বেহালার সুরে মোহনীয় সন্ধ্যা

আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের আন্তর্জাতিক সঙ্গীত দিবস

প্রবীর বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই, ২০১৯ at ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
32

পুরো হলভর্তি দর্শক-শ্রোতা সেই সন্ধ্যায় মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিল সঙ্গীত পরিবেশনা। ভায়োলিনিস্টস চট্টগ্রামের বেহালাবাদন, সঙ্গীত পরিষদের রবীন্দ্র সঙ্গীত ও নজরুল গীতি পরিবেশনা আর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের সঙ্গীত ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গীত পরিবেশনা সত্যিই সুরের ছন্দে ভরিয়ে তুলেছিল নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি)–এর হলটি। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক সঙ্গীত দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল গত ২২ জুন শনিবার। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের সঙ্গীত ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠান শুরুর পর ওস্তাদ প্রিয়তোষ বড়ুয়ার পরিচালনায় ভায়োলিনিস্টস চট্টগ্রামের ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশন করেন ‘আকাশ ভরা সূর্যতারা’, বৃন্দ বাদন করেন ‘রাগ দূর্গা খাম্বাস’, আধুনিক গান ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা’, ‘এই মুখরিত জীবনের চলার পথে’, রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘সুন্দর বটে তব অঙ্গদখানি’ গানটি। তারপর ওস্তাদ প্রিয়তোষ বড়ুয়া পরিবেশন করেন ‘এই মিনতি করিরে’। ভায়োলিনিস্টস চট্টগ্রামের ছাত্রছাত্রীদের আরো একটা পরিবেশনার মধ্যে ছিল বৃন্দ বাদন রাগ খাম্বির।
তারপর ছিল মণিষা রায়ের পরিচালনায় সঙ্গীত পরিষদের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনা। তারা দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’, ‘মোরে ডাকি লয়ে যাও’, ‘আনন্দধারা বহিছে ভূবনে’, ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’ এবং নজরুল গীতি ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়েও খাঁটি’ এবং ‘দূর দ্বীপ বাসিনী’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। তাদের সাথে তবলায় ছিলেন প্রীতম আচার্য্য ও অলক ভট্টাচার্য্য।
অনুষ্ঠানে সেল্লোতে ভিবালদির সুর বাজান আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামের পরিচালক ড. সেলভাম থোরেজ এবং বেইজ ড্রামে ছিলেন সেকান্দার ইবনে সদরু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. গুরুপদ চক্রবর্তী।
উল্লেখ্য, ঢাকাস্থ ফরাসী দূতাবাসের সাংস্কৃতিক শাখা আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামে এ দিবস উদযাপন করে আসছে ১৯৮৫ সাল থেকে। তৎকালীন ফরাসী সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রী মি. জাক লঙ ১৯৮২ সালে এ দিবসটির সূচনা করেন এবং এরপর থেকে এ দিবসটি আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে এবং আজকে এটা আন্তর্জাতিক সঙ্গীত দিবস। বর্তমানে দিবসটি উদযাপিত হয় বিশ্বের ১৩২টি দেশে।

x