বাংলাদেশে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ও নারী দিবসের প্রাসঙ্গিক ভাবনা

সালমা বিনতে শফিক

শনিবার , ৭ মার্চ, ২০২০ at ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
152

কোন এক অলস সকালে টেলিভিশনের সামনে বসে উদ্দেশ্যহীনভাবে নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের নম্বর টিপে যাচ্ছিলাম। কোন এক নম্বরে দেখা গেল বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব চলছে। সুন্দরী প্রতিযোগিতা নিয়ে কোনকালেই আগ্রহ ছিল না। তবু দেশের মেয়েরা কী করছে, কতদুর এগিয়েছে (!) একটু দেখার সাধ হল। আমি যখন দেখতে শুরু করি, ততক্ষণে সম্ভবত দুই তৃতীয়াংশ অনুষ্ঠান শেষ। জনা ছয় কি সাতেক প্রতিযোগী তাদের প্রতিভা তুলে ধরে আলো ঝলমলে মঞ্চে। কেউ নাচল, কেউ গাইল। বিচারকদের হালকা প্রশ্নের জবাব দিল। আগের প্রতিযোগীরা কি করেছে তা দেখা হয়নি। কিন্তু এই ছয় কি সাতজন যা করে দেখাল, তা দেখে শুনে কাঁদতেও বুঝি ভুলে গিয়েছিলাম। এই দশা এমন রুচি আমাদের মেয়েদের! সব মনোযোগ ওদের কেবল পোশাক আর রূপসজ্জায়। সঙ্গীত আর নৃত্যের ব্যাকরণ সম্পর্কে কোন ধারণাই রাখে না বলা যায়। শুদ্ধভাবে বাংলাটাও বলতে পারছিলনা বেশীরভাগ প্রতিযোগী। এটা নাকি প্রতিযোগিতার তৃতীয় পর্ব। তার মানে অনেক প্রতিযোগীকে টপকে এই অবস্থানে এসেছে আজকের প্রতিযোগীরা। কী প্রতিভা আর যোগ্যতার বলে কয়েকশ জনকে পেছনে ফেলে এতগুলো ধাপ পেরিয়ে এল ওরা, আমার সাদামাটা মাথায় তা কিছুতেই ঢুকছিল না। বিচারকদেরও দেখলাম খোলামেলা সমালোচনা করছেন, ভুল ধরিয়ে দিচ্ছেন। তারপরও অনেকেই উত্তীর্ণ হয়ে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন আর সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিশ্ব আসরে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন।
সাবিনা ইয়াসমিনের কালজয়ী মিষ্টি একটি গানের সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে হাত পা ছুঁড়লেন একজন, অথচ শুরুতে তিনি বললেন রুনা লায়লার গানের সঙ্গে নাচবেন। অবাক হলাম বিচারকরা ব্যাপারটা খেয়ালই করলেন না। সেই তিনিও উতরে গেলেন পরের ধাপে। বিচারক একজনকে সরাসরি বলে ফেললেন, তোমার পরিবেশনা আমার একটুও পছন্দ হয়নি, তবে তোমার পোশাকটা সুন্দর, সাজও ভাল হয়েছে।’ তাই না শুনে সেই প্রতিযোগী খুশিতে আটখানা। কী কী খাতে নম্বর বণ্টন হয়, তা অবশ্য আমার মতো সাধারণ দর্শকের জানার কথা না।
