বোয়ালখালীতে বিধবাকে হত্যা সটকে পড়ল ‘কথিত’ ভাই

বোয়ালখালী প্রতিনিধি

শুক্রবার , ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বোয়ালখালী পৌরসদরে রমিজা খাতুন (৫২) নামে ৪ সন্তানের এক জননীকে তার ‘কথিত’ (পাতানো) ভাই হত্যা করে পালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার পৌরসদরের বহদ্দার পাড়ার আবদুস সালামের ভাড়া ঘরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশিরা জানান, সকালে রমিজার লাশটি বিছানায় উপুর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ এসে লাশটি নিয়ে যায়।
তারা আরো জানায়, এর কিছুক্ষণ আগে রমিজার ‘কথিত’ ভাই আলমগীরকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও রমিজা খুনের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আস্তে করে সটকে পড়ে সে। নিহতের ছেলে মো. রুবেল বলেন, আলমগীরের বাড়ি সীতাকুণ্ডে; সে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বৈদ্যালির ব্যবসা করে। সে সুবাদে আমার মায়ের সাথে তার পরিচয় এবং ভাই-বোন ডাকাডাকি। আমাদের নিষেধ সত্বেও গত ৪ মাস আগে পাতানো ভাই আলমগীরকে নিয়ে পৌরসভার বহদ্দার পাড়ায় এ ভাড়া বাসায় ওঠেন তারা। শুনেছি ইতোমধ্যে আলমগীরকে একটি এনজিও সংস্থা থেকে ঋণও নিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
আলমগীর বেশ কয়েকবার জেলও খেটেছে দাবি করে রুবেল আরো বলেন, আমরা এখন একেবারেই নিশ্চিত, সে আমার মাকে খুন করে পালিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই আমরা। নিহত রমিজা খাতুন উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের মৃত হাফিজুর রহমানের মেয়ে ও মৃত বদিউল আলমের স্ত্রী। বিগত ২৬ বছর আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। তাদের ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। তারা কর্মের সুবাদে একেকজন একেক জায়গায় থাকেন।
থানার উপ-পরিদর্শক মো.তাজ উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে একটি ভাড়াবাসা থেকে রমিজার মরদেহ সকাল ১০টার দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি ভাড়া বাসার একটি খাটের উপর পড়ে ছিল, গলায় দড়ি প্যাঁচানোর কালচে দাগ রয়েছে। পাতানো ভাই মো. আলমগীর পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নেয়ামত উল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে ধারণা করছি। কিছু তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।

x