বাংলার সেই প্রিয় মানুষটি

নরেন আবৃত্তি একাডেমি প্রযোজনা

আনন্দন প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ
1

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ভাষাবিদ ও বাচিক শিল্পী, বাংলা উচ্চারণ সংস্কারে উদ্যোগী ব্যক্তিত্ব, বাচিক শিল্প বিশেষজ্ঞ, গবেষক, লেখক একজন জনপ্রিয় অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস। বাংলা উচ্চারণ গবেষণায় তার অবদান অবিস্মরণীয়।
নরেন বিশ্বাস ১৯৪৫ সালের ১৬ নভেম্বর বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার মাঝিগাতীতে জন্মগ্রহণ করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই নরেন বিশ্বাসের নাট্যচর্চা শুরু হয়। স্কুলে ও কলেজে আবৃত্তি ও বাগ্মিতায় নানা পুরস্কার লাভ করেন। ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নানা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এম.এ পাস করেই অধ্যাপনার কাজে নিযুক্ত হন। একবছর ময়মনসিংহের পাকুন্দিয়া কলেজ, ১৯৬৭-৭৬ সাল পর্যন্ত মাদারিপুর নাজিমউদ্দিন কলেজ ও ১৯৭৬ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকালে পাকবাহিনীর হাত এড়িয়ে কোনোক্রমে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতে এসে কলকাতায় পৌছান। এসময় বাংলা বেতারের জন্য নাটক ‘কথিকা’, ‘জীবন্তিকা’, ‘নক্সা’ প্রভৃতি রচনা ও তাতে অংশগ্রহণ করেন। সে সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করতেন। গনতান্ত্রিক লেখকশিল্পী সংঘের সঙ্গেও তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসে গোর্কির মাদার অবলম্বনে ‘মা’ নাটক রচনা ও মঞ্চায়ন করেন। ১৯৭৪ সালে তিনমাস কারাবরণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হস্তক্ষেপে নিঃশর্ত মুক্তিলাভ করেন। ঢাকা শহরের বিভিন্ন নাটক, আবৃত্তি ও কথনশিল্পের প্রশিক্ষক হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন। তার রচিত গ্রন্থ:প্রবন্ধ- ‘বাংলা উচ্চারণ সুত্র’, ‘বাংলা উচ্চারণ তত্ত্ব’ ও ‘প্রয়োগবিধি তত্ত্ব’ প্রভৃতি। নাটক- ‘নিহত কুশীলিব’, ‘রৌদ্রদিন’, ‘ক্রুশবিদ্ধ শিশু’, ‘তমসীর ফাঁসি’ প্রভৃতি। এছাড়া বাংলাভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক তার ক্যাসেট প্রকাশিত হয়েছে ২০টি। ‘ঐতিহ্যের অঙ্গিকার’ শিরোনামে ১৩টি ক্যাসেট গুচ্ছের জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে কলকাতার ‘আনন্দ পুরসকার’-এ ভূষিত হন। এছাড়া ‘প্রিয় পংক্তিমালা’ ও ‘উচ্চারণ শিক্ষাবিষয়ক বক্তৃতামালা ক্যাসেট দুটিও উল্লেখযোগ্য। বিশিষ্ট খ্যাতিমান অধ্যাপক ও বাংলা ভাষাবিজ্ঞানী নরেন বিশ্বাস ১৯৯৮ সালের ২৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

নরেন বিশ্বাসের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১৬ই নভেম্বর বিকাল ৪টায় নরেন আবৃত্তি একাডেমির নিজস্ব কার্যালয়ে নরেন আবৃত্তি একাডেমি আয়োজন করেছিল এ মহান ব্যক্তিত্বের স্মরণে অনুষ্ঠান- “বাংলার সেই মানুষটি ”।
দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে কেয়া শারমিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সাহাববুদ্দীন বাবু,আমরা কজন মুজিব সেনা , চট্টগ্রাম জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান চৌধুরী। সমগ্র অনুষ্ঠান জুড়ে আয়োজন করা হয়েছিল কথামালা, আবৃত্তি, স্মৃতিপাঠ, ছোটদের বৃন্দ আবৃত্তি ও গান। অনুষ্ঠানে অতিথিরা নরেন বিশ্বাসকে নিয়ে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। নরেন বিশ্বাসের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন আকলিমা খাতুন জামফি। “ মেঝদার শেষ সংলাপ-নিখিলেশ বিশ্বাস, অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস স্মরণে-আবুল কাসেম ফজলুল হক, জীবন এতো ছোট কেন-রামেন্দু মজুমদার, নরেন-নীরব,নিভৃত সখা-আলী যাকের, আমার ছাত্র নরেন্দ্র-অনন্ত কুমার গোলদার, নরেন বিশ্বাস-আনিসুজ্জামান, জাগ্রত হোক চেতনা বহ্নি-নিখিল সেন ” শিরোনামে স্মৃতিপাঠ করেন নরেন আবৃত্তি একাডেমির প্রাঙ্গন শুভ, বিজয় শংকর চৌধুরী, কৃষ্ণা বড়ুয়া, কেয়া শারমিন, শ্রাবণী দত্ত ও শর্মিষ্ঠা বলবসু। নরেন বিশ্বাস স্মরণে শামসুর রাহমানের ‘নরেন বিশ্বাসকে মনে রেখে’ শিরোনামে আবৃত্তি করেন নাওফাহ সালসাবিল ও মুহম্মদ নুরুল হুদা এর ‘মানবঘ্রাণ’ শিরোনামে কবিতা আবৃত্তি করেন পৃথা পারমিতা।
সংগীত পরিবেশন করেন আশিক ও দীপ্ত সেন। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে নরেন আবৃত্তি একাডেমির শিশু আবৃত্তিশিল্পী-উদাইশা, ওমর, পার্থ সেন, সোহাইলা, অভ্রনীল, ফাইজান,রামিন, রিহাম ও রাওয়া।

x