বাজারে প্রচুর সবজি তবুও দাম চড়া

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

শুক্রবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ
4

মীরসরাইয়ে বাজারে এখন স্থানীয় ও দেশের অন্যান্য স্থান হতে সংগৃহীত শীতকালীন প্রচুর মৌসুমি শাক-সবজি ঊঠেছে। কিন্তু যে যার মত করে বিক্রি করতে থাকায় এসব শাক সবজি দিনকে দিন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে এ নিয়ে এখানকার ক্রেতাসাধারণ একদিকে দিশেহারা অন্য দিকে ক্রেতা -বিক্রেতার মধ্যে এ নিয়ে চলে বাক-বিতন্ডা। বিক্রেতারা এর জন্য চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহের অজুহাত দেখাতে থাকলেও ক্রেতারা কিন্তু বাজার মনিটরিং না থাকাকেই দায়ী করছেন বেশি। জানা যায়, মীরসরাইতে দৈনিক ও সাপ্তাহিক মিলে প্রায় শতাধিক ছোট-বড় বাজার রয়েছে।
এসব বাজারে এখন শীতকালীন প্রচুর মৌসুমি শাক-সবজিসহ অন্যান্য তরি তরকারি বেচা-কেনা হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতাদের অভিযোগ বিক্রেতারা সিন্ডিকেট কারসাজির মাধ্যমে এসব শাক- সবজির দাম বৃদ্ধি করে ক্রেতাদের ঠকিয়ে যাচ্ছে অহরহ। তারা এর জন্য সুষ্ঠু বাজার মনিটরিং না থাকাকে দায়ী করলেও বিক্রেতারা ক্রেতাদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন এ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, সৃষ্ট জলাবদ্ধতা, খরা ও বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষেত-খামার নষ্ট হওয়া ও পরিবহণ সমস্যার কারনে দর দামে কিছুটা হেরফের হচ্ছে, এ ছাড়া অন্য কিছু নয়। তবে বাজারে সরবরাহ আরো বৃদ্ধি পেলে আস্তে আস্তে এর দাম কমে আসবে বলে জানান তারা। উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজার সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে এসব সবজির দাম একেক বাজারে একেক রকম। বিক্রেতারা যে যার ইচ্ছেমত করে এসব সবজির দাম হেঁকে যাচ্ছে, আর ক্রেতারা দরদাম করেই ফিরছে। কেউ কিনছে আবার আয়ত্বের বাইরে থাকায় অনেকেই খালি হাতে অথবা চাহিদার চেয়ে কম নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এসব বাজারে এখন কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন-৬০/৭০, তিতকরলা-৭০/৮০, ফুলকপি -৫০/৬০,বাঁধা কপি-৪০/৫০, বরবটি-৫০/৬০, লাউ-৪০/৫০, পেঁপে-৩০/৪০, শসা-৫০/৬০, মুলা- ৪০/৫০, লাল শাক, মুলা শাক সহ প্রতিটা শাকের আঁটি ২৫/৩৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ বছরের এ সময়টাতে এসব মৌসুমি শাক-সবজির দাম এত থাকার কথা নয় বলে জানালেন উপজেলার আবুতোরাব হাটে বাজার করতে আসা মাওলানা আবু নছর নামের এক ক্রেতা। তার দাবি বাজারে সরবরাহ প্রচুর তারপরও কেন এসব শাক-সবজির দাম কমছে না তা মাথায় আসছেনা। তবে উপজেলা বড়তাকিয়া কাঁচা বাজারে বাজার করতে আসা কামরুন নাহার নামের এক গৃহবধুর অভিযোগ প্রশাসনের নজর না থাকার সুযোগ নিয়ে বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে এসবের দাম তাদের ইচ্ছেমত বাড়িয়ে নিচ্ছে। যা কল্পনার বাইরে। এখানে আমাদের হা-ফিত্যেশ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। এ নিয়ে এখানকার ক্রেতা সাধারণ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

x