বসতঘরের ছাদে ফলের চাষ

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
19

সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়ীয়া বোয়ালিয়াকুল গ্রামে বাড়ির ছাদে ফলের চাষ করে চমক সৃষ্টি করেছেন বোয়ালিয়াকুল গ্রামের সর্দার মোঃ আবুল মুনছুর। তিনি তার বাড়ির দ্বিতল ভবনের ছাদে এ ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। প্রতিদিন তার ছাদ বাগান দেখতে আসেন এলাকার মানুষ।
জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়ীয়া বোয়ালিয়াকুল গ্রামে অবস্থিত মোঃ আবুল মুনছুর ২০১৮ সালে তার বাড়ির দ্বিতল ভবনের ছাদে ফলের বাগান গড়ে তোলেন। প্রথমে ৫টি ফুলের চারা দিয়ে পরীক্ষামূলক ছাদ বাগান শুরু করেন। পরীক্ষামূলক শুরু হলেও ফুলের চারার ভালো অবস্থান দেখে পুরো ছাদে বাগান তৈরির পরিকল্পনা নেয়। এরপরে একএক করে আম, কামরাঙ্গা, ডালিম, ছফেদা, চাইনিচ কমলা, লেবু, জলপাই, পেয়ারা, বড়ই, মালটা ও আমড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ রোপণ করেছেন। দু’বছরের মাথায় তার গাছে থোকায় থোকায় ফলন ধরেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ছাদের উপরে সারিবদ্ধভাবে ড্রামে মাটি ভরাট করে মাছা তৈরি করেছে। প্রতিটি মাছায় একটি করে ফলদ গাছ। গাছে ফল ধরেছে। আমড়া গাছে থোকায় থোকায় আমড়া ঝুলছে। মালটা গাছে মালটা, লেবু গাছে লেবু, কামরাঙ্গা গাছে কামরাঙ্গা ধরেছে। এছাড়া গোলাপ, গান্ধা, জুই, চামেলিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ রয়েছে। ফুলের পাশাপাশি রয়েছে সবজি গাছ লাউ , পুঁই শাক ও বেগুন প্রভৃতি। তার ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির ফল, ফুল ও সবজির ৫০ টি ছোট বড় মাচা রয়েছে।
মোঃ আবুল মুনছুর জানান, ২০১৮ সালে আমার ছেলে মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন সীতাকুণ্ড থেকে প্রথম কয়েকটি ফুলের চারা দিয়ে ছাদ বাগান শুরু করে। গাছের চারার অবস্থা ভালো দেখে উৎসাহ আরো বেড়ে যায়। পরে এক এক করে আমড়া, কমলা, ছবেদা, কামরাঙ্গাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছ রোপণ করি। বর্তমানে বিভিন্ন ফলদ গাছে ফল ধরেছে। আমার পাশাপাশি এ ছাদ কৃষি গাছের পরিচর্যা করছেন আমার ছেলেরা। তিনি আরো বলেন এ বছর ছাদে রোপিত গাছের লেবু সারাবছর নিজেরা খেয়েছি আবার প্রতিবেশীদের দিয়েছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাফকাত আহমেদ জানান, আবুল মুনছুরের বসতঘরের ছাদে ফলের চাষ নিয়ে তিনি অবগত নন। তবে এখানকার মাটি উর্বরতা ও যথাযথ পরিচর্যা করলে যে কোন জায়গায় বিভিন্ন ফলের চাষ করে সফলতা অর্জন করা যায়। সীতাকুণ্ডে অনেক কৃষক বসতঘরে ছাদে ড্রামে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের বাগান করে সফলতা পাচ্ছেন।

x