বকুলফুল বকুলফুল

মাহবুব পলাশ : মীরসরাই

সোমবার , ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ
23

আমাদের দেশের নানান ফুলের বৈচিত্রের মধ্যে বকুল ফুল অন্যতম। আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ বকুল ফুলের জন্যে পরিচিত। আবার দেশের গ্রামীণ জনপদের অন্যতম এই মীরসরাই উপজেলা ও বিলুপ্তির পথে এই বকুল ফুল আজো সকলের কাছে অতি সুপরিচিত।
বকুলের অন্যান্য ব্যবহার বাংলায় তেমন নেই। এটি একটি অতি পরিচিত ফুল। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় কমবেশী এই গাছ পাওয়া যায়। বাগানে ছায়া পাওয়ার জন্য সাধারণত বকুল গাছ লাগানো হয়ে থাকে। একসময় গ্রামীণ ঐতিহ্য ও প্রিয় ফুলের প্রতি ভালবাসা ও আবেগের দরুনও এই ফুলগাছটি লাগিয়ে থাকেন। গ্রামীণ লোককথায় আছে এই ফুলগাছটি সকলের বাড়িতে বা সকল স্থানে দীর্ঘায়ু হয়না। ঐতিহ্যমন্ডিত অনেক বাড়িতে এখনো এই ফুল গাছ ঐতিহ্যের চিহৃ হিসেবে দেখা যায়। মীরসরাই তালবাড়িয়া জমিদার বাড়ি, পরাগলপুর, মঘাদিয়া জমিদার বাড়ি, শেখের তালুক খাঁদের প্রাচীন স্থাপত্য স্থান সহ অনেক প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থানে এই বকুল ফুল গাছ আজো প্রাচীনতার ছোঁয়া নিয়ে আছে।
ভালবাসার এক অনন্য নিদর্শন মাধ্যম এই ফুলটি। প্রিয়জনকে বকুল ফুলের মালা উপহার দেয়া এখনো বাংলার হাজার বছরের লোক ঐতিহ্য। এটি মাঝারি আকারের গাছ এবং এর পাতাগুলো হয় ঢেউ খেলানো। ফুলগুলো খুব ছোট হয়। বড় জোড় ১ সেঃ মিঃ। ফুলগুলো দেখতে ছোট ছোট তারার মতো। বকুল ফুলের সুবাসে থাকে মিষ্টি গন্ধ। ফুল শুকিয়ে গেলেও এর সুবাস অনেক দিন পর্যন্ত থাকে।
বকুল ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম গরসঁংড়ঢ়ং বষবহমর। এটি গরহধংড়ঢ়ং প্রজাতির একটি ফুল। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর তীরবর্তী এলাকার ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, বার্মা, ইন্দো-চীন, থাইল্যান্ড, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ এলাকা জুড়ে এই গাছ দেখতে পাওয়া যায়। তবে, মালয়েশিয়া, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, নিউ ক্যালিডোনিয়া (ফ্রান্স), ভানুয়াটু, এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়াতে এই গাছ চাষ করা হয়। বাংলায় বকুল ফুলের জন্যে পরিচিত এই গাছ। বকুলের অন্যান্য ব্যবহার বাংলায় তেমন নেই। এটি একটি অতি পরিচিত ফুল।
বকুল ফুল, ফল, পাকা ফল, পাতা, গাছের ছাল, কান্ড, কাঠ সব কিছুই কাজে লাগে। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে এর ব্যবহার রয়েছে। বকুল ফুল আকারে খুব ছোট ছোট হয়। আকারে বড় জোর ১ সেঃ মিঃ। দেখতে ছোট ছোট তারার মতো ফুলগুলো যখন ফোটে তখন গাছের চেহারা হয অন্যরকম। এবং মাটি যখন ঝরে পড়ে তার দৃশ্য নয়নাভিরাম।
বকুল ছোট তারার মত হলুদাভ সাদা বা ক্রীম রঙের হয়। এই ফুল রাত্রে ফোটে এবং সারাদিন ধরে টুপটাপ ঝরতে থাকে। ভারি সুগন্ধী এই বকুল। শুকনো বকুল ফুলের সুগন্ধটা অনেকদিন থাকে তাই এই ফুলের মালা অনেকদিন ঘরে রেখে দেয়া যায়। ফুলে থাকে উদ্বায়ী তেল।
ভারতে এই ফুল দিয়ে তৈরি তরল, সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহারে প্রচলন রয়েছে। ফুল দিয়ে মালা গাথার প্রচলন অনেক পুরনো দিন থেকে চলে আসছে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন এলাকার নারীরা এই ফুলের মালা চুলে পরে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্যে। লোকগাঁথা ক্রমে বকুলের গানের চরনে ‘বকুল ডালের আগায় জ্যোৎস্না/ যেন ফুলের স্বপ্ন জাগায় জ্যোৎস্না/ কার গোপন কানাকানি পূর্ণশশী, ঐ ঐ ঐ দিল আনি।’ প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথ লিখছেন :’ওগো শোনো কে বাজায়/ বনফুলের মালার গন্ধ বাঁশির তানে মিশে যায়’ রবীন্দ্রনাথের গানে কুঞ্জবনের বিবরণ যেমন পাওয়া যায়, তেমনি পাওয়া যাবে আমাদের হাজার বিচ্ছেদি গানেও । নজরুলের গানে প্রায় পাঁচশ’টি ফুলের কথা আছে, বকুলের কথাই সবচেয়ে বেশী উল্লেখিত সেখানে ও।

x