বিলুপ্তির পথে পদ্ম ফুল

লিটন কুমার চৌধুরী : সীতাকুণ্ড

সোমবার , ২১ অক্টোবর, ২০১৯ at ৩:৩০ পূর্বাহ্ণ
45

এক সময় গ্রামীণ জনপদে পরিচিত কিছু ফুলের মধ্যে পদ্ম ছিলো অন্যতম ফুল। বর্ষণমুখর দিনের শ্রাবণ থেকে শুরু করে শরতের শেষ অবধি এই ফুলের সমাহার দেখা যেত গ্রামের অধিকাংশ পুকুরে। আধুনিক সভ্যতার বির্বতন, শিল্পায়নের জন্য ক্রমাগত পুকুর ভরাটের ফলে সীতাকুণ্ডে বিলুপ্তপ্রায় শ্রাবণের রানী খ্যাত পদ্ম ফুল। তবে উপজেলার কয়েকটি গ্রামের পুকুরে এ পদ্মফুল থাকলেও এর রূপ আগের মতো নেই।
জানা গেছে, অনিন্দ্য সৌন্দর্যের কারণেই পদ্মকে জলজ ফুলের রানী বলা হতো। পদ্ম ফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি অথবা হালকা গোলাপি রং এর হয়। অনেকেই লাল শাপলা আর পদ্ম ফুলের মধ্যে মিল থাকার কারণে চিনতে ভুল করেন কিন্তু এর বীজ পত্রটা ভালোভাবে দেখলেই পার্থক্য বোঝা যায়। আবার কাশ্মীর আর ইরানে নীল বর্ণের পদ্ম ফুলের দেখা মেলে যাকে নীল পদ্ম বা নীল কমল বলে। পদ্ম ফুল প্রধানত শরৎকালে ফোটে তবে আবার কখনও কখনও বর্ষাকালেও পদ্মের দেখা পাওয়া যায়। পদ্মের পাতায় মুষলধারে বৃষ্টি পড়ায় সৃষ্ট শব্দ প্রকৃতির অনন্য সমৃদ্ধ সম্ভার। বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে বিলপারে থাকা কেউ আশ্রয় নিলে ও পদ্মপাতা তুলে নিয়ে ছাতার মতো মাথায় দিয়ে মাঠ পেরিয়ে যাওয়া। ওই যে পদ্ম পুকুরের পার্শ্বে ছুটে বেড়াতে, প্রকৃতির কী মোহনীয় লোকগাঁথা যেন । ফুল ফোটার সময় এলে দূর থেকে পদ্ম পুকুরের সৌন্দর্য্য দেখতে অনেকে ছুটে যেত।
এক সময়ে সীতাকুণ্ড উপজেলার অনেক গ্রামে গোলাপী রংয়ের পদ্মফুল দেখা যেত। বিশেষ করে মুরাদপুর ইউনিয়নের রহমতনগর, গোপ্তাখালী, বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের হাতিলোটা গ্রামের রাজার পুকুর, গোয়ালিয়া পুকুর, সৈয়দপুর ইউনিয়নের বাকখালী ও ফকিরহাটস্থ ইকোপার্ক এলাকার পুকুর ও ঝিলে পদ্মফুলের মনমাতানো সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যেত। কিন্তু বর্তমান সময়ে শিল্পায়নের আগ্রাসনে পুকুর, ঝিল ভরাটের ফলে অনেকটাই বিলুপ্ত পদ্মের সৌন্দর্য্য শোভা।
লেখক ও কবি দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, এক সময়ে অবসাদগ্রস্ত প্রকৃতিপ্রেমী মানুষরা নিজের ক্লান্তি ভুলে মনকে প্রফুল্ল করতে ছুটে যেতেন পদ্মপুকুরের সৌন্দর্য্য উপভোগে। তারা অপলক দৃষ্টিতে পদ্ম পুকুরের দিকে তাকিয়ে এক স্বর্গীয় সুখ অনুভব করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে সীতাকুণ্ডের গ্রামীণ জনপদ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পদ্মফুল।
সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাফকাত রিয়াদ জানান, এই বিষয়ে কৃষি বিভাগের গবেষণা ও উদ্যোগের প্রস্তাব রাখবো। ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে অন্তত উপজেলার যে কেয়কটি পদ্মপুকুর অবশিষ্ট আগে তা রক্ষার উদ্যোগ যেন নেয়া হয়।

x