বেড়েছে যাত্রী, বাড়েনি সেবা

মনজুর আলম, বোয়ালখালী

শুক্রবার , ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম-দোহাজারী লাইনে এখন কয়েক গুণ বেড়েছে ট্রেনের যাত্রী। তবে সে তুলনায় একটুও বাড়েনি সেবার মান। এমনটাই অভিযোগ এখন এ লাইনের যাত্রী সাধারণের। এখানে এখন ট্রেন বা বগি বাড়ানোর দাবি তাদের।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটারের লাইনে একসময় চার জোড়া যাত্রীবাহী রেল আসা-যাওয়া করত। পরবর্তীতে কোচ ও ইঞ্জিন সংকটসহ লোকসানের অজুহাত তুলে ধীরে ধীরে ট্রেনের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। নব্বইয়ের দশকের দিকে সংস্কারবিহীন এ পথে যাত্রীবাহী রেল এক জোড়ায় নামিয়ে আনা হয়। এতে যাতায়াতে বিপাকে পড়েন দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রী সাধারণ।
জানা যায়, স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে গত এক দশকে রেললাইন, সেতু, রেলগেট ও স্টেশন নির্মাণের মধ্য দিয়ে নতুন রূপ দেওয়া হয় এ লাইনটিকে। এলাকাবাসীর চাহিদার প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৩ নভেম্বর আরো একজোড়া রেল যুক্ত করা হয় এ লাইনে। ফলে দুই জোড়া রেল সকাল-বিকেল এ পথে চলাচল শুরু করলে ধীরে-ধীরে আবারো রেলমুখী হয়ে ওঠে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রী সাধারণ। এখানকার যাত্রী সাধারণের অভিযোগ ট্রেন বেড়েছে সাথে যাত্রী ও বেড়েছে কয়েক গুণ। কিন্তু সে তুলনায় যাত্রী সেবার মান বাড়েনি।
প্রথম প্রথম ট্রেনগুলোর আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় মেনে চললেও এখন তা নেই। এ পথের নিয়মিত যাত্রী বোয়ালখালী উপজেলা সদরস্থ গোমদন্ডী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিষু কুমার বড়ুয়া বলেন, আমরা যারা এ লাইনের যাত্রী আছি প্রথম দিকে একটু ভালো সেবা পেয়েছিলাম। খুবই কম খরচে ঠিক সময়ে কর্মস্থলে যাতায়াত করতে পারতাম। কিন্তু কয়েকদিনের মাথায় লক্ষ্য করি ট্রেনগুলোর সিডিউল ঠিক থাকে না। হয়ত আগেই অথবা অনেক দেরি করে আসা-যাওয়া শুরু করে। যার কারণে এক সময়ের জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এ লাইনের ট্রেনগুলো আবারো মনে হয় জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলতে শুরু করে।
নসিবা বেগম নামের একজন চাকুরীজীবী বলেন, এ লাইনের ট্রেনে কয়েকবার নগর থেকে যাতায়াত করে কর্মস্থলে গেছি। খুবই ভালো লাগত। কিন্তু এখন আর সিডিউল মেলাতে পারি না। তাছাড়া ট্রেনগুলোর বাতি নষ্ট, যার কারণে আমাদের মতো নারীরা এখন নিরাপত্তা বোধ করে না। বাধ্য হয়েই আমাদেরকে সীমাহীন কষ্টের সড়ক পথ মাড়িয়েই কর্মস্থলে আসা যাওয়া করতে হয়।
এ সময় পাশে থাকা পটিয়া ধলঘাট গ্রামের সাগর নাথ নামের অন্য এক যাত্রী বলেন, যানজটমুক্ত ও কম খরচে নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা হচ্ছে রেল। এ রুটে যদি আর এক জোড়া ট্রেন চলাচল করতো, তাহলে সড়ক পথের চাপ ও দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যেতো এবং কালুরঘাট ব্রিজের বিরক্তিকর যানজট থেকেও রেহাই পাওয়া যেত।
বগি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বিপ্লব সরকার নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, প্রতিদিনই যাত্রী ভিড় থাকছে এ রেলপথে। বিশেষ করে সকালে নগরমুখী ট্রেনটিতে প্রচুর ভিড় থাকে। এ সময় অনেকেই ট্রেনে উঠতেই পারে না। বগি কম থাকায় প্রতিনিয়তই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। এ লাইনে বগি বা ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো গেলে সরকারের রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীসেবা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
গোমদন্ডী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আগের তুলনায় এ স্টেশনে যাত্রী বেড়েছে দ্বিগুণ। কারণ গোমদন্ডী স্টেশন থেকে দোহাজারী স্টেশন পর্যন্ত প্রতিজন যাত্রীর টিকিট মূল্য ৮ টাকা ও গোমদন্ডী স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম নগরে যাওয়ার টিকিট মূল্য মাত্র ৬ টাকা। এত কম খরচে যাতায়াত করতে পারছে বিধায় এ লাইনটি অনেকেরই কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে এখন।
রেলযাত্রীরা এখন অনেক সচেতন জানিয়ে তিনি বলেন, নিজে তো রেলের টিকিট কাটেনই, পাশাপাশি অন্য যাত্রী টিকিট নিয়েছেন কিনা জানতে চান তারা। তিনি আরো বলেন, আপ-ডাউন রেলে ৫টি বগি নিয়মিত আসা যাওয়া করছে এখন এখান দিয়ে। যাত্রীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে এখানে আরো দুইটি বগি বাড়ানো গেলে এখানকার যাত্রী সাধারণ উপকৃত হতো বলে মনে করেণ তিনি।

x