আরেক প্রতিযোগী মঞ্চে আসার আগে সঞ্চালক তাঁর সম্পর্কে একটা ছোট্ট ভুমিকা দিয়ে ফেললেন। এটার কোন প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয়না। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের কারণে দুই নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুকালে বাড়ি যেতে পারেননি সেই প্রতিযোগী। আবার এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের কারণে তাঁর বড় বোনের স্বামীকে পরিবারের কাছে হেনস্তা হতে হয়েছিল। এই দুই কারণে সম্মানিত বিচারকগণ সেই প্রতিযোগীকে রীতিমত মহীয়সী বানিয়ে দিলেন; ‘সোলজার’ (সৈনিক) বলে আখ্যায়িত করলেন, টুপি খোলা অভিনন্দন জানালেন, প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়ে দিলেন। মনের সব দুঃখ বুকে চেপে সেই প্রতিযোগী জীবনে প্রথম পশ্চিমা পোশাক পরে পশ্চিমা নাচ নাচলেন আর উতরে গেলেন পরের ধাপে। তাঁর জন্য কোন প্রশ্ন ছিল না বিচারকদের তরফ থেকে। তাঁর ইতিহাস শুনে সবাই এতো মুগ্ধ যে তাঁকে কেবল আকাশেই তুলে দিলেন।
বিচারকদের আসনে ছিলেন রুচিবান অভিনয় ও নৃত্যশিল্পী তারিন, আর জনপ্রিয় ও সুদর্শন সংগীত শিল্পী শুভ্র দেব। ছিলেন আরও তিনজন। তাঁদের পরিচয় জানা হয়নি। তাঁদের কাছে সেই নাচ কেমন লেগেছে জানি না, তবে আমার বাঙাল চোখে আর বুকে বড় বিঁধেছে, কাঁটার মতো। পশ্চিমা বলে নয়, নাচটা ঠিক শ্লীল ছিল না। আমি জানি আমাদের সমাজে অনেকে এখন নিম্ন রুচির অনেক পরিবেশনাকেও উদার মনে উপভোগ করেন। উদারতার ছড়াছড়ি সর্বত্র। পশ্চিমে সাতটি বছর কাটিয়েও ততটুকু উদারতা শেখা হয়ে ওঠেনি। সেটা হয়তো আমারই সীমাবদ্ধতা।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মুকুট বিজয়ী তো বাংলাদেশকেই প্রতিনিধিত্ব করবেন। পতাকার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরবেন বিশ্ব আসরে। আমাদের পতাকা কার হাতে তুলে দিচ্ছি আমরা? পতাকার মান রাখার ক্ষেত্রে শারীরিক সৌন্দর্য, সুন্দর মুখশ্রীই কি একমাত্র যোগ্যতা?
এরপর কি? বাছাই করা এই ক’জন রূপসী পরের কয়েকদিন রাষ্ট্রীয়সেবা গ্রহণ করেন। বিলাস ব্যসনে প্রতিভার চর্চা করেন। আবারও মঞ্চ কাঁপান। একদিন একজন মুকুট পেয়ে যান বাংলাদেশের সেরা সুন্দরীর। মানবতার কল্যাণে, বাংলার মানুষের জন্য তিনি কি করবেন, বঙ্গ সংস্কৃতি ধারণে-বাহনে প্রচারে কি কি ভুমিকা তিনি রাখবেন তা নিয়ে অনেক শঙ্কা থাকলেও, বদলে যায় তাঁর জীবন, ভাগ্যের চাকা- একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। সাধারণ এক মেয়ে থেকে তিনি হয়ে ওঠেন অতিমানবী।
এমন অতিমানবীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বৈকি। মনে পড়ে, আরও একদিন এমনি অনেকটা দৈবক্রমেই দেখা হয়ে যায় লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। অনেক রঙের আলো, ধোঁয়া আর কাঁচ ঘেরা ঝলমলে মঞ্চে হেঁটেছেন, দাপিয়ে বেড়িয়েছেন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সৈনিকগণ। বিচারকদের প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন। সেই মঞ্চেও যথারীতি পরিচ্ছদ আর রূপসজ্জার দিকে পাল্লা ভারি ছিল। গান, নাচ, অভিনয়, আবৃত্তি, অনুচ্ছেদ লেখা, কিংবা সাধারণ কথা বলায় বেশীরভাগ প্রতিযোগীই দুঃখজনকভাবে বড়ই দুর্বল ছিলেন। প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের কোন স্বাক্ষর একজনও রাখতে পারেননি, দুঃসাহসিকের মতো শোনালেও কথাটা না বলে পারছি না। কেমন করে চূড়ান্ত আসরে যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়ে গেছেন সেই সুন্দরীগণ ভাবতে অবাক লাগে।
