বোয়ালখালীতে সুপারির সেই ঐতিহ্য এখন আর চোখে পড়েনা

মনজুর আলম : বোয়ালখালী

সোমবার , ৪ নভেম্বর, ২০১৯ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
30

”মনে পড়ে সেই সুপারি গাছের সারি
তার পাশে মৃদু জোস্না মাখানো গ্রাম
মাটির দেয়ালে গাঁথা আমাদের বাড়ি
ছোট ছোট সুখে সিগ্ধ মনস্কাম”
কবি সুনিল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর কবিতার এ পংক্তিমালা মনে পড়লেই চোখের সামনে এখনো ভেসে উঠে এক সময়ের বোয়ালখালীর সেই সারি সারি সুপারি বাগান, জোস্না মাখানো গ্রাম, মমতায় জড়ানো মাটির তৈরি সেই ঘরগুলোর কথা। বোয়ালখালীর ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘরগুলো এখন তেমন একটা চোখে না পড়লেও এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সুপারি গাছের সারি সারি বাগানগুলো এখনো কিছুটা অবশিষ্ট থেকে ঐতিহ্যের জানান দিয়ে যাচ্ছে এই বলে যে এক সময় বেশ কিছু বড় বড় সুপারি বাগানে সমৃদ্ধ ছিল এখানকার গ্রামগুলো। তবে বাড়তি জনসংখ্যার জন্য ঘর বাড়ি তৈরি ও বাজারে যথাযথ দাম না পাওয়া সহ অন্যান্য আরো অনেক কারনে এসব সুপারি বাগানগুলোর সেই জৌলুস এখন আর তেমন একটা অবশিষ্ট নেই। এক সময় এখানকার প্রতিটা গ্রামের প্রতিটা বাড়িতে সুপারির আবাদ হতো। বছরের এই সময়টাতে এলাকার গৃহস্ত পরিবারগুলো বাজারে সুপারি কেনাবেচা করে সংসারসহ অন্যান্য খরচ মেটাত। এ সময় গ্রামের প্রায় প্রতিটা মানুষ এর সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল। কেউ বাগান করে, কেউ মজুরি খেটে, কেউ বেচাুকেনা করে আয় উপার্জন করত। এখানকার প্রতিটা বিয়ে শাদী,মেজবান,পানছল্লা সহ ছোটখাট নানা অনুষ্টান এমনকি বাড়িতে কোন মেহমান আসলে পানসুপারির আপ্যায়ন ছাড়া কল্পনাই করা যেতনা। তাই এসময় পান সুপারিকে ভালবাসা ও বিয়েশাদীর ও প্রতীক হিসেবে অনেকের মধ্যে আলাদা কদর ছিল। এ সময় এখানকার ছোটবড় অনেকের মুখে মুখে ফিরত-” পানের হুয়ারে সুয়ারি দিলা বন্ধু তুঁই আর মন কারিলা/যদি সুন্দর একখান মুখ পাইতাম মজা গড়ি পানর খিলি তারে বানাই খাবাইতাম/পান খাইয়া ঠোঁট লাল করিলাম বন্ধুর ভাগ্য হইলনা.ইত্যাদি জনপ্রিয় আঞ্চলিক গানগুলো। এখন সেই গানও নেই,সুপারির বাগানও নেই পথে ঘাটে এখন আর তেমন একটা চোখে পড়েনা সুপারি বেচাকেনার দৃশ্যও। বলা চলে এতে মানুষের মনও নেই। তবে কধুরখীল ও গোমদন্ডী এলাকায় বড় বড় বেশ কিছু সুপারি বাগান এখনও দৃষ্টি কাড়লেও ফলন তেমন একটা নেই। এ ব্যাপারে মোঃ হোসেন নামের এখানকার বাগানের এক মালিক জানান একেত মাটির উর্বরাশক্তি কমে যাওয়া,এর উপর কাঠবিড়ালীর উৎপাতে আশানুরুপ ফল পাওয়া যায়না। তাই এতে আগ্রহ নেই অনেকের। এ নিয়ে তারা সহানিয় প্রশাসনের কাছে অনেক দেন দরবার করেছে। কিন্তু কোন ফল পাওয়া যায়নি। তাই এতে দিনকে দিন আগ্রহ হারাচ্ছে এখানকার অনেকেই। অভিজ্ঞ মহলের ধারনা সরকার কিংবা স্থানিয় প্রশাসন যদি ঐতিহ্যবাহী এসব সুপারি বাগানগুলো রক্ষায় একটু দৃষ্টি দেয় তাহলে আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির বড় আঁধার ও অর্থকরি এ ফসলটিকে বাঁচিয়ে রাখা যেত বছরকে বছর ধরে।

x