বন্দরে ‘অ্যালার্ট-৩’ জারি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

জাহাজজট মুক্ত করার উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ার আশংকা

হাসান আকবর

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:০২ পূর্বাহ্ণ
116

আবহাওয়া অধিদফতর চট্টগ্রাম বন্দরকে ৬ নম্বর সংকেত দেখাতে বলেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংকেত পাওয়ার সাথে সাথে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণভাবে ‘অ্যালার্ট-৩’ জারি করেছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের সব জেটিতে খোলা পণ্যবাহী এবং কন্টেনার জাহাজগুলোতে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বন্দরের মূল্যবান সব ইকুইপমেন্ট। বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজগুলোকে জেটিতে আনার সিডিউল বাতিল করে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ সব ধরনের জাহাজের কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। লাইটারেজ জাহাজগুলোকে কার্যক্রম বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বহির্নোঙরে অবস্থানরত বড় বড় মাদার ভ্যাসেলগুলোকে ক্রমান্বয়ে আরো গভীর সাগরে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এসব জাহাজের ইঞ্জিন সার্বক্ষণিক চালু রাখারও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তবে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণায় চট্টগ্রাম বন্দরকে জাহাজজট মুক্ত করার উদ্যোগ আবারো মাঠে মারা পড়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজজট পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আজ সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগ পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে করে আজ সকালে বন্দরের জেটিতে অবস্থানকারী সব জাহাজকে গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেয়া হবে। আজ সকাল থেকে বন্দরের কী গ্যান্ট্রি ক্রেন, রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ মূল্যবান হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টগুলোকে সর্বোচ্চ নিরাপদ স্থানে রাখা হবে। ঝড়ের বাতাসের তোড়ে যেন এসব ইকুইপমেন্টের কোন ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের
চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ এবং বন্দরের বোর্ড সদস্যসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ করছেন। গতকাল সরকারি ছুটির দিনেও বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা অফিস করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। গতকাল বিকেলে বন্দর ভবনে অনুষ্ঠিত সভা থেকে প্রথমে এলার্ট-টু ঘোষণা করা হলেও রাতেই এলার্ট-থ্রি ঘোষণা করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর ৫-৭ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখালে অ্যালার্ট-৩ জারি হয়ে যায়। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। যা জাহাজজট পরিস্থিতির অবনতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বন্দরের অভ্যন্তরে কন্টেনার জটের পাশাপাশি বহির্নোঙরে জাহাজজট তৈরি হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দিনের জাহাজ দিনে বার্থিং দেয়ার লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছিতে অবস্থান করছিল। মাত্র এক দুইদিন অবস্থান করেই বার্থিং পাচ্ছিল জাহাজগুলো। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ দুই দিন আগে দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, আগামী এক দুই সপ্তাহের মধ্যে বন্দর সব ধরনের জটমুক্ত হয়ে যাবে। দিনে দিনে জাহাজ বার্থিং পাবে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বন্দর কর্তৃপক্ষের সেই আশাবাদ ভন্ডুল করে দিচ্ছে। বুলবুল’ মোকাবেলার প্রস্তুতির জন্য সব ধরনের কাজ বন্ধ করে দেয়ায় জাহাজজট পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটবে বলেও আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। আগেও বন্দর কর্তৃপক্ষ লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি থেকে ঘূর্ণিঝড়ের কারনে ছিটকে পড়েছে। এক একটি ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসার প্রেক্ষিতে তিন চারদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায় বন্দর। সবকিছু ঠিকঠাক করে আবারো পুরোদমে কাজ শুরু করতে কখনো কখনো এক সপ্তাহও লেগে যায়। আর ওই এক সপ্তাহের ধকল সামলাতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে বহুদিন অপেক্ষা করতে হয়। বারবার ঘূর্ণিঝড়ই বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি পুরোপুরি গ্রহন করা হয়েছে। আমাদের কিছু অসুবিধা হলেও কোন ধরনের ঝুঁকি নিতে পারছি না। তিনি ঘূর্ণিঝড়কে প্রাকৃতিক একটি ব্যাপার বলে উল্লেখ করে বলেন, ঝড় মোকাবেলায় কাজ বন্ধ রাখার ফলে কিছু সমস্যা হবে। তবে পরবর্তীতে প্রতিটি সেকেন্ড যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করে আগামী কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গতকাল বন্দরের বহির্নোঙরে ভিতরে আসার মতো মাত্র ১৬টি জাহাজ ছিল। এক দুইদিনের ব্যবধানে এই সংখ্যা অন্তত চল্লিশটিতে গিয়ে ঠেকবে বলেও সূত্র মন্তব্য করেছে।

x