বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু

মোঃ মোরশেদুল আলম

শুক্রবার , ২০ মার্চ, ২০২০ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
46

সহকারী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
চলচ্চিত্র হচ্ছে একটি শিল্প ও বিনোদন মাধ্যম। সূচনালগ্ন থেকেই চলচ্চিত্র নাটক, সংগীত, চিত্রকলা প্রভৃতি নানা শিল্পকলা থেকে উপাদান সংগ্রহ করে নিজের সত্তা তৈরি করে নিয়েছে। চলচ্চিত্রকলার শুরুর দিকে এ চিত্র ছিল নিঃশব্দ; পরবর্তীকাল প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে এর সাথে সংযুক্ত হয় শব্দ। চলচ্চিত্র মাধ্যম কেবল একটি শিল্পই নয়; রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ বাহনও বটে। একটি সমাজের জীবন-ব্যবস্থা, জীবনবোধ, সংস্কৃতি এবং চিন্তা-চেতনার প্রতিচ্ছবি হচ্ছে চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রের পরিধি ব্যক্তিমানস থেকে রাষ্ট্রীয় পরিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত; কখনো আবার তা পরিসীমাহীন। চলচ্চিত্রের আবিষ্কার মধ্যযুগের ছায়া নৃত্য এবং সতের শতকের ম্যাজিক ল্যান্টার্ন-এর পথ ধরে। এর চূড়ান্তরূপ প্রত্যক্ষ করা যায় বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসনের ‘কিনেটোস্কোপ’ এবং ফ্রান্সের লুমিয়ের ভাতৃদ্বয়ের উদ্ভাবিত ‘সিনেমাটোগ্রাফি’-এর মাধ্যমে। ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিজ্ঞানী অগাস্ত লুমিয়ের এবং লুই লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় ‘সিনেমাটোগ্রাফি’ নামক যন্ত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে ২৮ ডিসেম্বর প্যারিসের গ্র্যান্ড ক্যাফেতে প্রথম বারের মত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে তাঁরা বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে এসে ৭ জুলাই বোম্বের ওয়াটসন হোটেলে তাঁরা চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন। কলকাতা এবং তৎকালীন বাংলাদেশে যিনি বায়োস্কোপ প্রদর্শনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি হচ্ছেন সেন্ট জেভিয়ার্স কালেজের পাদ্রি অধ্যাপক ফাদার লাঁফো। কিন্তু এ উপমহাদেশের মানুষ হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন মানিকগঞ্জের হীরালাল সেন। ১৮৯৮ সালের ৪ এপ্রিল দ্য রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানি গঠন করে তিনি ভোলায় চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন। ১৯২৭-২৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার নবাব পরিবারের উদ্যোগে জগন্নাথ কলেজের শরীরচর্চার শিক্ষক ও তৎকালীন ঢাকার বিভিন্ন থিয়েটার নাটকের পরিচালক অম্বুজ প্রসন্ন গুপ্তের পরিচালনায় সুকুমারী নামের একটি নির্বাক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ঢাকায় নির্মিত হয়।
পাকিস্তানি এবং অস্থানীয় চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীরা ঢাকায় চলচ্চিত্র শিল্প গড়ে উঠুক তা চায়নি। পাকিস্তানের চলচ্চিত্র তখন ছিল মূলত লাহোরকেন্দ্রিক। এসময় তারা প্রচারণা চালাতো যে, পূর্ব-পাকিস্তানের আর্দ্র আবহাওয়া চলচ্চিত্র নির্মাণের উপযোগী নয়। বেশি বৃষ্টির কারণে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি, তাই পূর্ব পাকিস্তানের আবহাওয়া চলচ্চিত্র নির্মাণের উপযোগী নয়- পশ্চিম পাকিস্তানিদের এমন উদ্ভট ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিবাদ হিসেবে আব্দুল জব্বার খান ঢাকায় বসে ১৯৫৬ সালে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা সবাক ছবি মুখ ও মুখোশ নির্মাণ করেন। ছবিটি নির্মাণের পটভূমি ছিল বাঙালি জাতির স্বাতন্ত্র্যবোধ এবং পাকিস্তানিদের উপেক্ষা-অবজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। এসময় চলচ্চিত্র নির্মাণের কোন স্টুডিও বা অন্যকোন সুযোগ এদেশে ছিলনা। এ প্রসঙ্গে যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, “সিনেমা করার জন্য যে অবকাঠামো দরকার তা কোথায় এখানে? বঞ্চনা তো সর্বক্ষেত্রেই, পার্টিশনের আগে পশ্চিম পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সবাই ছিল বোম্বেতে। এখনকার পশ্চিম পাকিস্তানে কোনো চলচ্চিত্র শিল্পই তো তখন ছিল না। অথচ এই ন’বছরে অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রের সহযোগিতায় পশ্চিম পাকিস্তানেও গড়ে উঠেছে চলচ্চিত্র শিল্প।…এখানো তো কিছুই নেই। লোকের হাতে না আছে মূলধন, না আছে উপকরণ, না আছে সেরকম কোনো স্টুডিও। পূর্ণাঙ্গ স্টুডিও না থাকলে কোনো মতেই দর্শনীয় ছবি করা সম্ভব নয়।”
