‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহী করতে কাজ করছে সরকার’

শুক্রবার , ২২ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
32

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহী করতে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের স্লোগান-গ্রাম হবে শহর। সুতরাং গ্রামেই শহরের সব সুবিধা থাকবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় দেশ বাংলাদেশ। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। তাই বিনিয়োগকারীদের সরকার সবধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তত রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরাত্রি হলে তিনদিনব্যাপী সপ্তম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এঙপো-২০১৯’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ দেশ। এরপরেও খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশ। বাংলাদেশ সব ধরনের কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি করছে। গত বোরো মৌসুমে চাহিদার চেয়েও বেশি ধান উৎপাদন করেছে। কিন্তু আমাদের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় না। খবর বাংলানিউজের।
তিনি বলেন, আমরা সবাই বলেছি, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে দেখা গেল, বাজারে চালের মূল্য অনেক বেড়েছে। আমরা গত বোরো মৌসুমে অনেক নিয়েছি, কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পায়। চলতি আমন মৌসুমে ছয় লাখ টন ধান কিনবে সরকার। ৪০০ টাকা হারে কৃষকদের কাছ থেকে এ ধান কেনা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডায়ানামিক নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েই চলেছে। এসডিজি অর্জনে খাদ্য নিরাপত্তাও একটি অংশ। জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি পণ্যের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের চাহিদা চার মিলিয়ন আলু। কিন্তু অতিরিক্ত ৪ মিলিয়ন আমরা উৎপাদন করেছি। অ্যাগ্রোতে রপ্তানি করার ব্যাপাক সুযোগ। লক্ষ্য অর্জনে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার বিশ্বদীপ দে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ১৯৭১ সাল থেকে। আমাদের দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ডায়নামিক নেতৃত্বে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। ‘অ্যাগ্রো খাতে কয়েক বছরে বাংলাদেশ খুব ভালো করেছে। রপ্তানি আয় বেড়েছে। ভারত অ্যাগ্রো খাতের বড় একটি মার্কেট। বাংলাদেশ থেকে ২১ অ্যাগ্রো পণ্য ভারতে যায়। এসময় ভারতের অ্যাগ্রো খাতে বিনিয়োগ করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলেন, বাংলাদেশ এখন ১৪৪টি দেশে কৃষিপণ্য রপ্তানি করে। তাই অ্যাগ্রো খাতে যেন কোনো কালিমা না লাগে। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান গবেষণা করে জানিয়েছে, বাংলাদেশের রপ্তানি করা গুঁড়ো হলুদে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। যা ব্যবহারে ক্যানসারও হতে পারে। তাই সবাইকে অনুরোধ করব, আমরা যাতে নিরাপদ খাদ্য সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারি, এ অঙ্গীকার হোক সবার।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টিটিভ রবার্ট ডগলাস সিম্পসন বলেন, বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্য ডায়নামিক ও পাওয়ারফুল খাত। এদেশের বেসরকারি খাত খুব ভালো করছে। অ্যাগ্রোতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্য তৈরি করতে হবে। কোয়ালিটি নিশ্চিত করলে এ খাত আরও এগিয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক এ মেলায় বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ বিশ্বের ১৫টি দেশের তিন শতাধিকেরও বেশি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর এ মেলা শেষ হবে।

x