বরকলে বন্যায় বৃদ্ধের মৃত্যু

ভারী বর্ষণ

রাঙামাটি প্রতিনিধি

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ
62

ভারী বর্ষণে রাঙামাটির বরকল উপজেলায় পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল। ফলে ওখানকার বাসিন্দারা সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সপ্তাহব্যাপী ভারী বর্ষণে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের সাপছড়ি, শালবাগান ও কলাবাগানসহ বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ওইসব স্থানে মাটি ধসে পড়ছে রাস্তার উপর। এতে তৈরি হয়েছে ঝুঁকি। ফলে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। অন্যদিকে গত বুধবার সন্ধ্যায় বরকলের ভূষণছড়া ইউনিয়নের অজ্যাংছড়ি এলাকায় পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে বিজুরাম চাকমা (৬৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামায় ছড়ার পাশে খুঁটিতে বাঁধা গরু বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন বিজুরাম চাকমা। তখন পানির তোড়ে ভেসে যান তিনি। তবে ঘণ্টা দুয়েক পর ভাটি এলাকার পাহাড়ি ছড়ায় পাথরে আটকা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে টানা বর্ষণে হুমকির মুখে পড়েছে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক ব্যবস্থা। টানা ভারি বৃষ্টিপাতে রাঙামাটি চট্টগ্রাম সড়কের কলাবাগান এলাকায় সড়কের একটি অংশ গত বুধবার ভেঙে যায়। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে সকাল থেকে টানা বর্ষণে রাঙামাটি খাগড়াছড়ি সড়কের চৌদ্দ মাইল ও বাইশ মাইল এলাকায় রাস্তার এক পাশের মাটি ধসে যায়। এতে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে রাঙামাটি খাগড়াছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শংকর চন্দ্র পাল বলেন, ঘাগড়ায় সড়কের ভাঙা অংশের নিচে বাঁধ দিয়ে বল্লি প্যালাসাইডিং করছি। কিন্তু প্রবল বর্ষণ ও পানির স্রোতের কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু বলেন, কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে উজান থেকে কাচালং নদী দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামছে। এতে প্লাবিত হয়েছে উপজেলা সদরসহ নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা। পানিতে তলিয়ে গেছে পাঁচ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট। প্লাবিত হয়েছে উপজেলা পরিষদ ভবনও। সদরসহ উপজেলায় ২৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুর্গতরা এসব আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান নিচ্ছেন। এদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। প্রত্যেক পরিবারকে চাল, ডাল, লবণ, ভোজ্য তেল, চিড়া দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা করছে। ধসে যাওয়া রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে।

x