বান্দরবানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণে উদ্যোগ নেই

স্মৃতিস্তম্ভে ঠাঁই হয়নি বীর প্রতীক টিএম আলীর নাম

বান্দরবান প্রতিনিধি

রবিবার , ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

বান্দরবানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন’গুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি আজও। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ঠাঁই হয়নি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত টিএম আলীসহ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন’গুলো অযত্ন অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে পার্বত্য এ জেলায়।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী রোয়াংছড়ি উপজেলার দূর্গম ক্যানাইজু পাড়ায় পাক বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর ছোঁড়া বোমা বিস্ফোরণের আঘাতে শহীদ হন ভারতীয় বংশোদ্‌ভদ্ভূত মুক্তিযোদ্ধা মেজর টিএম আলী। মুক্তিযোদ্ধা মেজর টিএম আলী ছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে অষ্টম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুবেদার মেজর। যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পরবর্তীতে শহীদ এই মুক্তিযোদ্ধাকে বীরপ্রতীকের খেতাব দেয়া হয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও শহীদ এ মুক্তিযোদ্ধার নাম জেলা সদরের প্রবেশমুখে শহরের বাসস্টেশনস্থ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ঠাঁই পায়নি। সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি রোয়াংছড়ি উপজেলার দূর্গম ক্যানাইজু পাড়ায় অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধার কবরও। এদিকে সম্মুখ যুদ্ধে রোয়াংছড়িতে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও নিহত হন। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে ক্যানাইজু পাড়ায় নির্যাতন এবং হত্যাযজ্ঞ চালায় পাক বাহিনী। পাহাড়ি নারীর ইজ্জত নেয়ার ঘটনাও ঘটে। আজও সেই নির্মমতার কথা ভুলেনি ক্যানাইজু পাড়ার পাহাড়িরা। খবর পেয়ে চট্টগ্রামের ধোপাছড়িতে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা ক্যানাইজু পাড়ায় ঝাঁপিয়ে পড়লে পিছু হটে পালিয়ে যায় পাক বাহিনী। পরদিন ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় বান্দরবান জেলা।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, শফিকুর রহমান বলেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা টিএম আলী বীরপ্রতীকের নাম’সহ শহীদ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। বান্দরবান জেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্নগুলোও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া দরকার। সরকারের কাছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন গুলো সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো: দাউদুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্নগুলো সংরক্ষণে জেলায় জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। বান্দরবান জেলায়ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় বান্দরবান জেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্নগুলো সংরক্ষণ করা হবে।

x