বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় উচ্চাঙ্গ সংগীতের আসর

বিপ্লব বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার , ২২ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
14

গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হলো চট্টগ্রাম উচ্চাঙ্গ সংগীত শিল্পী সংস্থার ত্রৈমাসিক শাস্ত্রীয় সংগীত। আয়োজকরা সময়ের প্রতি ছিল সচেষ্ট। সময় তখন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা। বর্ষাস্নাত সন্ধ্যা, প্রাকৃতিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। এরপরও দর্শক শ্রোতারা ঠিক সময়ে উপস্থিত হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনষ্টিটিউটের স্টুডিও হলটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেল। আর খুব অধির আগ্রহে উপস্থিত শ্রোতারা চট্টগ্রামের সংগীত গুরু নির্মলেন্দু চৌধুরীর বক্তব্য শোনছিলেন। গুরুর প্রতি এমন সম্মান আজকাল খুব একটা দেখা মেলেনা। যেটি আয়োজকদের কাছ থেকে দেখলাম। সংস্থার সভাপতি মাসুদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ বড়ুয়ার স্বল্প কথার পরপরই শুরু হয়ে যায় নির্ধারিত শিল্পীদের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশনা।
এবারের শিল্পী ছিলেন শুধুমাত্র তিন জন। তারা হলেন রাজীব মজুমদার, আসাদুর রহমান, দোলন চক্রবর্তী। তারা প্রত্যকে শাস্ত্রীয় সংগীত চর্চায় নিয়োজিত এবং শিক্ষক হিসেবে কাজ করে চলেছেন। প্রত্যেকের পরিবেশনা ছিল এক কথায় অনন্য। সমজদার ভক্ত শ্রোতাদের তারা নিরাশ করেনি। গায়কি ঢং, শব্দ চয়ন ও কন্ঠশৈলীতে নিপূন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রথমে শিল্পী রাজীব মজুমাদার পরিবেশন করেন রাগ “রাগেশ্রী”। শিল্পী আসাদুর রহমান পরিবেশন করেন রাগ “মেঘ’’ এবং সর্বশেষ মঞ্চে আসেন দোলন চক্রবর্তী। তিনি পরিবেশন করেন রাগ “কলাবতি”।
শিল্পীদের সাথে বিভিন্ন যন্ত্রী বাজিয়ে আয়োজনকে সার্থক করে তুলেছেন তাদের মধ্যে তবলায় সংগত করেন প্রনব ভট্রচার্য, সানি দে, উৎপল কুমার দে, হরিমোনিয়ামে- লিটন সেন, ফারুক আহম্মেদ, কেতু প্রসাদ দে বাবু। তানপুরায়- সম্পদ বড়ুয়া। চট্টগ্রামের সংগীতাঙ্গনে তারা প্রত্যেকে পরিচিত মুখ এবং সমান দক্ষতা নিয়ে কাজ করে চলেছেন। সেদিন তাদের নৈপূণ্যে অনুষ্ঠানকে দিয়েছে উচ্চতর মাত্রা উপস্থিত প্রত্যেকে এক বাক্যে তা স্বীকার করলেন। আমার কাছেও তাই মনে হয়েছে। তবলার বোল, হারমোনিয়াম ও তানপুরার সুরে শ্রোতারা কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে গেছে।

x