বোয়ালখালী থানার দুই পুলিশসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা নিতে আদালতের নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক

সোমবার , ৫ নভেম্বর, ২০১৮ at ৩:১০ অপরাহ্ণ
84

পটিয়া চৌকি আদালতের নৈশ প্রহরী ও তার বৃদ্ধা মাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও ‘ক্রসফায়ারের’ হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগে বোয়ালখালী থানার দুই পুলিশ সদস্য ও তাদের এক সোর্সের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা নিতে বোয়ালখালী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দিয়ে তদন্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল রোববার চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, বোয়ালখালী থানার এসআই মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (৪৫), এএসআই মনির আহমদ (৪২) ও পুলিশের কথিত সোর্স মোহাম্মদ রাসেল (৩২)।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, গত বৃহস্পতিবার দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও তাদের এক সোর্সের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী ছকিনা বেগম (৭০)। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ৫(১)/(২) এবং দণ্ডবিধির ১৬৬, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৬৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। সেদিন মামলাটি গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে দুদক আইনে এফআইআর রেকর্ড করার জন্য দুদকের পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পৃথক আদেশে দণ্ডবিধির অন্য ধারাগুলোতে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বোয়ালখালীর আমলি আদালতের বিচারক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সার বোয়ালখালী থানার ওসিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশের তদন্ত সংস্থা সিআইডি দিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশ দিয়েছেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর বেলা ১২টার দিকে বোয়ালখালীর ঘোষখীল আব্দুল মুনাফের বাড়িতে যান দুই পুলিশ সদস্য ও এক সোর্স। এ সময় নুরুল আমিনের সন্ধান চান তারা। তখন আমিনের মা ছকিনা বেগম বলেন, সে শহরে চাকুরিস্থলে। তখন বাদীনিকে একটা কাগজে টিপসই দিতে বলেন তারা। সই দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালাগালির পাশাপাশি মাথার চুল ধরে মুখে থাপ্পর মারতে থাকেন এসআই দেলোয়ার হোসেন। তখন এগিয়ে আসেন ছকিনা বেগমের ছেলে পটিয়া আদালতের নৈশপ্রহরী নুরুল হাছান। তখন মা-ছেলে দু’জনকেই মারতে থাকেন পুলিশ সদস্যরা। এতে বৃদ্ধা নারীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছিঁড়ে যায় এবং পরনের কাপড়ও খুলে যায়। একপর্যায়ে হাছানকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা। সে সময় স্থানীয় লোকজন পুলিশের কাছে আটকের কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, ওয়ারেন্ট থাকায় হাছানকে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর সেদিন রাত ৮টায় থানা হাজতের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে মেঝেতে ফেলে হাছানকে বুট জুতা দিয়ে গলায় লাথি মারতে থাকেন এএসআই মনির আহমদদ। পরে লোহার রড দিয়েও পৈশাচিক কায়দায় মারতে থাকেন এসআই দেলোয়ারসহ অন্যান্য অসামিরা।
এতে আরও অভিযোগ করা হয়, সেদিন আদালত কর্মচারী পরিচয় দিলেও নির্যাতন থেকে রক্ষা পাননি নুরুল হাছান। এক লক্ষ টাকা না দিলে হাছানকে অস্ত্র ও মাদক মামলায় ফাঁসানো এবং ক্রসফায়ারের হুমকিও দেন তারা। রাত ২টায় পুলিশকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সাদা কাগজে সাক্ষর করে মুক্তি পান হাছান। ঘটনার পরের দিন তিনি প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। এর আগে ঘটনার দিনই মামলার বাদীনি বোয়ালখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে নগরের চান্দগাঁও থানায় কর্মরত থাকাকালীন এএসআই মনির আহমদসহ আট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘আটক বাণিজ্যে’ যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তৎকালীন সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডলের নির্দেশে এসব অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি চান্দগাঁও থানা থেকে এএসআই মনিরকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়া হয়। ওই সময় চান্দগাঁও থানায় ওসির দায়িত্ব পালন করা সাইরুল ইসলাম এখন বোয়ালখালীতে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

x