বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন অভিযাত্রা শুরু করেছে

অধ্যাপক খালেদ শিশুসাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে মফিদুল হক

শনিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
13

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, গবেষক মফিদুল হক বলেছেন, বাংলাদেশ অসাধারণ একটি অভিযাত্রা শুরু করেছে। প্রাকৃতিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিকভাবে সমৃদ্ধ চট্টগ্রামও সেই অভিযাত্রার একটি অংশ হিসেবে গৌরবময় ভূমিকা রাখছে। এক সময় এ দেশ ভিন্ন মতাদর্শী কবলে অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। তা কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। লেখকরা নবধারা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সৃজন কাজ করে চলেছে। প্রকাশও হচ্ছে সেই সব মননশীলতা, সৃজনশীলতা। এখন প্রজন্মরা তা এগিয়ে নিচ্ছে। এভাবেই দেশ উপমহাদেশকে ছাপিয়ে নতুন অভিযাত্রায় বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। সংঘাতময় পৃথিবীতে যে সংকট তৈরি হয়েছে সেই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অভিযাত্রায় দেশ ও জাতির সাথে চট্টগ্রাম অসাধারণ একটি ভূমিকা পালন করছে।
গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম-সমিতি ঢাকা মিলনায়তনে চট্টগ্রাম একাডেমি প্রবর্তিত অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ শিশুসাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক রাশেদ রউফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন-চিত্রশিল্পী সবিহ্‌ উল আলম, মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক, ছড়াশিল্পী লুৎফর রহমান রিটন, শিশুসাহিত্যিক সুজন বড়ুয়া। অনুভূতি ব্যক্ত করেন পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই শিশুসাহিত্যিক দীপু মাহমুদ ও জসীম মেহবুব। সূচনা বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক অরুণ শীল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক নেছার আহমদ ও জিন্নাহ চৌধুরী, স্লোগান সম্পাদক মোহাম্মদ জহির, খালেদ পুত্র মোহাম্মদ জোবাইর, একাডেমির পরিচালক রমজান মাহমুদ, সুপ্রতীম বড়ুয়া, রোকেয়া হক, শারুদ নিজাম, এম কামাল উদ্দীন। সঞ্চালক ছিলেন বাচিকশিল্পী আয়েশা হক শিমু। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন একাডেমির আজীবন সদস্য মাজহারুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পুরস্কারপ্রাপ্তদ্বয়ের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ অর্থ তুলে দেন।
মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ ছিলেন অত্যন্ত সাদা মনের মানুষ। তাঁর নামে প্রবর্তিত এ পুরস্কার গৌরবের। দেশকে উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এ পুরস্কারের মাধ্যমে শিশুসাহিত্যিক তৈরি হবে।
ছড়াশিল্পী লুৎফর রহমান রিটন বলেন, লেখালেখিটা দলাদলি বা সংঘবদ্ধের নয়। একসাথে সবাই হাঁটবো কিন্তু সৃজনকর্ম করতে হয় নিজস্ব ও একক চেষ্টায়। একসাথে হাঁটলেও নিজের হাঁটা নিজেকেই হাঁটতে হয়। তবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকতে হবে। কেউ যদি আপনাকে ঈর্ষা করে তাহলে বুঝতে হবে আপনি ভালো লিখছেন। মূলত অবজ্ঞা, অবহেলা, অশ্রদ্ধা, কষ্ট-বেদনাকে পায়ে দলে লেখককে এগিয়ে যেতে হয়। শিল্পসাহিত্য সাধনার জন্য কষ্টসহিষ্ণু হতে হবে লেখককে।
শিশুসাহিত্যিক সুজন বড়ুয়া বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই লেখকই খ্যাতিমান। তাদের সৃষ্টি নতুন লেখকদের অনুপ্রাণিত করবে। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, কথামালা ও লেখা পাঠের আসর। এতে অংশ নেন উৎপলকান্তি বড়ুয়া, প্রণব কুমার চৌধুরী, সেলিম সোলায়মান, রেজাউল করিম স্বপন, পরিমল ধর, সমীরণ বড়ুয়া, সিরাজুল ফরিদ, জাকির হোসেন কামাল, ডা. কল্যাণ বড়ুয়া, আহসানুল হক, লিটন কুমার চৌধুরী, আজিজ রাহমান, জসীম উদ্দীন খান, রূপক কুমার রক্ষিত, আবুল কালাম বেলাল, অমিত কুমার কুণ্ডু, শিপ্রা দাশ, আমিনা রহমান লিটু, বাসুদেব খাস্তগীর, ইসমত আরা জুলী, মিলন বনিক, রুনা তাসনিমা, সালাম সৌরভ, নান্টু বড়ুয়া, পারভীন সুলতানা, মির্জা মোহাম্মদ আলী, শিবু কান্তি দাশ, সৈয়দা সেলিমা আক্তার, লিপি চৌধুরী, ফারহানা আকতার, গৌরী ভট্টাচার্য্য, নিখিল পাল, গোফরান উদ্দীন চৌধুরী, রেহানা মাহমুদ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।