বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তিন সিদ্ধান্ত

বিকেল ৪টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করবে চসিক

আজাদী প্রতিবেদন

সোমবার , ২০ আগস্ট, ২০১৮ at ৬:৩৬ পূর্বাহ্ণ
94

আসন্ন কোরবানির ঈদে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। চট্টগ্রামসহ দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশনকে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। সিদ্ধান্তুগুলো হচ্ছেনির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশু জবাই করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ও সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করা এবং কোরবানির বর্জ্য দ্রুততম সময়ে অপসারণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এছাড়া নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির জন্য জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে। তবে কোরবানিদাতা বাসাবাড়ির আঙ্গিনায় পশু জবাই করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বে দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। যত্রতত্র কিংবা সড়কে পশু জবাই না করার বিষয়ে সকলকে উৎসাহিত করতে হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ‘নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির পশু জবাই এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণকল্পে সিটি কর্পোরেশনসমূহের কর্মপরিকল্পনা ও প্রস্তুতি পর্যালোচনা’ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সভায় আলোচনার প্রেক্ষিতেই তিনটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ওই সভার সিদ্ধান্তগুলো গতকাল রেজ্যুলেশন আকারে প্রকাশ করা হয় এবং সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য এর একটি কপি পাঠানো হয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদে বর্জ্য অপসারণে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি। গতকাল এ সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী জানান, ‘বিগত তিন বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারো ঈদের দিন বিকাল ৪ টার মধ্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে কর্পোরেশন।’

সভায় জানানো হয়, এবারের কোরবানির ঈদে প্রায় ৭ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সাথে দৈনিক সংগৃহীত আরো ২ হাজার টন নিয়মিত বর্জ্যও অপসারণ করা হবে। গতবছর অপসারণ করা হয়েছিল ৬ হাজার ৫শ টন। তছাড়া পশু জবাইয়ের স্থান জীবানু ও দুর্গগন্ধমুক্ত রাখতে সরবরাহ করা হবে ২ টন ব্লিচিং পাউডার।

সভায় চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, উল্লেখ্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবার ৪টি জোনে বিভক্ত হয়ে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করবে। আর এ কাজের জন্য কর্পোরেশন ৫ হাজার জন শ্রমিক, ৩৫০টি গাড়ি, পশু জবাইকৃত স্থানে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর ব্যবস্থা করেছে। এর মধ্যে সরু রাস্তা ও গলি থেকে বর্জ্য অপসারণের জন্য টমটম, হুইল ভেরু ও বর্জ্য অপসারণ কাজ তদারকিতে নিয়োজিত পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারদের জন্য সিএনজিচালিত ট্যাঙির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বর্জ্য অপসারণে নগরবাসী, সকল ওয়ার্ড কাউন্সিলর, কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন, প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকর্মচারীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি এবারো অন্যান্য বারের মত বর্জ্য অপসারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সাফল্য ধরে রাখতে পারলে পরিচ্ছন্ন বিভাগের দায়িত্বরত শ্রমিকসেবকদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান।

সভায় জানানো হয়, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকাগুলোয় বিজ্ঞাপন প্রচার, প্রতিটি ওয়ার্ডের মসজিদগুলোতে গত শুক্রবার জুমার খুতবায় ইমাম সাহেবের মাধ্যমে প্রচার, হ্যান্ড বিল ও লিফলেট বিলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এবারো বর্জ্য অপসারণে কোন ওয়ার্ডে যত ট্রিপ গাড়ি দেওয়া প্রয়োজন তত ট্রিপ দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এ জন্য দামপাড়াস্থ চসিক কার্যালয়ে ১টি কন্ট্রোলরুম খোলা সহ চসিকের প্রকৌশল বিভাগের যান্ত্রিক শাখা পরিবহন পুলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণ বর্জ্য অপসারণে তাদের মতামত, লোকবল ও গাড়ির চাহিদা ও পরিকল্পনার কথা সভায় তুলে ধরেন। ৪১টি ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজাররা বর্জ্য অপসারণে তাদের কাজের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ওয়াকিটকি, গাড়ি, টমটম গাড়ি, বেলছা, ঝাড়ু, হুইল ভেরু’র চাহিদার কথা উল্লেখ করে তা সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকর্মচারীদের কর্পোরেশনের সামর্থ্যের মধ্যে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

এর আগে গত ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত চসিকের সাধাণে সভায় জানানো হয়েছিল, এবার কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য নগরীতে ৩৪১ টি স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে চসিক। নির্ধারিত স্থানগুলো ছাড়া অন্য কোথাও উন্মুক্ত স্থান বা সড়কে পশু জবাই করা যাবে না। তবে কোন কোরবানি দাতা চাইলে তার বাড়ি বা বাসার আঙিনায় পশু কোরবানি দিতে পারবেন। চসিকের নির্ধারিত পশু কোরবানির স্থানগুলোতে পানির সরবরাহ, সেবাপ্রাপ্তির বসার স্থান, তাবু টাঙানো এবং ব্লিচিং পাউডারের ব্যবস্থা রাখা হবে। সাধারণ সভায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির দিন দ্রুত বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে চসিকের পাঁচ হাজার পরিচ্ছন্ন কর্মীর ছুটি বাতিল করা হবে। কোরবানির বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি ওইদিন ডোর টু ডোর ময়লা অপসারণ কার্যক্রমও চলমান থাকবে।

x