বিদেশ ফেরত রোহিঙ্গাদের নিয়ে যত আতংক

ভারত থেকে টেকনাফে অনুপ্রবেশ ৪ সদস্যের এক পরিবারের

রফিকুল ইসলাম, উখিয়া

মঙ্গলবার , ২৪ মার্চ, ২০২০ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
90

সমপ্রতি বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসা প্রবাসীদের অনেকের পরিচয় সুনিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গাদের পরিচয় শনাক্তকরণ খুবই জটিল হয়ে উঠেছে। এসব কথিত বাংলাদেশি রোহিঙ্গারা বিশ্বব্যাপী চলমান সংক্রমণ করোনা ভাইরাস ছড়ানোর অন্যতম বাহক বলে ধারণা স্থানীয় নাগরিক ও আশ্রিত রোহিঙ্গাদের। এরই মধ্যে গতকাল গতকাল সোমবার ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে ৪ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবার অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে টেকনাফের ২৪ নং ক্যাম্পে স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহাম্মদ বলেন, অনেক রোহিঙ্গা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। তাদের অধিকাংশ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ মালয়েশিয়ায় প্রচুর রোহিঙ্গা রয়েছে। কিছু রোহিঙ্গা রয়েছে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ নানা দেশে।
তিনি বলেন, এসব প্রবাসী রোহিঙ্গারা কঙবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবানসহ বিভিন্ন জেলার ভুয়া ঠিকানা দিয়ে পাসপোর্ট করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিল। আনরেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প কমিটির সেক্রেটারি মো. নুর বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গাদের অনেকে বিভিন্ন দেশ থেকে ক্যাম্পগুলোতে তাদের নিকটজন, আত্মীয় স্বজনদের কাছে নিয়মিত আসা যাওয়া করে থাকে। বিদেশ ফেরত এসব রোহিঙ্গাদের নিয়ে ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা আতংকে রয়েছে।
উখিয়া টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গার বসবাস। সরকার ১৭ মার্চ থেকে দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করলেও এর আগে থেকে বিদেশ ফেরত যেসব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে ক্যাম্প প্রশাসন। ক্যাম্পে আত্মগোপনে থাকা প্রবাসী রোহিঙ্গাদের তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করার জন্য ব্লক ভিত্তিক রোহিঙ্গা মাঝিদের নির্দেশ দিয়ে ক্যাম্পে জারি করা হয়েছে সতর্ক অবস্থা।
রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান জানান, এফ ব্লকের নুরুল ইসলামের ছেলে এবাদুল্লাহ ১৫ দিন আগে সৌদি আরব থেকে এসেছেন। বর্তমানে সে ক্যাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া ফেরত অপর রোহিঙ্গাকে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রাখা হয়েছে বলে উখিয়া ইউএনও মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান।
ওদিকে রোহিঙ্গা নেতারা জানান, গতকাল সোমবার ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে ৪ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবার অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে টেকনাফের ২৪ নং ক্যাম্পে স্বজনদের কাছে আশ্রয় নেয়। ভোর ৫টার দিকে খুলনা হয়ে সড়ক পথে গাড়িযোগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে (২৪ লেদা ই ব্লকে) মোস্তাক আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তির বাসায় উঠে পরিবারটি। দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় একজন চার সদস্যের ঐ পরিবারকে (মো. ছাদেক (২৫), তার স্ত্রী হোসনেআরা (২৩), শিশুসন্তান পারভেজ ( ৩) ও সাজেদা (১০ মাস) কে ক্যাম্প ইনচার্জের) অফিসে নিয়ে যান। টেকনাফের নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল হান্নান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, রোববার রাতে ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে বাংলাদেশে আসেন তারা। তাদের ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, গত ১৯ মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী উখিয়ার বিভিন্ন ঠিকানায় ১০২ জন একাধিক দেশ থেকে দেশে এসেছেন। তন্মধ্যে ৫১ জন প্রবাসীকে কোয়ারান্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নজনের দাবির বরাত দিয়ে ইউএনও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প লক ডাউন করার আপাতত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও চলমান কার্যক্রম আরো জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।