বাড়লো আরো ২১৫ আসন

নগরীর ৯ সরকারি স্কুলে ভর্তি, থাকছে হেল্পলাইন

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ at ৩:১৩ পূর্বাহ্ণ
105

নগরীর ৯টি সরকারি স্কুলে ভর্তিতে ভাগ্য খুলে গেলো আরো ২১৫ শিক্ষার্থীর। স্কুলগুলোর আসন সংখ্যায় নতুন করে এই ২১৫টি আসন যোগ হয়েছে। আজাদীকে গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সরকারি স্কুল ভর্তি পরীক্ষা তদারকির দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান। ৯টি স্কুলে প্রথম দফায় (৫ম থেকে ৯ম শ্রেণিতে) মোট ৩ হাজার ৮৩৫টি শূন্য আসনের তথ্য জানানো হয়। এখন আসনের এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫০টিতে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৫ম শ্রেণিতে ৪০টি, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে ৬০টি করে ১২০টি এবং ৮ম শ্রেণিতে ৫৫টি নতুন আসন যোগ হয়েছে। তবে নবম শ্রেণির আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। এই ২১৫টি’র সবকটি আসনই বেড়েছে বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। অন্যান্য স্কুলগুলোতে প্রথম দফায় প্রদত্ত আসন সংখ্যায় পরিবর্তন আসেনি।

আসন বৃদ্ধির পর শ্রেণিগুলোর মোট শূন্য আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পঞ্চমে ২ হাজার ৪০, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৭৪৫, সপ্তমে ১৪০ ও অষ্টম শ্রেণিতে ২৪৫টি।

থাকছে হেল্প লাইন : ভর্তি সংক্রান্ত সহায়তায় হেল্প লাইনও থাকছে এবার। ০১৭২০৬৯১৭৪৩ এবং ০১৯৭১২০৮৫৯১ মোবাইল নম্বরে ফোন করে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য সহায়তা পাওয়া যাবে।

ভুল সংশোধনের সুযোগ নেই : অনলাইনে পূরণ করা আবেদন ফরম ভুল হলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকছে না বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান। তাই অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণকালে অভিভাবকদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক। জেলাপ্রশাসনের তথ্যমতেসাবমিট করার পর আবেদন ভুল হলে পুনরায় নতুন ভাবে (শুদ্ধ) আবেদন করতে হবে ভর্তিচ্ছুদের। তবে যেহেতু আবেদন সাবমিট করার পর টেলিটকের মাধ্যমে ফি প্রদানের নিয়ম রয়েছে, সেহেতু আবেদন ভুল হলে ফি প্রদান না করে পুনরায় নতুন করে সঠিক ভাবে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশিহ্মষ্টরা।

ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নিষিদ্ধ : পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর ও স্মার্ট ঘড়িসহ যাবতীয় ইলেকট্রনিকস ডিভাইসের ব্যবহার নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে জেলাপ্রশাসন।

কোটা : ভর্তিতে সরকারি বিধি মোতাবেক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/নাতিনাতনি কোটা ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী কোটা ২ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম মহানগর এলাকাধীন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকশিকিা ও কর্মচারির সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ কোটা অনুসরণ করা হবে।

৬ষ্ঠ শ্রেণি ভর্তিতে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির মোট আসনের ১০ শতাংশ কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংযুক্ত ৫ম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ কোটার সুযোগ পাবে না। বিভিন্ন কোটায় নির্বাচিত শি ার্থী ও তার অভিভাবককে কোটার সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (ডকুমেন্ট) মূলকপিসহ ফলাফল প্রকাশের পরদিন সকাল দশটায় চট্টগ্রাম জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমানের কক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে। কোটার সমর্থনে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে ভর্তির অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

উল্লেখ্য, গতবারের মতো এবারও তিন দফায় নেয়া হচ্ছে সরকারি স্কুলগুলোর ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষা গ্রহণের সুবিধার্থে গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারও স্কুলগুলোকে তিনটি ক্লাষ্টারে (গ্রুপে) বিভক্ত করা হয়েছে। আর প্রতিটি ক্লাষ্টারের জন্য একবার করে পরীক্ষা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিন দফায় পরীক্ষা নেয়ার জন্য একটি শ্রেনির তিনটি আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। অন্যদিকে, জেএসসি/জেডিসি’র ফলাফলের ভিত্তিতে নবম শ্রেণিতে ভর্তির নিয়ম রয়েছে। ফলে এ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কোন পরীক্ষা নেয়া হবে না।

আবেদন ও পরীক্ষার সময়সূচি : জেলাপ্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৯, ২৩ ও ২৭ ডিসেম্বর তিন দফায় এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ৩০ নভেম্বর থেকে অনলাইনে ও টেলিটকের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ১৪ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ থাকছে।

x