বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৪, আটক ৫

পূজার চাঁদার টাকা আদায়

বান্দরবান প্রতিনিধি

শনিবার , ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ৩:০৭ অপরাহ্ণ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে দূর্গাপূজার ধার্য্যকৃত চাঁদার টাকা আদায় নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৪ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীররাতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানায়, শুক্রবার রাতে এগারোটার সময় বিজয় ধর ও বিধান ধর দুই ভাই মোটরসাইকেলেযোগে বাড়িতে যাবার সময় বাইশারী বাজারে বাইকের গতিরোধ করে মন্দির কমিটির সভাপতি সাধন ধর এবং সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরী বটন।

গাড়ি থেকে নামিয়ে তাদের শার্টের কলার ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় ভিতরে নিয়ে সভাপতি, সেক্রেটারিসহ ৫/৭ জন দুই সহোদরকে মারধর করেন।

এক পর্যায়ে লোহার রড সহ দেশীয় অস্ত্রমস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষই জড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষে। এ ঘটনায় ৪ জন আহত হয়।

তারা হলেন দক্ষিণ বাইশারী এলাকার বাসিন্দা শশ বিন্দুর ছেলে বিজয় ধর (৪২), বিধান ধর (৩০), মৃত বজেন্দ্র ধরের পুত্র সজল ধর (৪৫) ও বিরেন্দ্র কর্মকারের ছেলে রাজধন কর্মকার (৩০)। এদের মধ্যে বিজয় ধরকে আশংকাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী ইনচার্জ এসআই মাইনুদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার সাথে জড়িত ৫ জনকে আটক করেন।

আটককৃতরা হলো দক্ষিণ বাইশারী হরি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাধন ধর (৫২), সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরী বটন (৪০), দক্ষিণ বাইশারী গ্রামের বাসিন্দা সুবল হরি দে’র পুত্র মিটন দে (২৮), সুজন দে (৩৫), বীরেন্দ্র কর্মকারের পুত্র রাজধন কর্মকার (৩৪)।

আহত বিধান ধর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেৎ ৫ হাজার টাকা চাঁদার জন্য মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক আমাদের চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন কিন্তু ১ হাজার টাকা দিতে চাওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ ক্ষেপে যায় এবং দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করে আসছে। পূজা শেষ হলে মন্দির কর্তৃপক্ষ অন্যান্য লোকজনদের নিয়ে আমাদেরকে মারধরের জন্য কয়েক দফা বৈঠক করে।’

উক্ত ঘটনায় ৫জন সহ আরো অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আটক মন্দির কমিটির সভাপতি সাধন ধর জানান, তাদের ধার্য্যকৃত চাঁদার টাকা না দেয়ার ঘটনা সত্য। তবে তারা কেউ ঘটনা ঘটাতে চাননি। বিধান ধররাই তাদের ওপর প্রথম হামলা করলে এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যায়।

বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী ইনচার্জ এসআই মাইনুদ্দিন ঘটনার সাথে জড়িত ৫ জনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বর্তমানে আটককৃতরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের হাজতখানায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’

বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম জানান, তিনি ঘটনাটি শোনার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে নিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন এবং উভয়পক্ষকে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন। তবে বিজয় ধরের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় হামলার শিকার পরিবার তা মানতে রাজি হয়নি।

x