বাজার থেকে বিলাসবহুল মার্কেট

ইকবাল হোসেন

বৃহস্পতিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৪:০০ পূর্বাহ্ণ
156

অর্থনৈতিক উন্নতির সোপানে পুরো বাংলাদেশ। প্রবৃদ্ধি বাড়ছে ঈর্ষণীয়ভাবে। প্রবৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে নাগরিক জীবনের আয় বেড়েছে। বেড়েছে ব্যয়ও। ধীরে ধীরে মানুষ বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। নাগরিক জীবনের সাজসজ্জায় আসছে আধুনিকতার ছোঁয়া। একসময়ে বাজারের ছোট্ট দোকান থেকে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করলেও এখন বিলাসবহুল মার্কেট তৈরি হয়েছে। যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধাও। ফলে কেনাকাটায় বিড়ম্বনাও কমে আসছে। ৬০ লাখ বাসিন্দার নগরী চট্টগ্রামেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অভিজাত বিপনী।
একসময়ে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের পাশাপাশি নগরীর নিউ মার্কেট ছিল কেনাকাটার অন্যতম স্থান। উচ্চবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত সকলেই কেনাকাটা সারতেন এখান থেকে। সুঁইসুতা থেকে শুরু করে কাপড়চোপড়, জুতা, গহনা, কসমেটিকসের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। আবার কম আয়ের মানুষের জন্য ছিল জহুর হকার মার্কেট। সময় পাল্টেছে। কেনাকাটার আভিজাত্যে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন পালক। গড়ে উঠেছে আধুনিক শপিং মলও।
স্বাধীনতা-উত্তর রিয়াজ উদ্দিন বাজারের পাশাপাশি নিউ মার্কেট ছিল উচ্চবিত্তদের একমাত্র বিপনী। যোগাযোগ সুবিধাসহ ভৌগলিক কারণেও এই মার্কেটের গুরুত্ব ছিল। এখন নগরায়নের বিস্তৃতি লাভ করেছে। এতে নগরের প্রত্যেক জনবহুল পয়েন্টে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে নতুন নতুন মার্কেট। ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালে মিমি সুপার মার্কেট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অভিজাত পরিবারগুলো কেনাকাটার জন্য সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে ১৯৮৪ সালে জিইসি মোড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সেন্ট্রাল প্লাজা, ১৯৮৯ সালে কাজীর দেউড়িতে ভিআইপি টাওয়ার ও অ্যাপোলো শপিং কমপেক্স। মিমি সুপার মার্কেটের পর আধুনিক সুপার মার্কেট ছিল অ্যাপোলো। পরবর্তীতে নানা কারণে অ্যাপোলো শপিং জমে উঠেনি। ১৯৯৪ সালে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স। পরে ২০০২ সালে লালখান বাজারে আমিন সেন্টার, ২০০৯ সালে আগ্রাবাদে আখতারুজ্জামান সেন্টার, ২০১০ সালে নাসিরাবাদে স্যানমার ওশান সিটি, ইউনুসকো সেন্টার, ২০১২ সালে রিয়াজ উদ্দিন বাজারেই গড়ে উঠে প্যারামাউন্ট সিটি। অরো পরে মিমি সুপার মার্কেটের পাশে গড়ে উঠে আফমি প্লাজা, খুলশীতে খুলশী টাউন সেন্টার, নাসিরাবাদে ফিনলে স্কয়ার। তাছাড়া আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকার লাকী প্লাজা, ব্যাংকক-সিংগাপুর মার্কেট, ইপিজেড এলাকায় বে-শপিং ও ঝনক প্লাজা, চকবাজার এলাকায় গুলজার টাওয়ার, মতি টাওয়ার, কেয়ারি ইলিশিয়াম, সাগরিকা এলাকায় অলংকার শপিং কমপ্লেঙ, বহদ্দারহাট এলাকায় স্বজন সুপার মার্কেট ছাড়াও রিয়াজ উদ্দিন বাজার, তামাকুমণ্ডি লেইন এবং টেরি বাজারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আধুনিক অসংখ্য মল ও মার্কেট। প্রায় সবগুলো মার্কেটেই এখন দেশি-বিদেশি নামী-দামী ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া যায়। নানা ব্র্যান্ডের তৈরি পোশাক, শাড়ি, থ্রি-পিচ, শাটিং-স্যুটিং, স্বর্ণালংকার, প্রসাধনী, জুতা, খেলনার দোকান রয়েছে প্রত্যেকটি মার্কেটে।
বিপনী বিতান ওয়েল ফেয়ার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ খুরশীদ আলম বলেন, নিউ মার্কেট চট্টগ্রামের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয় মার্কেট। স্বাধীনতা-পূর্ব থেকে এখনো সেই জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। নিউ মার্কেট হচ্ছে সিডিএর জনপ্রিয় প্রকল্পগুলোর অন্যতম। বর্তমানে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। স্যাটেলাইট যুগে পা দিয়েছে বাংলাদেশ। যে কারণে নাগরিক জীবনেও একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। মানুষের একদিকে আয় বেড়েছে, অন্যদিকে খরচ করার মানসিকতাও তৈরি হয়েছে। মানুষের কেনাকাটায় বিলাসিতা এসেছে। এজন্য আধুনিক মার্কেট ও মল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। নিউ মার্কেটকেও আরো আধুনিক করার জন্য আমরা সিডিএর নতুন চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি সালেহ আহমদ সুলেমান বলেন, চট্টগ্রাম একটি বাণিজ্যিক রাজধানী এবং দ্বিতীয় রাজধানীও। ঢাকার পরেই চট্টগ্রামের অবস্থান। সঙ্গত কারণেই চট্টগ্রামের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। তারপরেও মানুষের আর্থিক অবস্থার উপর ভিত্তি করেই মানুষ কেনাকাটা করে। চট্টগ্রামে নতুন নতুন মার্কেটও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে অভিজাত শ্রেণীর লোকজনের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ কেনাকাটা করে থাকে। কিন্তু নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা এখনো রিয়াজউদ্দিন বাজার, হকার্স মার্কেটের পাশাপাশি জেলার নানান স্থানে গড়ে উঠা মার্কেট ও দোকানগুলো থেকেই কেনাকাটা করে থাকে। দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে। শিক্ষার হার বাড়ছে। মানুষের জীবনযাত্রায় আধুনিকতার ছাপ পড়ছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। তৈরি হয়েছে ব্যয়ের মানসিকতাও। যে কারণে আধুনিক মল মার্কেটগুলোতেও লোকজনের ভিড় বাড়ছে।

x