বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে আস্থা প্রতিষ্ঠায় সার্বিক পরিবেশের উন্নতি ঘটানো জরুরি

সোমবার , ২৮ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ
42

২০২০ সালের মধ্যে স্থানীয় ও বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ২৯ বিলিয়ন (২ হাজার ৯০০ কোটি) ডলার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ)। সংস্থাটির স্ট্র্যাটেজিক রোড ম্যাপ অ্যান্ড কর্পোরেট প্ল্যান ২০১৭-২১-এর খসড়ায় এ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনের কৌশলগুলো এখন পর্যালোচনা করে দেখছে সংস্থাটি। সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭ সালে গৃহীত স্ট্র্যাটেজিক রোড ম্যাপ অ্যান্ড কর্পোরেট প্ল্যান ২০১৭-২১-এর খসড়া এখনো চূড়ান্ত হয় নি। এখন সেটি পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পর্যালোচনায় পরিকল্পনার সময়সীমার পাশাপাশি বিনিয়োগের লক্ষ্যেও পরিবর্তন আসতে পারে। পত্রিকান্তরে গত ২২ অক্টোবর এ খবর প্রকাশিত হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে বিশ্বের সম্ভাবনাময় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাণিজ্যিক আইনকানুনে দুর্বলতার জন্য এ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তারা বলছেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখানে পদে পদে বাধা। চুক্তি আইনের দুর্বলতা, কর আইনে জটিলতা, নিবন্ধন পেতে বিলম্ব এবং গ্যাস বিদ্যুতের সংযোগে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের হয়রানিতে পড়তে হয়। অন্যদিকে ঘুষ, দুর্নীতি, বন্দরে দীর্ঘসূত্রতা, বাংলাদেশের নিয়মিত সমস্যা। এ কারণে সহজে ব্যবসা করার দিক থেকে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এত নিচে। এ অবস্থার উত্তরণে দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক ও কর্পোরেট আইনে বড় ধরনের সংস্কার আনতে হবে। এ কথা ঠিক, সরকার কিছু কাজ করেছে নীতি সংস্কারের ক্ষেত্রে। কিন্তু সেসব সংস্কার কতটা সুফল দেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, একজন বিনিয়োগকারীর কারখানা স্থাপনের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন জমি। তারপর পণ্য পরিবহনের জন্য প্রয়োজন উন্নত অবকাঠামো। তাই বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উন্নত অবকাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ পেতে কত সময় অপেক্ষা করতে হয় ও ভোগান্তি পোহাতে হয় তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে গ্যাস বিদ্যুৎ সংযোগ, পরিবেশ ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ অন্যান্য সুবিধা ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসতে হবে। এর বাইরে বিনিয়োগ নীতি সংস্কার করে যুগোপযোগী ও প্রতিযোগিতামূলক করা অপরিহার্য। দক্ষ জনশক্তিও বিনিয়োগের পূর্বশর্ত। এজন্য কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। কাঁচামালের অভাব বিনিয়োগে বিরূপ প্রভাব ফেলে। দেশে বর্তমানে স্থিতিশীলতা থাকলেও আস্থার সংকট কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য উন্নত বিমানবন্দর একটি অন্যতম বার্তা। একজন বিদেশি প্রথমে বিমানবন্দর দেখেই সংশ্লিষ্ট দেশ সম্পর্কে ধারণা পান। তাই বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা উন্নত করা একান্ত প্রয়োজন। আশার কথা, জমি সংকট সমাধানে অর্থনৈতিক, অঞ্চল কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। কর্পোরেট কর কমানোসহ চিহ্নিত সব প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করলে দেশে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলের অভাব। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শুধু সস্তায় শ্রম পাওয়াটাই যথেষ্ট নয়। এজন্য পেশা ও পণ্যভিত্তিক ডিপ্লোমা প্রযুক্তি বিদ্যা চালু করা বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম পূর্ব শর্ত। বিশ্বব্যাংকের পলিসিতে বলা হয়েছে, জাতীয়ভাবে ডিপ্লোমা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই স্থানীয় ও বিশ্ব বাজারের চাহিদা ভিত্তিক আধুনিক, সময়োপযোগী, শিল্প কারখানার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও মানসম্মত ডিপ্লোমা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
আশার বিষয় হলো, সরকার বেজা গঠনপূর্বক কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করেছে। সেখানে বেশকিছু শিল্প গ্রুপ কারখানা স্থাপন করে পণ্য উৎপাদন করছে। তৈরি পোশাক শিল্পসহ বড় বড় শিল্প এখন অর্থনৈতিক জোনে যেতে আগ্রহী। তবে স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা বেজায় না গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সেখানে যেতে আগ্রহী হবে না। এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

x