বিরোধীদলকে কথা বলতে দেয়ার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

একাদশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা

বুধবার , ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৯:৫১ অপরাহ্ণ
813

একাদশ জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত করতে বিরোধী দলকে কথা বলতে দেয়ার দাবি ওঠার পর এক্ষেত্রে নিজের অবস্থান থেকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় আজ বুধবার (৩০ জানুয়ারি) যেখানে সরকারি দলের একচেটিয়া অবস্থানের বিপরীতে থাকছে ক্ষুদ্র বিরোধী দল।

বিএনপিবিহীন দশম সংসদে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসলেও সরকারে যোগ দেয়ায় তারা প্রকৃত বিরোধী দল হয়ে উঠতে পারেনি, সেই স্বীকারোক্তি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের কাছ থেকেও এসেছিল। বিডিনিউজ

২২টি আসনে জয়ী জাতীয় পার্টি এবারও বিরোধী দলের আসনে থাকলেও নেই এবার সরকারে। ভোটে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী আটজনের শপথ না নেয়ার প্রেক্ষাপটে এককভাবে ২৫৮টি আসনে জয়ী আওয়ামী লীগ তাদের জোটসঙ্গী দলগুলোকেও ঠেলে দিয়েছে বিরোধী দলের আসনে।

বুধবার অধিবেশনের শুরুতেই নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয়। এই দুটি পদে আগের সংসদের শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ফজলে রাব্বী মিয়াই থাকছেন।

তাদের ধন্যবাদ দেয়ার আলোচনায় নতুন সংসদ কার্যকর করার কথা উঠে আসে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের নেতাদের কথায়।

বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদের অনুপস্থিতিতে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেন, ‘সংসদে সরকারি দলের সদস্য সংখ্যা আড়াইশ’র বেশি। সেই তুলনায় আমাদের সদস্য সংখ্যা কম। কিন্তু আমরা মনে করি, এটা কখনোই সংসদ প্রাণবন্ত করার ক্ষেত্রে বাধা হবে না।’

নতুন করে পুরনো দায়িত্ব নেয়া শিরীন শারমিনের কাছে নিরপেক্ষ আচরণের প্রত্যাশা রাখেন জাতীয় পার্টির নেতা কাদের।

তিনি বলেন, ‘সংসদকে যদি প্রাণবন্ত এবং সকল কিছুর কেন্দ্রবিন্দু করতে হয় তাহলে আমাদের বলতে দিতে হবে এবং যথেষ্ট সময় দিতে হবে। আমরা যদি আমাদের কথাগুলো তুলে ধরতে পারি, সংসদ প্রাণবন্ত হবে। জনগণও সংসদের প্রতি আগ্রহী হবে।’

সরকারি দলের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘আমরা যে কথাগুলো সংসদে উত্থাপন করব, সেগুলো যেন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় এবং গ্রহণ করা হয়। তাহলেই মানুষের আস্থা বাড়বে এবং সংসদ সকল কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।’

আওয়ামী লীগের সঙ্গে একসঙ্গে ভোট করেও সংসদে ভিন্ন ভূমিকা রাখতে যাওয়া ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুও সরকারের গঠনমূলক বিরোধিতার সুযোগ পাওয়ার আশা রাখেন।

তাদের বক্তব্যের পর আলোচনায় দাঁড়িয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এইটুকু আশ্বাস দিতে পারি, আমাদের বিরোধী দলে যারা আছেন, তারা সমালোচনা যথাযথভাবে করতে পারবেন। এখানে আমরা কোনো বাধা সৃষ্টি করব না। অতীতে কোনো দিন বাধা আমরা দিইনি, (আগামীতে) দেব না।’

সংসদে সবাই যেন সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘সংসদ নেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব সংসদের সকল সদস্যের অধিকার যেমন দেখা এবং সেই সাথে সকল সদস্য যাতে সমানভাবে সুযোগ পায়, অবশ্যই স্পিকার হিসেবে আপনি সেটা দেখবেন। এ ব্যাপারে আমরা আপনাকে সব রকমের সহযোগিতা করব।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী করায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত অনেক চড়াই-উৎড়াই পার হয়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ মা-বোনেরা, প্রথম যারা ভোটার তারা, তরুণ ভোটাররা সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। একটি সফল নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীল গণতন্ত্রের ওপর জোর দেন টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়া শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার পথে এগিয়ে চলার অঙ্গীকার করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যেহেতু ভোট দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচিত করে এবং আমরা যারা প্রতিনিধিরা বসেছি সকলেই কিন্তু আমরা বিভিন্ন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছি। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে আমরা আমাদের স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করব। আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে আমাদের ভোটাররা যারা নির্বাচিত করে এখানে পাঠিয়েছে, তাদের সার্বিক উন্নয়ন, তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং দেশে যেন একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।‘

‘অতীতে একটা চমৎকার পরিবেশে সংসদ পরিচালিত হয়েছিল বলেই আমরা মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছিলাম। আবার আমরা যেহেতু সংসদে নির্বাচিত হয়ে এসেছি, অবশ্যই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। এটাই আমাদের লক্ষ্য,’ বলেন শেখ হাসিনা।

x