এরূপ পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্র নির্মাণের দর্শক, নির্মাতা ও নির্মাণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রত্যাশার পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু এফডিসি বিল তৈরির নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মাত্র দু’দিনের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবুল খায়ের এবং প্রদেশিক চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান নজীর আহমেদ এফডিসি বিলের খসড়া তৈরি করেন। বঙ্গবন্ধুর আন্তরিক সহযোগিতায় তখন চলচ্চিত্র নির্মাতারা ফিল্ম স্টুডিও নির্মাণের ব্যাপারে উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল ‘দ্য ইস্ট পাকিস্তান ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন বিল-১৯৫৭’ পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে উত্থাপন করেন। সামান্য সংশোধনী শেষে ঐ অধিবেশনেই বিনা বাধায় বিলটি সেদিন পাস হয়। এরই পরিপেক্ষিতে পরবর্তীতে ইএফডিসি এ্যাক্ট, ১৯৫৭ প্রণীত হয়। সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণেই প্রতিষ্ঠিত হয় ইপিএফডিসি যা আজকের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন। বঙ্গবন্ধুর এফডিসি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং আবুল খায়ের ও নজীর আহমদের সংগঠনিক দক্ষতায় এফডিসির কার্যক্রম শুরু হয়। এভাবেই ঢাকায় চলচ্চিত্র শিল্পে একটি শক্ত বুনিয়াদ গড়ে ওঠে। ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ৭ একর জমির উপর এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। নয়টি শুটিং ফ্লোর, মুভি ক্যামেরা, লাইটিং সিস্টেম, উন্নত প্রযুক্তি, সম্পাদনার যন্ত্রপাতি, সাউন্ড কমপ্লেঙ ও আনুষঙ্গিক শুটিং সুবিধাদি এফডিসিকে ঢাকার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করে। এফডিসি প্রতিষ্ঠার ফলে ১৯৫৯ সাল থেকে ঢাকার দর্শকরা নিয়মিত চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ পায়। এভাবে ঢাকার চলচ্চিত্র শিল্প নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে।
এফডিসি প্রতিষ্ঠার প্রায় সমকালেই পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারির কারণে কেন্দ্র থেকে অর্থ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির যথাযথ বিকাশে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এক ধরনের আতঙ্কিত পরিবেশের মধ্যেও এফডিসির অধীনে ১৯৬৩-৬৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে কিছু রুচিশীল চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। এ দেশের সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার বক্তব্যপ্রধান শিল্পিত চলচ্চিত্রের সূচনা করলেন উদীয়মান চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান কখনো আসেনি (১৯৬১) চলচ্চিত্র দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার মুখ ও মুখোশ ছবির পরিচালক আব্দুল জব্বার খানকে প্রধান করে ‘চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা বিভাগ’ প্রতিষ্ঠা করে। মুখ ও মুখোশ চলচ্চিত্রের ধারাবাহিকতায় খান আতাউর রহমানের নবাব সিরাজউদ্দৌলা, ইবনে মিজানের শহীদ তিতুমীর, জহির রায়হানের জীবন থেকে নেয়া প্রভৃতি চলচ্চিত্র দেশের মানুষের চেতনাকে আরো শাণিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ লড়াই-সংগ্রামের জন্য তাদেরকে প্রস্তুত করেছে। জীবন থেকে নেয়া ছবিটি নির্মাণের সময় সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছিলেন জহির রায়হান। কিন্তু দেশের চলমান আন্দোলন-সংগ্রামে গণমানুষকে উদ্দীপ্ত করতে এ ছবি নির্মাণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন তিনি। বিভিন্ন রূপকের আড়ালে জীবন থেকে নেয়া রাজনৈতিক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচালক এর মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগাম ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অবর্ণনীয় ধ্বংসযজ্ঞ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণ বলতে গেলে সম্পূর্ণরূপেই বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশের কয়েকজন প্রখ্যাত পরিচালক এ সময় ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। কলকাতার বুদ্ধিজীবী, শিল্পী ও চলচ্চিত্রকারেরা মুক্তিযুদ্ধ এবং কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের শিল্পীদের