বাংলাদেশের মতো এত সুদ বিশ্বের কোথাও নেই : অর্থমন্ত্রী

সোমবার , ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
128

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল-ঋণখেলাপি)। আমি বলেছিলাম, ঋণখেলাপি বাড়বে না। ধীরে ধীরে এর হার কমবে। কিন্তু আপনারা বলছেন এনপিএল বাড়ছে। এনপিএল বাড়ার মূল কারণ সুদের হার। বাংলাদেশের মতো এত বেশি সুদ বিশ্বের আর কোথাও নেই। গতকাল রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ বাড়ছে এটা সত্য। কিন্তু কেন বাড়লো ? সুদের হার বাড়লে খেলাপি ঋণ বাড়বেই। ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ সুদহার হলে, এটা দিয়ে ঋণগ্রহীতারা কুলাতে পারে না। সুতরাং সুদহার ৯ শতাংশ হলে এনপিএল বাড়বে না। আশা করি ১০ বছর পরে আমাদের ব্যালেন্স শিট পরিষ্কার হবে। খবর বিডিনিউজের। তিনি বলেন, সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে হবে। এরপর এনপিএল অনেক কমে যাবে। সুদহার কমলে আমাদের সঙ্গে বিদেশিরা ব্যবসা করে শান্তি পাবে। কোনো প্রশ্ন করবে না। তারা আমাদের এলসিগুলো গ্রহণ করবে। সুদহার কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। যারা ব্যাংককে রিপ্রেজেন্ট করবে। প্রাইভেট-পাবলিক খাতকে রিপ্রেজেন্ট করবে। কমিটি সব বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেবে। আগামী সাতদিনের মধ্যেই তারা এই কাজ করবেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, সুদহার সিঙ্গেল ডিজেট করলে অনেক উপকার হবে। কোর্টের যে অর্ডার ছিল সেটি কিন্তু এখন আর নেই। রায়টি আমরা যেভাবে প্রত্যাশা করেছিলাম সেভাবেই পেয়েছি। কোর্টের অর্ডার বাস্তবায়িত হলেই ঋণখেলাপি কমে যাবে। আমরা বিশ্বাস করি, ৩১ ডিসেম্বর তারিখে আপনারা এর প্রতিফলন দেখতে পাবেন। ঋণখেলাপি বাড়বে না, কমের দিকে আসবে।
উল্লেখ্য, ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের ওপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ শর্তসাপেক্ষে দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্টে নয় শতাংশ সুদে ১০ বছরে খেলাপি ঋণ পরিশোধের যে সুযোগ বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছিল, তা আপাতত কার্যকর থাকছে। তবে আপিল বিভাগ বলেছেন, কোনো ব্যবসায়ী এই সুবিধা নিলে দুই মাসের মধ্যে তিনি আর অন্য কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন না।
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

x