বায়ু দূষণ রোধে উদ্যোগ নিতে হবে

রবিবার , ১ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ
16

দৈনিক আজাদীতে গত ২৩ নভেম্বর ‘ক্ষতিকর বস্তুকণা বাড়ছে বাতাসে’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর পরিবেশ অধিদপ্তর নতুন করে সমীক্ষা চালায়। এতে পরিবেশ অধিদপ্তর এমন কতগুলো স্থানে ভয়াবহ চিত্রের সন্ধান পায়, যেখানে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ধুলোবালি রোধকল্পে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
দৈনিক আজাদীতে গত ২৯ নভেম্বর প্রকাশিত অন্য এক খবরে বলা হয়, নগরীর বিভিন্ন স্থানে বায়ু দূষণ ঠেকাতে অবশেষে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। নগরজুড়ে খোড়াখুঁড়িতে সৃষ্ট ব্যাপক ধুলোবালিতে পানি ছিটানো শুরু করেছে সংস্থাটি। পরিবেশ অধিদপ্তরের সতর্কতার পর এই উদ্যোগ নিলো তারা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপর থেকে ঝর্ণার মতো পানি ছিটানো হলে সুফল আরো বেশি মিলতো।
চট্টগ্রাম নগরী ধীরে ধীরে ঘনবসতিপূর্ণ নগরীতে পরিণত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকার পরে এই নগরী দূষিত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। চট্টগ্রাম শহরের পানি ও বায়ু দিন দিন দূষিত হচ্ছে। বেশিরভাগ নাগরিকই জানেন না যে তাঁরা নিজেরাও তাঁদের নিষ্পাপ সন্তানেরা এই দূষিত বায়ুর কারণে এক ধীর বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
এখানেই শেষ নয়, এ নগরীতে এমন অনেক কিছু উপাদান ও পদ্ধতি আছে যেগুলোর সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ায় বায়ু অনবরত দূষিত হয়ে পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলছে। এর মধ্যে রয়েছে সংকীর্ণ রাস্তা, যানজট, মোটরযানে নিম্নমানের অথবা মবিলমিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পুরনো মোটরযান, ঠাসাঠাসি যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা, খোলা ট্রাকে মাটি, বালি, আবর্জনা, কয়লা, সিমেন্ট ইত্যাদি পরিবহন, পুরানো লক্কড়ঝক্কর মার্কা শিল্প-কারখানা, খোলা জায়গায় কঠিন ও তরল বর্জ্য আবর্জনা পড়ে থাকা, যেসবের পচন-আবর্জনা পোড়ানোর ধোঁয়া ও গন্ধ, সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না করা, অব্যবস্থাপনার কারণে কঠিন বর্জ্য ফেলার স্থাপনাগুলোতে আবর্জনা খোলা অবস্থায় পচতে থাকা, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা খোঁড়াখুড়ি এবং তা থেকে ধুলো-ময়লা-কাদা সৃষ্টি, খোলা জায়গায় নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা, খোলা পয়:প্রণালী ও নর্দমা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক গণশৌচাগার না থাকার কারণে খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ, কাঁচাবাজারের পচনশীল বর্জ্য এবং উন্মুক্ত জায়গায় গরু-ছাগল জবাই থেকে রক্ত যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইত্যাদি।
দূষিত বায়ু ও পানি নানা রোগব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক নাগরিক-সব শ্রেণির মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হচ্ছে, কমে যাচ্ছে আয়ু। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, উঁচুমাত্রার দূষণের কারণে প্রতিবছর আনুমানিক ২০ হাজার নাগরিকের অকাল মৃত্যু ঘটছে। দূষণের কারণে স্বাস্থ্যখাতে প্রতিবছর এক হাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। বায়ু দূষণের কারণে ক্যান্সার, ফুসফুসের রোগ, চোখের রোগ, চর্মরোগ শ্বাসনালীর রোগ, মাথাব্যথা, টাইফয়েড, শ্বাসনালী প্রদাহ, অবসাদ-ক্লান্তি, উচ্চ রক্তচাপ, হাইপারটেনশান, হৃদরোগ, পেটের অসুখ, হাঁপানি ইত্যাদি রোগে নির্দোষ নাগরিকেরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
দূষিত বায়ুতে গরিব, নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ ও ছোট্ট শিশুরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিচর্যা পাওয়ার সুযোগও তাদের জন্য অপর্যাপ্ত। দূষণের মাত্রা অব্যাহত থাকলে কিংবা বাড়তে থাকলে নগরীর নাগরিকবৃন্দ কোনো না কোনো ধরনের অসুস্থতা বা বিপজ্জনক স্বাস্থ্য জটিলতা থেকে রক্ষা পাবে না। দূষণের কারণে আমাদের দৈহিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য বায়ু দূষণ কমাতে উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

x