বেজে উঠেছে সিজেকেএস নির্বাচনের দামামা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৩৫ পূর্বাহ্ণ
47

বেজে উঠেছে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনী দামামা। একে একে কেটে গেছে চারটি বছর। এখন নতুন নির্বাচনের অপেক্ষা। আর সে নির্বাচনী গাড়ি যাত্রা শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার সিজেকেএস নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনার এ জেড এম শরীফ হোসেন নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করেছেন। ঘোষিত তফশিল মোতাবেক আগামী ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার বহু আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচন। ঘোষিত তফশিল মোতাবেক ২৬টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে চারজন সহ সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, একজন অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক, দুই জন যুগ্ম সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ। এছাড়া নির্বাহি সদস্য পদে ১৭ জন নির্বাচিত হবেন। যেখানে দুই জন উপজেলা কোটায় আর দুই জন মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কোটায়। বাকি ১৫টি সদস্য পদের জন্য লড়তে হবে বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিদের। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল মোতাবেক আগামী ২১ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২৪ ও ২৫ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকার উপর আপত্তি দাখিল করা যাবে। ২৬ ও ২৭ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকার উপর দাখিলকৃত আপত্তির উপর শুনানি এবং নিস্পত্তি করা হবে। আপত্তি নিস্পত্তির পর ২৮ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এরপর শুরু হবে আসল লড়াই। আগামী ১ এবং ২ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র বিক্রি করা হবে। মনোনয়ন পত্র জমা নেওয়া হবে ৩ ও ৪ ডিসেম্বর। ৫ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র বাছাই করা হবে। ৮ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে বৈধ মনোনয়ন পত্রের তালিকা। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর। আর ১০ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে এবারের সিজেকেএস নির্বাচনের লড়াইয়ের ময়দানে কারা থাকছেন। এরপর প্রার্থিরা প্রচার কাজ চালানোর সময় পাবে সাতদিন। আগামী ১৮ ডিসেম্বর সকাল ৮ টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পার্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। এদিকে এরই মধ্যে ২১১ জনের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেছে সিজেকেএস নির্বাহি কমিটির সবশেষ সভায়। এখন দেখার বিষয় সে তালিকার কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে কিনা। কোন আপত্তি জমা পড়ে কিনা। যদিও এবারের কাউন্সিলর তালিকা নিয়ে কয়েকটি জায়গায় বেশ অসন্তোষ রয়েছে ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে। যেমন সংস্থাটির সবচাইতে সফল ইভেন্ট সম্পাদক জাতীয় দাবাড়ু তনিমা পারভিনের জায়গা হয়নি মহিলা ক্রীড়া সংস্থায়। সিটি কর্পোরেশনের একজন মহিলা কাউন্সিলরের মহিলা ক্রীড়া সংস্থায় জায়গা হলেও তনিমা পারভীনকে আনতে হয়েছে একটি ক্লাব থেকে। অথচ অনেকেই মনে করেন তনিমার প্রাপ্য ছিল মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর। কর্ণফুলী ক্রীড়া চক্রের কিছু না হলেও সে ক্লাব থেকে আনা হয়েছে আবদুর রশিদ লোকমানকে। যার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে রয়েছে অনেক অভিযোগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন আবদুর রশিদ লোকমানকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করার সময় সিটি মেয়র নিজেও তাকে বেশ তিরষ্কার করেছেন। তারপরও যার বিপক্ষে এত অভিযোগ তাকে কেন কাউন্সিলর হিসেবে আনা হলো সে প্রশ্ন করেছেন অনেকেই। বাকলিয়া একাদশের কাউন্সিলর হিসেবে এসেছেন একজন যুবলীগ নেতা। যুবলীগ নেতা হলে যে সিজেকেএস কাউন্সিলর হতে পারবে না তেমন কোন বিধি নিষেধ নেই। কিন্তু সোলায়মান নামে যাকে আনা হয়েছে তিনি কাউন্সিলর হয়েই নাকি বিরূপ আচরণ করেছেন সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে। শেখ কামাল ক্লাব কাপ চলাকালে খাবারের প্যাকেট নিয়েও নাকি ঝামেলা করেছেন এই সোলায়মান। জোর করে একাধিক খাবারের প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের কথা জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা। আর যাওয়ার সময় নাকি বলে গেছেন আমি নাছির ভাইয়ের মানুষ। কাউন্সিলর হতে না হতেই যাদের এমন আচরণ তারা ভবিষ্যতে কেমন আচরণ করতে পারে সেটা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখে না। কাজেই এসব কাউন্সিলরদের নিয়ে সামনের দিনগুলোতে শংকা দেখছেন অনেকেই। অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন আবাহনী জুনিয়র ক্লাবটি চালালেও এস এম সাইফুদ্দিনকে দেওয়া হয়নি ক্লাবটির কাউন্সিলরশিপ। তিনি এসেছিলেন ইউনাইটেড স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষ থেকে। তবে পরে জানা গেছে সে ক্লাব থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে তাকে। ইউনাইটেড ক্লাবের পক্ষ থেকে পরে আবার জসিম নামে একজনকে পাঠানো হয়েছে কাউন্সিলর হিসেবে। তবে নির্বাহী কমিটিতে অনুমোদন হওয়ার পর এই রদবদল সম্ভব কিনা তা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। এখন ইউনাইটেড ক্লাবের কাউন্সিলর কে হবেন সেটা হয়তো নিস্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন। তবে এবারে বেশ কিছু নতুন কাউন্সিলর এসেছেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থায়। এদের মধ্যে শতদল ক্লাব জুনিয়রের পক্ষে এসেছেন সুমন দে। তিনি বাংলাদেশ অ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশনের নির্বাহি সদস্য। বাংলাদেশ তায়কোয়ান্ডো ফেডারেশনের সহ সভাপতি। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ তায়কোয়ান্ডো দল গত বছর বেশ কিছু পদক নিয়ে এসেছে।
তবে এবারেই প্রথমবারের মত ক্লাব প্রতিনিধি হিসেবে এসেছেন দুজন মহিলা। তাদের একজন তনিমা পারভীন। তিনি এসেছেন ফিরিঙ্গি বাজার লাকি স্টার ক্লাব থেকে। যদিও তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হিসেবে এসেছেন। আরেকজন এসেছেন এফএমসি স্পোর্টস থেকে। তিনি এফএমসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাতুনে জান্নাত। প্রথমবারের মত সিজেকেএস কাউন্সিলর হলেন এই মহিলা। এছাড়াও নতুন কাউন্সিলর হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। এখন সবার অপেক্ষা আগামী ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনী উৎসবের। তবে পাছে প্রশ্নও থেকে যায় নির্বাচন হবে তো ?

x