বসুন্ধরাকে হারিয়ে চমক কেরালা এফসির

নজরুল ইসলাম

বুধবার , ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ at ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
37

একটি দল টুর্নামেন্টের টপ ফেভারিট। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন। আরেক দলের এই টুর্নামেন্টে খেলারই কথা ছিল না। ঢাকা আবাহনী শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সুযোগ পায় ভারতের কেরালার শ্রী গকোলাম এফসির। তারপরও ফেভারিট বসুন্ধরা কিংসের সাথে কতটা লড়াই করতে পারবে তারা সেটা নিয়ে ছিল সংশয়। যদিও তারা এখানে আসার আগে ইস্ট বেঙ্গল, মোহনবাগানের মত দলকে হারিয়ে এসেছে। তবে একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া সুযোগটাকে দারুনভাবে কাজে লাগাল কেরালার দলটি। টুর্নামেন্টের ফেভারিট দলকে হারিয়ে দারুণ শুরু করল আগের দিনই চট্টগ্রামে আসা কেরালা এফসি। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বসুন্ধরা কিংসকে হারিয়ে দারুন চমক দিল শ্রী গকোলাম কেরালা এফসি। ৩-১ গোলে বসুন্ধরা কিংসকে বিধ্বস্ত করেছে কেরালা। ভারতের দলটির কৌশলের সাথে পেরে উঠেনি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা। শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি কেরালার দলটির কৌশলও ছিল দুর্দান্ত। যে কারনে ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বসুন্ধরা কিংসকে। দিনের প্রথম ম্যাচে ভারতের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে চমক দিয়েছিল মালয়েশিয়ার থেরাঙ্গানো এফসি। আর দ্বিতীয় ম্যাচে বসুন্ধরা কিংসকে হারিয়ে আরেক চমক দিল কেরালা এফসি। শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে আসা বসুন্ধরা কিংস হার দিয়ে শুরু করায় এখন তাদেও জন্য সেমিফাইনালে যাওয়ার পথটা কঠিন হয়ে গেল। কারণ প্রথম পরাজয়টা যে একটু বেশি বড় হয়ে গেল। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ শ্রী গকোলাম কেরালা এফসির উপর চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। বিশেষ করে বাম প্রান্ত দিয়ে দলের প্রাণ ভোমরা ডেনিয়েলকে দিয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা ছিল বসুন্ধরা কিংসের। কিন্তু কেরালার ডিফেন্ডাররা বিষয়টা বেশ ভালই আঁচ করতে পেরেছিল। তাই তাদের চেষ্টা ছিল ডেনিয়েলকে অকেজো করে রাখার। আর সে চেষ্টায় দারুণ সফল ভারতের ক্লাবটি। বার কয়েক বল নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ঢোকার চেষ্টা করলেও সে গুলোকে সফল হতে দেয়নি কেরালার রক্ষণভাগ্‌ নিজেদের দুর্গ সামলে এরপর আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা কেরালার দলটির। সেক্ষেত্রেও সফল তারা। ২৬ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল আদায় করে নেয় একেবারে শেষ মুহূর্তে ঢাকা আবাহনীর পরিবর্তে টুর্নামেন্টে খেলতে আসা কেরালা এফসি। বামপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে লম্বা ক্রস করেছিলেন গার্সিয়া। বসুন্ধরা কিংসের ডিবক্সে দুই ফিন্ডোর শত চেষ্টা করেও থামাতে পারেনি কেরালার স্ট্রাইকার হেনরীকে। দুই ডিফেন্ডারকে ঘুরপাক খাইয়ে হেনরি কিসিকা বল পাঠিয়ে দেন জালে। এগিয়ে যায় কেরালার ক্লাবটি। ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কেরালা। এবার বসুন্ধরা কিংসের ডিবক্সের সামনে ফ্রিকিক লাভ করে কেরালা। এবার প্রথম গোলের যোগান দাতা সেই গার্সিয়ার নেওয়া ফ্রি কিক গোলরক্ষককে ফাকি দিয়ে জড়ায় জালে। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় কেরালা। ৪৪ মিনিটে ব্যবধান কমানোর একটা সুযোগ এসেছিল বসুন্ধরার সামনে। বামপ্রান্ত থেকে ডেনিয়েল ক্রস করেছিলেন। ডি বক্সে থাকা রবিউল সাইডভলী করেছিলেন। কিন্তু সেটি জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। ফলে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নদের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবার এগিয়ে যায় কেরালার দলটি। এবার ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ। কেরালার মধ্য। মাঠের খেলোয়াড় গার্সিয়ার চিতার গতির সাথে পেরে উঠেনি বসুন্ধরা কিংসের রক্ষণ। ডি বক্সের বাইরে থেকে দারুন ক্রস করেন গার্সিয়া। চলন্ত বলে হেনরীর শট জড়ায় জালে। ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। দুই মিনিট পর ব্যবধান কমানোর সুযোগ এসেছিল বসুন্ধরা কিংসের সামনে। কিন্তু ডানপ্রান্ত থেকে বিশ্বনাথের ক্রসে মাথা ছুইয়েছিলেন রবিউল। কিন্তু সেটি হয়ে গেল লক্ষ্যভ্রষ্ট। এরপর আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে উঠে ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধের ২৮ মিনিটে গোলের দেখা পায়। ডান প্রান্ত থেকে বিশ্বনাথের ক্রস। কেরালার ডিবঙে একাধিক খেলোয়াড় শট নিলেও গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। শেষ পর্যন্ত মতিন মিয়ার শট জড়ায় জালে। ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-১। তিন মিটি পর ব্যবধান আরো কমতে পারতো বসুন্ধরা কিংসের। এবার বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণ ডেনিয়েলের মাইনাসে দারুণ শট নিয়েছিলেন মোহাম্মদ খদো। কিন্তু তার সে শট রুখে দিল সাইডবার। এরপর আক্রমণের ধার আরো বাড়াতে থাকে বসুন্ধরা কিংস। কিন্তু কেরালার অতি মাত্রায় রক্ষণাত্নক কৌশলের কারণে সে সব আক্রমণ সফলতার মুখ দেখেনি। খেলার একেবারে শেষ মিনিটে আরো একটি সুযোগ পেয়েছিল বসুন্ধরা। কিন্তু ডি বক্সের বাইরে থেকে বদলী রানার শট ক্রসবার উঁচিয়ে চলে গেলে আর ব্যবধান কমানো হয়নি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নদের। ফলে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে হয় বসুন্ধরা কিংসকে। ম্যাচে ব্যবধান সৃষ্টি করা নাতানিয়াল জুদি গার্সিয়ার হাতে উঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন সিটি মেয়র এবং সিজেকেএস সাধারন সম্পাদক আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন। এ সময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী তরফদার রুহুল আমীন উপস্থিত ছিলেন।

x