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে মঞ্চে এসেছেন একে একে প্রাক্তন মুকুট জয়ী তিনজনা। সবাই সুপরিচিত এবং খ্যাতিমান আজকের বিনোদন জগতে। রূপোলী পর্দায়ও বেশ নাম করেছেন বলে শুনেছি। তাঁরা তিনজন এসে মঞ্চ মাতালেন তিনঝাঁক সখিসনে। তাঁদের অবিশ্রান্ত দেহভঙ্গিকে আর যাই হোক নৃত্যকলা বলার উপায় ছিল না। না সনাতনী, না আধুনিক। ইথারে বেজে ওঠা সঙ্গীত ও বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজে ইংরেজি কিংবা হিন্দি গান বলেই মনে হচ্ছিল। যদিওবা তিনকন্যার লম্ফঝম্প দেখে বাঙালি, সর্বভারতীয় কিংবা পশ্চিমা কোন ঘরানার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন তাঁরা, বোঝার উপায় ছিল না। নিয়মিত বিচারকের বাইরে অতিথি বিচারক হিসেবে ছিলেন টেলিভিশনের শক্তিমান অভিনেতা আলী যাকের। তাঁকে দেখলাম পাংশুমুখে কপাল কুঁচকে মঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকতে। আরেক শক্তিমান অভিনেতা, আবৃত্তিশিল্পী, তদানিন্তন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ছিলেন পাশের আসনে। তাঁর মুখ দেখেও বেশ বিব্রত বলে মনে হচ্ছিল।
তারপরও মুকুট উঠে যায় কারও না কারও মাথায়। প্রসাধন কোম্পানির দূত হয়ে বছর জুড়ে বিজ্ঞাপন করে বেড়ান, অনেক নাম কুড়ান, ধনবান হন সেই তিনি। এমনি করে প্রতিবছর কেউ না কেউ চলে আসেন ‘লাইমলাইটে’। কোন এক পরশপাথরের ছোঁয়ায় চিরকাল পাদপ্রদীপের সবটুকু আলো তাঁদেরই ওপর ঝরে ঝরে পড়ে। স্রষ্টার সব কৃপা যেন এই রঙ মাখানো রূপসীদের উপর। তবে আমাদের অর্থনীতির চাকা ঘোরে যেসব নারীদের হাত ধরে তাঁরা কিন্তু এই মুকুটজয়ী কেউ নন। সূর্য ওঠার পরপর ঘর ছাড়ে ওরা ছোট ছোট হাতব্যাগ নিয়ে। দিনমান ম্যালা ছুটাছুটি, আধপেট খাওয়া, হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত নেমে যায়। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় ওদের হাতে তৈরি সামগ্রীর বদৌলতে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার পূর্ণ হয় ডলার পাউন্ডে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওদেরই বানানো পোশাক পরে আলো ছড়ান নামীদামী তারকারা। কেবল আলো জ্বলে না ওদের পর্ণকুটিরে। ওদের কথা কেউ বলে না, কোন আলো ওদের উপর ঝরে পড়ে না। স্বস্তি জোটে না কোথাও; অসম্মানের সঙ্গে শেষ হয় এক একটা দিন, এক একটা রাত। কোন ভোর ওদেরকে দিন বদলের কথা শোনায় না। ঝলমলে মঞ্চ দাপিয়ে মুকুট বাগানো নারীগণ কোনদিন কি ভেবেছেন সেইসব নারীদের কথা?
