বন উজাড় করে বসতবাড়ি নির্মাণ করার শংকা

রুমায় অনুপ্রবেশকারী ২০৩ বৌদ্ধ শরণার্থী

বান্দরবান প্রতিনিধি

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
30

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় চেইক্ষ্যং সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে বৌদ্ধ শরণার্থীরা । মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তাদের এই অনুপ্রবেশ। আর খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন অনুপ্রবেশকৃত শরণার্থীরা। স্থানীয় গরিব কৃষকেরা তাদের খাদ্য হিসেবে দিচ্ছেন ভাত, পাহাড়ি আলু, আর বাকল। আর তা খেয়েই জীবন ধারণ করছেন অনুপ্রবেশকৃত ২০৩ বৌদ্ধ শরণার্থী । কিন্তু দুর্গম চেইক্ষ্যং পাড়ার স্থানীয় আদিবাসীরা অনেকটা জুম চাষের উপরেই নির্ভরশীল। আর জুম চাষের ভালো ফলন না হলেই চার থেকে পাঁচ মাসের খাদ্য সংকট দেখা দেয় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে । তাই বৌদ্ধ শরণার্থীদের যদি খাদ্য সরবরাহ না করা হয় তাহলে ওই এলাকায় দেখা দিবে বড় ধরনের খাদ্য সংকট এমনটাই জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ।
নতুন শরণার্থী প্রবেশে সমস্যার কথা বলতে গিয়ে রুমার রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার ভান লং বলেন, আমরা অবশ্যই সমস্যায় পড়বো, তারা যদি এখানে থাকে তাহলে বন উজাড় করে বসতবাড়ি করলে সেখানে খাদ্য সংকটও দেখা দিতে পারে।
মিয়ানমারের খামংওয়া পাড়া থেকে তিন সন্তান নিয়ে অনুপ্রবেশ করা রেদাসে রাইখাইন (৩৫) বলেন, এখন পাড়াবাসী খাদ্য সরবরাহ করছে, কিছুদিন পর তারা খাদ্য দিতে পারবেনা, সেটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন আছি। এ বিষয়ে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন, রুমার চেইক্ষ্যংপাড়া সীমান্তে বিজিবি ও সেনা সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। তারা ফিরলেই আমরা শরণার্থীদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, মিয়ানমারের শান, কাচিন ও আরাকানের বিভিন্ন স্থানে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘাত চলছে। প্রধান সংঘর্ষস্থল হলো শান রাজ্যের পালিতওয়া এলাকা। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রাণ বাঁচানোর জন্য মিয়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ২০৩ শরণার্থীকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে আরাকান আর্মি। সংঘর্ষস্থল থেকে প্রায় তিন দিন হেঁটে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় আশ্রয় নেয় বৌদ্ধ শরণার্থীরা।

x