বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট পাখি

সমির মল্লিক : খাগড়াছড়ি

সোমবার , ২৪ জুন, ২০১৯ at ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
155

বিশ্বে প্রায় ৭শ প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট পাখি হামিং বার্ড। কয়েক প্রজাতির হামিং বার্ডের মধ্যে সবচেয়ে ছোট কিউবান হামিং বার্ড। তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট পাখির নাম অনেকের অজানা। এটি কিউবান হামিং বার্ডের তুলনায় মাত্র ক মিটার বড়। এর নাম সিদুঁরে ফুলঝুরি। এরা লম্বায় প্রায় সাড়ে ৮ থেকে ৯ সেন্টিমিটার।
সম্প্রতি খাগড়াছড়ির দীঘিনালার ভগীরথ পাড়া এলাকায় একজোড়া ফুলঝুরি দেখা যায়। সকাল বেলা এদিক ওদিক উড়ছিল পাখিদ্বয়। এরা ফুলের মধু বা ফল খেয়ে থাকে। শক্ত ঠোঁটের সাহায্যে এরা সব ধরনের ফল খেতে অভ্যস্ত। ছোট পাখিটিকে লেন্সে বন্দি করাও বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। প্রায় পৌনে এক ঘন্টার চেষ্টার পর পাখিটিকে ফ্রেমে বন্দি করা সম্ভব হয়েছে। ফুলের মধুর খোঁজে এরা এদিক ওদিক উড়ে বেড়ায়। পিঠজুড়ে সিঁদুর রাঙার কারণে এটিকে সিঁদুরে পিঠ ফুলঝুরি বা লালচে ফুলঝুরিও বলে। ফুলঝুরির কালচে ছোট ঠোঁট। এদের ঠোঁট বাঁকা এবং শক্ত। এদের বুকে হলুদ রঙের আভা। অনেক সময় এদের বুক সাদা ধূসর মনে হয়। লেজ অব্দিও এদের উপর লাল রঙ ছড়ানো। পালকের গোড়ায় নীলাভ বর্ণ রয়েছে।এদের চোখ বেশ মায়াময়। তবে শরীরজুড়ে লাল রঙের কারণে ফুলঝুরি দেখতে বেশ সুন্দর।
সাধারণত পাহাড় বা গ্রামীণ এলাকার ঝোপ বা গাছের আড়ালে এদের দেখা যায়। ছোট হলেও সিঁদুরে রঙের কারণে এদের দেখা যায়। ফুলঝুরি দ্রুত বেগে এদিক ওদিক উড়ে বেড়ায়। এরা এক জায়গায় বেশি সময় স্থির থাকতে পারে না। দ্রুত বেগে উড়াউড়ির কারণে এদের দেখা মেলা ভার।
সিঁদুরেপিঠ ফুলঝুরি ইংরেজি নাম ঝপধৎষবঃনধপশবফ- ঋষড়বিৎঢ়বপশবৎ। এদের বৈজ্ঞানিক নাম উরপধবঁস ঊৎুঃযৎড়ৎুহপযড়ং। এরা খুব ছোট বাসা বাঁধে। দেখতে অনেকটা মৌটুসি পাখির বাসার মত। এদের বাসা বাঁধতে সময় লাগে প্রায় এক সপ্তাহ। কেবল স্ত্রী ফুলঝুরি ডিমে তা দেয়। প্রজননকালে এরা কেবল দুইটি ডিম দেয়। ডিম দেখতে অনেকটা টিকটিকির ডিমের মত। ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। সিদুঁরবুক ফুলঝুরি ছাড়াও আগুনবুক ফুলঝুরি, হলুদ ফুলঝুরি ও কমলাবুক ফুলঝুরি দেখা যায়।

x