কাগজে দেখেছিলাম ততদিনে বাংলাদেশ পেয়ে গেছে তার সেরা সুন্দরীকে। দু হাজার আঠারো’র কথা। অতিমানবী বনে যাওয়া সেই অষ্টাদশী তৈরি আমাদের লাল সবুজ পতাকা নিয়ে সুদূর চীনদেশে পাড়ি দেবার জন্য। মুকুট মাথায় নিয়েই তিনি ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন তিনি কাজ করবেন মানব কল্যাণের জন্য, নারীমুক্তির জন্য। সব সুন্দরীরাই প্রতি বছর মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমন ঘোষণা দিয়ে থাকেন। সুন্দরী প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব দেখা হয়নি। তবে কাগজে দেখেছি এক দশক আগের এক প্রাক্তন সুন্দরী রীতিমত ধুয়ে দিয়েছেন। চূড়ান্ত আয়োজনকে তিনি ‘কমেডি শো’ বলেছেন। তিনি অবশ্য প্রতিযোগীদের নয়, দুষছেন আয়োজকদের।
পরের বছর দু’হাজার উনিশেও ব্যাপক জাঁকজমকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সেরা সুন্দরী নির্বাচিত করে লন্ডনে পাঠানো হল। এবারের বিজয়ী অন্যদের তুলনায় প্রতিভা ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্তের স্বাক্ষর রেখেছেন সত্য, কিন্তু চোখ ধাঁধানো এই প্রতিযোগিতার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও উপযোগিতা বিবেচনা করে দেখলে সবই অন্তঃসারশুন্য বলে মনে হয়। যে-কথাটা সবচেয়ে জরুরী তা হল- সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মুকুটজয়ী নারীগণ বাহবা কুড়াতে গিয়ে ভুলেই যান যে নিজের নারীত্বের অমর্যাদা করে নিজেকে ছোট তো করলেনই, সেই সঙ্গে পুরো নারীজাতিকেও অসম্মান করলেন তাঁরা।
দিন কয়েকের মাথায় ব্রহ্মাণ্ড সুন্দরী বাছাইয়ের আসরও বসে যায় রাজধানীর বুকে। বিচারকের আসন অলংকৃত করতে ভারত থেকে উড়ে আসেন প্রাক্তন এক ব্রহ্মাণ্ড সুন্দরী। বঙ্গদেশ থেকে নির্বাচিত সুন্দরীর গন্তব্য আমেরিকা। মানব কল্যাণ ও নারী মুক্তির জন্য জীবন বিলিয়ে দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তিনিও।
কিন্তু ইতিহাস কী বলে? ভারত থেকে এ-যাবত কাল যে কজন নারী বিশ্ব সুন্দরী ও ব্রহ্মাণ্ড সুন্দরীর মুকুট জয় করেছিলেন তাঁরা সবাই তো শেষমেষ বলিউডে গিয়েই থিতু হয়েছেন। মানব কল্যাণ, ও নারী মুক্তি’র জন্য কাজ করবেন বলে গালভরা যত প্রতিশ্‌রুতি দিয়েছিলেন তাঁরা বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তার কতটুকু তাঁরা রাখতে পেরেছেন, এ-কালের কিংবা আগামীদিনের সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নাম লেখানো মেয়েরা সেসব কী বিবেচনা করে দেখবে? দু হাজার আঠারোতে চীন পরিভ্রমণ করে আসা মাটিভাঙা গ্রামের সেই রূপসী কিন্তু ইতোমধ্যেই ঢাকাই বিনোদন জগতে পাকাপোক্ত আসন করে নিয়েছেন । কাগজে দেখলাম আমেরিকা ঘুরে ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ ও ঢালিউডে নাম লেখাতে চলেছেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে – আমাদের দেশে এই বিলাসবহুল আর ব্যয়বহুল সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সত্যিই কোন প্রয়োজন আছে কী ? এর ফলে দেশ, সংস্কৃতি, মানুষ- বিশেষ করে নারীসমাজ কোনভাবে উপকৃত হচ্ছে কী ? অন্য দেশে হচ্ছে বলে আমাদেরও করতে হবে, আমরাও আছি বিশ্ব আসরে, কেবল এইটুকু জানান দেওয়ার জন্যই কি এতো আয়োজন, খরচাপাতি? সবচেয়ে বড় কথা, নারীমুক্তির ভাবনা ও দর্শনের সঙ্গে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা একেবারেই যায় না।
ফরাসী দেশের জোয়ান অব আর্ক, আমেরিকান আদিবাসী কন্যা পোকাহন্তাস, ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের নাইটিংগেল, যুক্তরাষ্ট্রের এ্যালাবামা শহরের মুক, বধির, অন্ধ, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হেলেন কেলার থেকে শুরু করে আমাদের রোকেয়া প্রীতিলতাদের আজও পৃথিবী মনে রেখেছে কোন সৌন্দর্য শক্তির কল্যাণে নয়। কাজই বাঁচিয়ে রেখেছে তাঁদের। আমাদের মেয়েরা এই সহজ সত্যটুকু উপলব্ধি করতে পারলেই একুশ শতকের আধুনিক নারী হিসেবে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে শিখবে। নয়তো সৌন্দর্যের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে নেমে শোভা বর্ধনকারী পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতেই থাকবে আর নারী দিবসের শোভাযাত্রায় বেগুনি শাড়ির মিছিলে গিয়ে কাগুজি নারীমুক্তির স্বাদ নিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করবে।