বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও শিক্ষাবিদদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন

চবিতে স্মারক বক্তৃতায় মুনতাসীর মামুন

চবি প্রতিনিধি

সোমবার , ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ at ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ
18

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন, বাঙালিদেরও স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়ন করেছেন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তিনি শিক্ষাকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে নিরক্ষরতা দূরীকরণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কৃষি থেকে শুরু করে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনে অন্তর্ভুক্তকরণসহ শিক্ষায় বৈচিত্রকরণের কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা এবং শিক্ষাবিদদের অত্যন্ত শ্রদ্ধা এবং সম্মান করতেন, এ কারণে ’৭৩ অধ্যাদেশ এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পূর্ণ স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানরূপে বাস্তব স্বীকৃতি প্রদান করেছিলেন যাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব ধ্যান-ধারণা ও চিন্তা-চেতনা নিয়ে আলোকিত মানবসম্পদ উৎপাদন করতে ব্রতী হয়। বর্তমান সময়ে অধ্যাদেশটি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হলে সকল প্রকার নেতিবাচক কর্মকাণ্ড দূর হবে বলেও অভিমত জানান এ অধ্যাপক। তিনি অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে শিক্ষক সমিতি আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক দর্শন: বর্তমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতায় সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নাম নয়, একটি প্রতিষ্ঠান। এই মহান নেতা শৈশবকাল হতে মা, মাটি ও মানুষকে নিয়ে ভাবতেন। তাইতো এদেশের মানুষকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য ১৯৭১ সালে তাঁরই আহ্বানে এবং সুযোগ্য নেতৃত্বে বীর বাঙালি পাকিস্তানি হায়েনাদের সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে মুক্ত করে বিশ্ব মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা করেছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, জাতির জনকের স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত, গণতান্ত্রিক, শোষণমুক্ত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ একটি মানবিক বাংলাদেশ। এই স্বপ্ন পূরণে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশকে। তাইতো বর্তমান বাংলাদেশ শিক্ষা-সংস্কৃতি, চিকিৎসা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সূচকে আজ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে পিছনে ফেলে অদম্য-দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে।
চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন। এছাড়া ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ। এর আগে উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুনকে চবি মনোগ্রাম খচিত সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।

x