আর্থিকভাবে সাহায্য করতে ‘বাংলাদেশ সহায়ক কমিটি’ গঠন করেন। এ সমিতি জহির রায়হানকে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অর্থসাহায্য দিলে তিনি স্টপ জেনোসাইড প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে মুজিবনগর সরকার জহির রায়হানকে ৩টি চলচ্চিত্র নির্মাণের দায়িত্ব দেয়। এ জন্য তাঁকে ৪০ হাজার ভারতীয় মুদ্রাও দেওয়া হয়। এ সময় তিনি নিজের পরিচালনায় এ স্টেট ইজ বর্ন নির্মাণ করেন। এ ছাড়া তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আলমগীর কবিরের পরিচালনায় লিবারেশন ফাইটার্স এবং বাবুল চৌধুরীর পরিচালনায় ইননোসেন্ট মিলিয়নস নির্মিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নির্মিত এসব চলচ্চিত্রের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে চিত্রায়ণের মাধ্যমে স্বাধীনতাকে এগিয়ে নেওয়া, দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করা, বিশ্ববিবেককে জাগ্রত করা, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, ধংসযজ্ঞ, হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতিত ও স্বাধীনতাকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যক্রম দেশের মানুষসহ বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি করা।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর চলচ্চিত্র মাধ্যমকে আরো শক্তিশালীরূপে গড়ে তোলার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুবই তৎপর ছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে তিনি চলচ্চিত্রকর্মীদের নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা করেন। পৃথিবীর বিখ্যাত চলচ্চিত্রসমূহ থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি তাঁদেরকে দেশ পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে শহিদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প ছিল উজ্জ্বল আলোকে উদ্ভাসিত। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবার পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প নতুন করে ভিত্তি ও ব্যঞ্জনা পায়। এ সময় নির্মিত চলচ্চিত্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে বাড়তে থাকে। নির্মিত হতে থাকে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ ও সাহিত্য নির্ভর এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার চলচ্চিত্র। বঙ্গবন্ধুর পৃষ্ঠপোষকতায় পুনর্গঠিত হয় এফডিসি, সেন্সর বোর্ড, ডিএফপি, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, বিটিভি প্রভৃতি। সংযোজিত হয় সেন্সর নীতিমালা, গঠিত হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। প্রচেষ্টা চলে ফিল্ম ইনস্টিটিউট ও আর্কাইভ প্রতিষ্ঠার। বিদেশে প্রেরিত হয় চিত্র প্রতিনিধি দল, বিদেশি মেলায় ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বাংলাদেশের চলচ্চিত্র। দেশে অনুষ্ঠিত হয় বিদেশি চিত্র মেলা, চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন এ সময় নতুন মাত্রা পায়। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় মাত্র সাড়ে তিন বছরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ১০টি চলচ্চিত্র নির্মিত হয় যা নজিরবিহীন। এগুলো হলো: ওরা ১১ জন, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, রক্তাক্ত বাংলা, বাঘা বাঙালী; ধীরে বহে মেঘনা, আবার তোরা মানুষ হ, আমার জন্মভূমি; সংগ্রাম, আলোর মিছিল এবং কার হাসি কে হাসে। সাম্রাজ্যবাদী আন্তর্জাতিক শক্তির চক্রান্ত, এদেশীয় ক্ষমতালোভী ও উচ্চাভিলাষী রাজনীতিবিদ এবং কিছুসংখ্যক সামরিক কর্মকর্তা বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করার মাধ্যমে বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনীতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে। পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংস, বর্বরোচিত এবং জঘন্য এ হত্যাকাণ্ডের পর মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এসব বিষয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি তরফ থেকে নানা ধরনের অসহযোগিতা বা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। তাই মূলধারায় জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রুচিশীল চলচ্চিত্র নির্মাণ বলতে গেলে প্রায় বন্ধই হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর এ অকালপ্রয়াণের ফলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়।