বাজার পরিস্থিতি অস্থির করার অপকৌশল রুখতে হবে

বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
15

আমাদের দেশের বাজার পরিস্থিতি অস্থির করার অপকৌশল চলছে। এতদিন অস্থিরতা চলছিল পেঁয়াজ নিয়ে। তারপর চাল। এবার শুরু হলো আরেক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য লবণ নিয়ে। একই রকম পরিস্থিতি। সরবরাহ সংকটের গুজবে দেশজুড়েই লবণ কেনার হিড়িক পড়ে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়তে থাকে দাম। দৈনিক আজাদীতে গতকাল প্রকাশিত খবরে বলা হয়, লবণের দাম দুইশ টাকা হবে-এমন গুজবের পর খুচরা বাজারে লবণ কেনার হিড়িক পড়েছে। গত মঙ্গলবার অনেক খুচরা বিক্রেতার মজুদও শেষ হয়ে গেছে। একেকজন ক্রেতা ৭/৮ কেজি লবণ কিনে নিয়ে যান। এই সুযোগ কিছু কিছু অসাধু বিক্রেতা প্রতি কেজি লবণে ১০-১৫ টাকা বেশি মুনাফা করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে মিল মালিকরা বলছেন, গত মাসের শেষের দিকে সোডিয়াম সালফেট এবং লবণ আমদানি বন্ধ করার নির্দেশনা দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মূলত লবণ আমদানিকারক চক্রটিই গুজব ছড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। বর্তমানে দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। এ বছর দেশের ৫৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে মজুদকৃত লবণ দিয়ে আগামী ছয় মাস নির্বিঘ্নে চলে যাবে। এছাড়া আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে নতুন লবণ আসবে বলে জানালেন তাঁরা। এদিকে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। সংস্থাটি এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাঁদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে দেশে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে। সম্প্রতি লবণ নিয়ে একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তা থেকে মুনাফা লুটের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে আমরা আশ্বস্ত এ কারণে যে সারা দেশে লবণ নিয়ে এ লংকাকাণ্ডে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর। দেশে লবণের কোনো সংকট নেই বলে প্রচার চালায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। এ নিয়ে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও। তিনি বলেন, লবণের সংকট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। দাম বাড়ারও কারণ নেই। লবণের দাম বাড়াতে একশ্রেণির ব্যবসায়ী গুজব ছড়াচ্ছেন। পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এমনিতেই শঙ্কায় রয়েছেন ভোক্তারা। এর মধ্যেই লবণ সংকটের গুজবে পণ্যটির ক্রয় বাড়িয়ে দেন ক্রেতারা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা দেশে বাজার পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তিও দেয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে লবণ নিয়ে গুজবে কান না দিতে জনগণকে আহবান জানিয়ে মাইকিং করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বর্তমানে দেশে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফেরদৌসী বেগম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাহিদার তুলনায় লবণ বেশি থাকার পরও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লবণের ঘাটতি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়াচ্ছে। দেশে লবণের সংকট নেই এবং সংকট হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
এতে বলা হয়, সিলেট অঞ্চলের কোনও কোনও স্থানে লবণের সংকট দেখা দিতে পারে বলে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী গুজব ছড়িয়ে লবণের মূল্য বাড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। লবণ চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সরকারের সার্বিক সহায়তায় লবণ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৮-২০১৯ অর্থ-বছরে লবণ মৌসুমে (নভেম্বর-মার্চ) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৬.৫৭ লাখ মে. টন। কিন্তু বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি, অর্থাৎ ১৮. ২৪ মে. টন উৎপাদিত হয়েছে। এ বছরের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে লবণের মজুতের পরিমাণ ৬.৫০ লাখ মে. টন, যা প্রায় ৫-৬ মাসের চাহিদার সমপরিমাণ।
ভোক্তাদের অভিযোগ, পেঁয়াজের পর এবার লবণ নিয়ে একটি অসাধু চক্র কারসাজি করে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরির পাঁয়তারা করছে। পেঁয়াজের এ পরিস্থিতি খানিকটা কমতে না কমতেই এখন লবণ নিয়ে কারসাজিতে ভোক্তারা রীতিমতো উদ্বিগ্ন। যারা কারসাজিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

x