ বাজার হয়ে জামাই বাজার রোডে অন্তত চার শতাধিক ব্যাটারি চালিত রিকশা চলছে।
ওই সমস্ত সড়কে থাকা বিভিন্ন গ্যারেজ এসব ব্যাটারি রিকশার স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ওইসব গ্যারেজে রিকশা রাখার পাশাপাশি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তথ্যমতে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সাধারণত প্যাডেল চালিত রিকশা চলাচলের লাইসেন্স দিয়ে থাকে। অন্যদিকে যান্ত্রিক বাহন চলাচলের অনুমোদন ও নিবন্ধন দিয়ে থাকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ব্যাটারি চালিত রিকশা কোনো শ্রেণির আওতায় না পড়ায় ওইসব রিকশার দায়ভার শুরু থেকেই কোনো কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করছে না।

x