বান্দরবানে ঘরে ফিরছেন বন্যার্তরা

কাদা-মাটি সরাতে গিয়ে ভোগান্তি, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

সোমবার , ১৫ জুলাই, ২০১৯ at ৮:১১ অপরাহ্ণ
48

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে ঘরে ফিরছে দুর্গতরা। তবে প্রধান সড়ক বন্যার পানিতে প্লাবিত থাকায় বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ চালু হয়নি ৭ দিন পরও। বৃষ্টি বন্ধ হলেও সাঙ্গু নদীর পানি এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আজ সোমবার (১৫ জুলাই) প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে দুর্গতরা ঘরে ফিরলেও দুর্গতাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি মোটেও। বন্যায় ঘরবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রেখে যাওয়া কাদা-মাটি, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে গিয়ে নতুন ভোগান্তিতে পড়েছেন বন্যার্তরা।

পরিষ্কার এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে। ময়লা-আবর্জনা এবং কাদা-মাটিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বন্যায় প্লাবিত এলাকাগুলোতে।

ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি সহ পানিবাহিত নানা ধরনের রোগ ছড়ানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের ৪১টি মেডিক্যাল টিম কাজ শুরু করেছে।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বন্যায় প্লাবিত বান্দরবান সদরের আর্মীপাড়া, মেম্বারপাড়া, শেরেবাংলানগর, ইসলামপুর, হাফেজঘোনা, বনানী সমিল, ফায়ারসার্ভিস এলাকা, বালাঘাটা সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে বন্যার্তরা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ময়লা-আবর্জনা এবং কাদা-মাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন।

অনেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী এবং আসবাবপত্র সরাচ্ছেন। বন্যার পানির স্রোতে ভেঙ্গে যাওয়া ঘরবাড়ির জিনিসপত্র মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

বন্যায় ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, ইসমত আরা বলেন, ‘বন্যায় ঘরবাড়ি সব ডুবে গিয়েছিল। পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরেছি কিন্তু ময়লা-আবর্জনা এবং কাদা-মাটির দুর্গন্ধে ঘরে ঢোকা যাচ্ছে না। পানির অভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও করতে পারছি না ‘

বন্যাকবলিত আশপাশের এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। টিউবওয়েল, রিংওয়েলগুলো বন্যায় ডুবে যাওয়ায় খাবার পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে কিন্তু প্রশাসন, পৌরসভা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কেউই আসেনি। ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে দূষিত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এগুলোতে রোগব্যাধি ছড়াচ্ছে। পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে মানুষজনের মধ্যে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. অংসুই প্রু মারমা বলেন, ‘বন্যায় কবলিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানির সংকটে নানা ধরনের রোগব্যাধি দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারমধ্যে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, পেটব্যথা সহ পানিবাহিত নানা ধরনের রোগ হতে পারে। তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের ৪১টি টিম কাজ করছে। প্লাবিত এলাকাগুলোতে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সহ প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।’

x