বিক্রি হচ্ছে কৃষিজমির টপসয়েল

বোয়ালখালীতে ঝুঁকিতে উৎপাদন ও ফসল বৈচিত্র্য

মনজুর আলম, বোয়ালখালী

বৃহস্পতিবার , ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
55

স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বোয়ালখালীতে স্কেভেটর দিয়ে অবাধে কৃষিজমির টপসয়েল বিক্রির কাজে জড়িয়ে পড়ছে এক শ্রেণির অসাধু লোক।
এতে করে ভূমি আইনের লঙ্ঘন সহ এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও ফসল বৈচিত্র মারাত্মক ঝুঁকির আশঙ্কা অনেকেরই। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষ হতে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছে এলাকাবাসী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার এক শ্রেণির অসাধু লোক পশ্চিম গোমদন্ডী, চরখিজিরপুর, পোপাদিয়া, খরণদ্বীপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় স্কেভেটর দিয়ে ফসলী জমির উপরিভাগের উর্বরা অংশ কেটে ট্রাক-ট্রলি করে সরিয়ে নেয়ার কাজে জড়িত হয়ে পড়ছে। আর রাতের আধারে এসব মাটি সরাসরি চলে যাচ্ছে আশপাশের ইটভাটায়। তাছাড়া বসতভিটা, পুকুর ভরাট কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে এসব মাটি। রশীদ আহমদ নামের পশ্চিম গোমদন্ডী ৭ নং ওয়ার্ডের চরখিজিরপুর এলাকার এক কৃষক বলেন, আমাদের এলাকায় এক প্রভাবশালী গত কয়েকদিন যাবত ধরে অবৈধভাবে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে তা সমানতালে বিক্রি করে যাচ্ছে। এতে পার্শ্ববর্তী আমাদের অন্যান্য ফসলী জমিগুলোর উপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। প্রথমে তাদের আমরা বারণ করেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা না শুনায় বিষয়টা আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে অবহিত করেছি। কিন্তু প্রশাসনের নীরব ভূমিকাকে কাজে লাগিয়ে তারা সমানতালে এ কাজে লিপ্ত রয়েছে। এতে করে এলাকার কৃষি জমির উর্বরতা নষ্টসহ পরিবেশ আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে। এ নিয়ে জানতে চাইল গোমদন্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃৃষি শিক্ষক প্রলয় চৌধুুরী বলেন, কৃষি বিজ্ঞানের ভাষায় যে কোনো ফলনযোগ্য জমির উৎপাদন শক্তি জমা থাকে মাটির ৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত গভীরতার মধ্যে। মাটির এই অংশেই যে কোনো ফসল বেড়ে ওঠার গুণাগুণ সুরক্ষিত থাকে। বীজ রোপণের পর এই অংশ থেকেই ফসলটি প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করে। এই অংশটি একবার কেটে নিলে সে জমির আর মৃত্তিকা প্রাণ থাকে না। এমনকি ওই জমিতে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে কোনো ফসল বেড়ে উঠবে না। অথচ এখানে তাদের মাটি কাটার গভীরতা ৫ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যার ফলে সহজেই অনুমেয় এখানকার পুরো জমিটাই পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছে। জানতে চাইলে স্থানীয় ইউ পি চেয়ারম্যান মোঃ আবু তাহের এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে আমি তাদের বার-বার বারন করেছি। তারা আমার কথায় কর্ণপাত না করায় বিষয়টা আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি । বোয়ালখালী ইউ এন ও আছিয়া খাতুন দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমি খোঁজ নিচ্ছি ঘটনা যদি সত্যি হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য গত বছরের ১৭ এপ্রিল উক্তস্থানে মাটি কাটার দায়ে পশ্চিম শাকপুরার মাহবুবুল আলমের ছেলে ব্যবসায়ী মো. জালাল উদ্দিনকে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০এর ১৫(১) ধারায় ৫০হাজার টাকা জরিমানা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) একরামুল ছিদ্দিকের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় মাটি কাঠায় ব্যবহৃত একটি স্কেভেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেন আদালত।