বিআরটিএতে ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, ক্ষমতা নেই

অভিযানে ভাটা, নতুন আইনের সুফল প্রশ্নবিদ্ধ

ইকবাল হোসেন

রবিবার , ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে (বিআরটিএ) একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদায়িত থাকলেও কোন কাজ করতে পারছেন না। নিয়ম মোতাবেক ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা না পাওয়ায় প্রায় তিন মাস ধরে অলস সময় কাটাচ্ছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হলেও কোন সুফল মিলছে না। নতুন সড়ক পরিবহন আইনের বাস্তবায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর প্রাণ হারানোর পর রাজপথে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। রাজপথে শিক্ষার্থীরা যানবাহনকে শৃংখলা মেনে চলতে বাধ্য করেন। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য হন চালকরা। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিআরটিএ-তে নতুন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদায়ন করে মন্ত্রণালয়। ওই বছরের ৩০ আগস্ট থেকে চট্টগ্রামে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু করে বিআরটিএ’র দুই ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল হক মীর ও এস এম মঞ্জুরুল হক। পরবর্তীতে আরো এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানাকে পদায়ন করা হয় চট্টগ্রাম বিআরটিএতে। তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় লাগাতার অভিযান শুরু করে। লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালনা, ফিটনেস, ট্যাক্সটোকেন, বীমা সনদ হালনাগাদ না থাকা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা, গাড়িতে রুট পারমিটের অতিরিক্ত আসন সংযোজন, অনুমোদিত রুট না মেনে গাড়ি চালনা, সিটবেল্ট না বাধা, হেলমেট না পড়ে মোটর সাইকেল চালনা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, প্রতিযোগিতা দিয়ে গাড়ি চালানোসহ নানান অভিযোগ নজরে আসে আদালতের।
সূত্রে জানা গেছে, এদিকে বছর না পেরুতেই গত আগস্ট মাসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল হক মীর ও সোহেল রানাকে বদলী করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাদের স্থলে কাউকে পদায়িত করেননি। অন্যদিকে গত নভেম্বর মাসের শুরুতে আরেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মঞ্জুরুল হককে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলী করা হয়। তম্মধ্যে জিয়াউল হক মীর বর্তমানে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলা এবং এস এম মঞ্জুরুল হক রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বরকল উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে সিনিয়র সহকারী সচিব নুরের জামানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চট্টগ্রাম বিআরটিএতে পদায়ন করা হলেও অদ্যবধি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এতে করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করার সক্ষমতা হারায় চট্টগ্রাম বিআরটিএ। আবার গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের সুফল পাওয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ সুযোগে চট্টগ্রাম বিআরটিএতে নতুন করে স্থান করে নিয়েছে পুরোনো দালালরা।
বিআরটিএর তথ্য মতে, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দায়িত্ব পালন করা তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রায় ৮ হাজার মামলার বিপরীতে প্রায় দুই কোটি টাকার অধিক জরিমানা আদায় করেন। তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সড়কে শৃংখলা ফেরানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিআরটিএকে দালালমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরের জামান দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে যোগদান করেছি। কিন্তু এখনো ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা না পাওয়া ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করতে পারছি না। তবে আমি যোগদানের পরেই চট্টগ্রাম বিআরটিএ থেকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পত্র দেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব নাজমা নাহার শনিবার রাতে দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পাওয়ার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমোদন চেয়ে চিঠি দিতে হয়। মন্ত্রণালয়ে চিঠি এলে কেবিনেটের অনুমোদন সাপেক্ষে ১৫-২০ দিনের মধ্যেই যে যে বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা চাওয়া হয় সে বিষয়ে অনুমতি দিয়ে দপ্তরগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়।’ পরে খোঁজ নিয়ে তিনি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন, ‘চট্টগ্রাম বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা চেয়ে দেওয়া চিঠিটি তারা পেয়েছেন। ফাইলটি বর্তমানে কেবিনেটে আছে।’

x