বরেণ্য সুরকার-গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই

আজাদী অনলাইন

মঙ্গলবার , ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ at ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
1174

একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, বরেণ্য সুরকার, গীতিকার, সংগীত পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই।

আজ মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আফতাবনগরের বাসায় হার্ট অ্যাটাক হলে বুলবুলকে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান গীতিকার কবির বকুল।

বুলবুলের রেকর্ডিস্ট রোজন বলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে স্যার আমাকে ফোন করে অসুস্থতাবোধের বিষয়টি জানান এবং তার বাসায় যেতে বলেন। আমি ১৫ মিনিটের মধ্যে বাসায় গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

একুশে পদক পাওয়া এই গানের মানুষটির বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন।

দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে তিনশয়ের বেশি চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করে গেছেন তিনি। ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’র মতো দেশাত্মবোধক গানে তার দেয়া সুর বাংলাদেশের মানুষের বুকে চিরদিন বাজবে।

হার্টে ব্লক ধরা পড়ায় গত বছর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তার অস্ত্রোপচারও করা হয়েছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা শেষ কথা জানিয়ে দেয়ার পর মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বুলবুলের মরদেহ নিয়ে যান আফতাবনগরের বাসায়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এই গীতিকার-সুরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ জানান, বুলবুলের মরদেহ মঙ্গলবার বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। বুধবার বেলা ১১টায় তার কফিন নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবদনের আগে এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি জানানো হবে রাষ্ট্রীয় সম্মান।

জোটের সাবেক সভাপতি নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘জানাজা বা দাফনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন বুলবুল। বিডিনিউজ, বাংলানিউজ

x