বরিশাল কলোনি থেকে এবার গ্রেপ্তার ২ নারী মাদক কারবারি

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ২৬ মে, ২০১৮ at ৫:২২ পূর্বাহ্ণ
942

নগরীর মাদকের হাট খ্যাত ৬০০ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলেনপারুল বেগম (৪৩) ও জহুরা বেগম (৫৬)। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের সীমানা প্রাচীরের সঙ্গে লাগোয়া আইস ফ্যাক্টরি রোডের বরিশাল কলোনি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সদরঘাট থানার ওসি নেজাম উদ্দিন আজাদীকে জানান, বরিশাল কলোনির মাদক ব্যবসা যে কোন উপায়ে বন্ধে বদ্ধপরিকর পুলিশ। আমাদের অভিযানের পূর্বে যারা মাদক ব্যবসা করতো তারা পালিয়েছে। নতুন করে শুক্কুর, ল্যাঙ্গা লোকমান, ল্যাঙ্গা শাহজাহানসহ কয়েকজন জোটবদ্ধ হয়ে মাদকের আখড়া পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবারের অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদক ল্যাঙ্গা লোকমানের। পারুল লোকমানের হয়ে ব্যবসা চালানোর দায়িত্ব নিয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ হয়। আমরা আবারো মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে এই ম্যাসেজ দিতে চাই যে, অতীতে কী হয়েছে আমাদের জানার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা আর কোন মাদকের হাট বসাতে দেব না। লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার চর রুহুতি এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের স্ত্রী পারুল বেগম। অন্যদিকে জহুরা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার মানিক মিয়ার বাড়ির আবুল হোসেনের স্ত্রী।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এসএম মোস্তাইন হোসাইনের নেতৃত্বে সদরঘাট থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আবদুর রউফ, সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিনসহ অর্ধশতাধিক পুলিশ অংশ নেয়। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোররাত ৩টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে।

পুলিশের তথ্য মতে পারুল বরিশাল কলোনিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা মাদক ব্যবসায়ী ল্যাঙ্গা লোকমানের কলোনিতে ভাড়া থাকে। তার ভাড়া ঘরের পাশে ড্রেনের ভেতর থেকে বস্তাভর্তি সাড়ে ৬০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। পারুল বরিশাল কলোনিতে ‘ভাবী’ নামে পরিচিত। বিভিন্ন স্পটের মধ্যে একটি ‘পারুল ভাবীর গিরা’ নামে পরিচিত।

গত ১৭ মে র‌্যাবের বন্দুকযুদ্ধে বরিশাল কলোনিতে দুজন নিহত হওয়ার পর ইউসুফ, সালামত, নাসিরের লোকজন এলাকা ছাড়া হয়ে গেলে সে ফারুকের ভাই শুক্কুরের পক্ষ নেয়। এরপর পারুল সটকে পরে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে পারুল পুনরায় ওই এলাকায় এসেছে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়।

ওসি নেজাম আরো জানান, পারুল তার মাদক ব্যবসায় ৩০ থেকে ৪০ জন গরিব মহিলা ও ২০ থেকে ২৫ জন শিশুকিশোরকে ব্যবহার করে। মাদক বেচাকেনা, তথ্যদানের কাজে তাদের ব্যবহার করার জন্য সে জনপ্রতি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দেয়। গত বুধবারও সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এর আগেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বরিশাল কলোনির বিভিন্ন মাদক স্পট উচ্ছেদ করলেও পুনরায় সেখানে ঘাঁটি গাড়ে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীরা। বৃহস্পতিবার রাতে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ লোকমান, শুক্কুর, রানাসহ ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছে বলে জানান সরদঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন।

x