বিদেশে অর্থ পাচার রোধ করতে হবে

বৃহস্পতিবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে সম্পদ ও সম্ভাবনার কমতি নেই। অফুরন্ত সম্পদ রয়েছে তা না হলে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। প্রতি বছরই হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা এই অর্থ পাচারের কারণ সম্পর্কে বিনিয়োগ পরিস্থিতির স্থবিরতা ও সুশাসনের অভাবকে দায়ী করছেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতারও তীব্র অভাব রয়েছে। এখন যে হারে অর্থ পাচার হচ্ছে তার মূল কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। কোনো উদ্যোক্তাই বিনিয়োগে ভরসা পাচ্ছেন না। দুঃখের বিষয় যে অর্থ আমাদের দেশেই বিনিয়োগ হতে পারত এবং অর্থনীতি গতিশীল হতো সে অর্থে অন্য দেশের অর্থনীতি ফুল ফেঁপে উঠছে। দেশগুলো তাদের অর্থের বিনিয়োগের নিশ্চয়তা দিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে কিভাবে অর্থ এসেছে এনিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। এমনকি তারা অর্থের তথ্য গোপন রাখে। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে ভাবেই সংশ্লিষ্ট দেশে অর্থ পাচার হোক না কেন, এ নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই। কারণ পাচার হয়ে আসা অর্থ তাদের দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে এবং অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে-এটাই বড় কথা। অন্যদিকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ দূরে থাক, উল্টো বানের পানির মতো অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। এক তথ্যে দেখা গেছে দেশ থেকে অর্থ পাচারকারীদের এখন পছন্দের জায়গা সিংগাপুর, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়া মালয়েশিয়া কানাডা ও আমেরিকায়ও অর্থ পাচার করা হয়। আর সুইচ ব্যাংক তো আছেই।
মালয়েশিয়া তো দেশের অনেক হোমরা-চোমরা ব্যক্তির সেকেন্ড হোম। বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ করতে দেশটি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে রেখেছে। তারা সেকেন্ড হোম প্রকল্পও চালু করেছে। কানাডায় বাংলাদেশি ধনকুবেররা অর্থ পাচার করে বেগমপাড়া গড়ে তুলেছেন। কানাডার সরকার ও তাদের বেশ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। সেখানে নাগরিকত্ব ছাড়া এমনিতেই ছয় মাস বসবাস করা যায়। এজন্য ব্যাংক হিসাব ও বাড়ি কেনার সুযোগ দেয়া হয়। সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে সেখানে দেশি বিদেশি ভেদাভেদ করা হয় না। আমেরিকায়ও সম্পত্তি কেনা সহজ। ফলে দেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে স্বজনদের নামে বা নিজনামে পাচারকারীরা বাড়ি কিনতে পারে। সম্প্রতি আবাসন খাতে বাংলাদেশিরা প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে বলে এক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সিংগাপুরে তো বিদেশীদের বিনিয়োগকৃত অর্থের করই দিতে হয় না। এসব তথ্য উপাত্ত থেকে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে বাংলাদেশে অর্থ বিনিয়োগের কোনো সুষ্ঠু ও অনুকূল পরিবেশ না থাকার কারণেই প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অথচ পাচার হওয়া অর্থ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহমূলক পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে পাচার হওয়া অর্থের স্রোত অনেকটাই রোধ করা যেত।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x