বাহুলীকে দুগ্ধগ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন সৌখিন খামারী রবিন দাশ

শফিউল আজম : পটিয়া

সোমবার , ৯ মার্চ, ২০২০ at ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ
77

নিজের পরিবারে দুধের চাহিদা মেটাতে ২০১৭ সালে এক লাখ ৪০ হাজার টাকায় একটি গাভী কিনে বেকার যুবক রবিন দাশ। পিতার দেয়া টাকায় এ গাভী থেকে প্রতিদিন ১২-১৪ লিটার করে দুধ পেতে থাকে সে। এতে তার গাভী পালনের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। স্বপ্ন বুনে এলাকায় একটি খামার গড়ে তুলার। এর ৫/৬ মাস পর আরো ২টি গাভী কেনা হয়। এলাকায় দুধের খুব সংকট। এ সংকট দূর করতে ও তার নিজ গ্রামে একটি বহুমুখী আদর্শ খামার গড়ে তুলতে কাজ করছেন তিনি। পটিয়া পৌরসদরের বাহুলী গ্রামে একটি বহুমুখী আদর্শ খামার গড়ে তুলে এবং দুধের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রতিদিন ৫শ’ লিটার দুধ উৎপাদনের মাধ্যমে নিজ গ্রামকে ‘দুগ্ধগ্রাম’ হিসেবে গড়ে তুলার স্বপ্ন দেখার কথা জানালেন ওই এলাকার সৌখিন খামারী রবিন দাশ।
পিতার পেশার হাল ধরে সার্ভেয়ার পেশায় নিয়োজিত থাকলেও এর পাশাপাশি রবিন এখন সৌখিন পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে ‘গবাদী পশুর খামার গড়ে তোলাকে। এভাবে তার খামারে একের পর এক গাভী বাড়তে থাকে। খামারের নাম দেয়া হয় ‘এ. এল. এগ্রো লিমিটেড’। বর্তমানে তার খামারে ৩২টি উন্নত জাতের গরু রয়েছে। এর মধ্যে গাভী ১৪টি, বাচুর ১৩টি, ষাড় বাছুর ৩টি এবং ১টি বড় ষাড় রয়েছে। বড় ষাড়টি জাত উন্নয়ন করার উদ্দেশ্যে বড় করে তোলা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। গরু’র পাশাপাশি তার খামারে বেশ কয়েকটি উন্নত জাতের ছাগল ও খামারের চারদিকে বিভিন্ন জাতের কলাগাছ ও পেঁপে চাষ করা হয়েছে। গবাদী পশুর কাঁচা ঘাসের যোগান দিতে বাড়ির পাশেই ২শ’ একর জায়গায় করা হয়েছে ‘নেপিয়ার’ জাতের ঘাসের চাষ। তার খামার থেকে বর্তমানে সকালে ১২০ লিটার ও বিকেলে প্রায় ৫০লিটারসহ একশত সত্তর লিটার দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে। দুধগুলো সে নিজ এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ‘বিসিক শিল্পনগরী’র একটি খাদ্য উৎপাদন কারখানায় সাপ্লাই দিয়ে থাকে। এতে ভালই কাটছে তার খামারের সব কিছু।
এ খামারে যেসব গরু রয়েছে তারমধ্যে ‘হলষ্টেন ফিজিশিয়ান’ ‘জার্সি’ ‘অষ্টেলিয়ান’ ও ‘রেড চিটাগাং’ জাতের গরু অন্যতম। ভবিষ্যতে খামারের গোবর থেকে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামে রান্নাবান্নার কাজে সাপ্লাই দেয়া, বকনা বাচুর গুলোকে গাভীতে রূপান্তর করা এবং দুধের উৎপাদন দৈনিক ৫শ’ লিটারে উন্নীত করে নিজ গ্রামকে ‘দুগ্ধগ্রামে’ রূপান্তরের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
খামারী রবিন দাশ আরো জানান, নিজের সার্ভেয়ার পেশার পাশাপাশি খামারের কাজ করা অনেক কঠিন। এর জন্য আমি নিয়মিত দুইজন কর্মচারীও রেখেছি। তারা আমার কাজে সহযোগিতা করছে। শারীরিক কষ্ট থাকলেও গবাদী পশুর খামার গড়ে আমি মানসিক অনেক তৃপ্তিবোধ করি। এখন খামারের ভবিষ্যৎ স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করাই আমার মূল টার্গেট। এ টার্গেটকে সামনে রেখেই আমি ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি সরকারিভাবে খামারীদের সহজ শর্তে ঋণসুবিধাসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর কথাও জানান।